Kaler Alo
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
২০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

সাহিত্যা ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

শৈশবেই বইয়ের প্রতি ভালোবাসা গড়ে তোলার উপায়

সাহিত্যা ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

শৈশবেই বইয়ের প্রতি ভালোবাসা গড়ে তোলার উপায়

শৈশব মানেই কৌতূহল, কল্পনা আর নতুন কিছু জানার আনন্দ। একসময় এই আনন্দের বড় অংশ জুড়ে থাকত রূপকথার বই, ছড়া কিংবা গল্পের চরিত্র। এখন সেই জায়গার অনেকটাই দখল করে নিয়েছে স্মার্টফোনের পর্দা। কার্টুন, গেম ও ছোট ছোট ভিডিওর ভিড়ে অনেক শিশুর কাছে বই হয়ে উঠছে দূরের কোনো অভ্যাস।

অথচ বই শুধু অবসর কাটানোর সঙ্গী নয়; এটি শিশুর কল্পনার জগৎকে প্রসারিত করে, ভাষার সঙ্গে পরিচয় ঘটায় এবং ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেয়। ছোটবেলা থেকেই বইয়ের সঙ্গে আনন্দময় সম্পর্ক তৈরি হলে পড়ার অভ্যাস ধীরে ধীরে শিশুর জীবনের অংশ হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন অভিভাবকের সময়, সচেতনতা এবং শিশুর আগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা।

বই পড়া হোক একসঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দ
শিশুকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলার সবচেয়ে সহজ উপায় হতে পারে তার পাশে বসে বই পড়া। অভিভাবক নিজে বই হাতে নিলে শিশুর মধ্যেও বইয়ের প্রতি কৌতূহল তৈরি হয়। বয়স অনুযায়ী ছড়া, রূপকথা, প্রাণী কিংবা মজার ঘটনা নিয়ে লেখা বই দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।

বই পড়ে শোনানোর সময় ছবিগুলো দেখানো, পৃষ্ঠা উল্টানোর সুযোগ দেওয়া কিংবা গল্পের চরিত্র নিয়ে ছোট ছোট প্রশ্ন করা যেতে পারে। এতে শিশু গল্পের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়। একই সঙ্গে বই পড়ার সময়টি হয়ে ওঠে অভিভাবক ও শিশুর একান্ত আনন্দময় মুহূর্ত।

গল্পে থাকুক কল্পনার রং
শিশুর কাছে গল্পকে আকর্ষণীয় করে তুলতে গল্প বলার ধরনে বৈচিত্র্য আনা যায়। চরিত্র অনুযায়ী কণ্ঠস্বর বদলে বলা, পুতুল বা পরিচিত খেলনা ব্যবহার করা কিংবা গল্পের কোনো দৃশ্য অভিনয় করে দেখানো যেতে পারে।

গল্পের মাঝখানে থেমে শিশুকে জিজ্ঞেস করা যায়—এরপর কী হতে পারে? সে নিজের কল্পনা থেকে গল্পের নতুন মোড় তৈরি করতে পারে। এতে বই পড়া একঘেয়ে কাজ না হয়ে কল্পনা ও আনন্দের অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।

খেলার ছলে অক্ষরের সঙ্গে পরিচয়
শিশুর শেখার পথে খেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্ণমালার ধাঁধা, অক্ষর মেলানোর খেলা কিংবা চুম্বক দিয়ে তৈরি অক্ষর ব্যবহার করে বর্ণের সঙ্গে পরিচয় করানো যেতে পারে। কোনো অক্ষর দিয়ে কী শব্দ তৈরি হয়, তা পরিচিত উদাহরণের মাধ্যমে দেখানো যায়।

তবে শিশুর বয়স, মনোযোগ ও আগ্রহের সঙ্গে মিল রেখেই এসব কার্যক্রম সাজানো জরুরি। শেখার জন্য অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে খেলার মধ্য দিয়ে পড়ার প্রাথমিক দক্ষতা গড়ে তোলার চেষ্টা করা ভালো।

গল্প শেষে খুলুক কথার জানালা
বই পড়া শেষ হওয়ার পর গল্পটি নিয়ে শিশুর সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। কোন চরিত্রটি তার ভালো লেগেছে, কেন ভালো লেগেছে কিংবা গল্পের শেষটা তার কাছে কেমন মনে হয়েছে—এমন প্রশ্ন শিশুকে নিজের ভাবনা প্রকাশের সুযোগ দেয়।

শিশুর উত্তর প্রত্যাশামতো না হলেও শুরুতেই ভুল ধরিয়ে না দিয়ে মন দিয়ে তার কথা শোনা জরুরি। নিজের মতো করে গল্প ব্যাখ্যা করতে পারলে সে বইয়ের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে পারে। পাশাপাশি নতুন শব্দ শেখা, ভাষায় ভাব প্রকাশ এবং গল্প বোঝার দক্ষতাও চর্চা হয়।

ঘরেই তৈরি হোক ছোট্ট পাঠকোণ
বই পড়ার জন্য বাড়িতে একটি নির্দিষ্ট জায়গা রাখা যেতে পারে। আলাদা ঘর না থাকলেও ঘরের একটি ছোট কোণেই তৈরি করা সম্ভব শিশুর পড়ার জায়গা। সেখানে পর্যাপ্ত আলো, আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা এবং বয়স উপযোগী বই রাখা যেতে পারে।

বইয়ের তাক শিশুর নাগালের মধ্যে থাকলে সে নিজের পছন্দমতো বই বেছে নিতে পারবে। বইগুলো এমনভাবে সাজানো ভালো, যাতে প্রচ্ছদ ও ছবিগুলো সহজে চোখে পড়ে। নিজের পছন্দে বই হাতে নেওয়ার সুযোগ শিশুর স্বাধীনতা ও আগ্রহ—দুটিই বাড়াতে পারে।

ছবির বই হোক কল্পনার প্রথম সিঁড়ি
যেসব শিশু এখনো সাবলীলভাবে পড়তে পারে না, তাদের জন্য ছবিযুক্ত বই হতে পারে দারুণ শুরু। ছবির মাধ্যমে তারা চরিত্র, ঘটনা ও পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পায়। অভিভাবক ছবিতে কী ঘটছে, তা নিয়ে শিশুর সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

একটি ছবি দেখিয়ে শিশুকে নিজের মতো করে গল্প তৈরি করতে বলাও যায়। এতে তার কল্পনাশক্তি ও ভাষা ব্যবহারের চর্চা হয়। ধীরে ধীরে ছবির বইয়ের পাশাপাশি ছোট বাক্য ও সহজ গল্পের বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

বড়দের অভ্যাসেই শিশুর অনুপ্রেরণা
শিশুরা বড়দের আচরণ দেখে অনেক কিছু শেখে। তাই অভিভাবকেরা নিজেরা বই পড়লে শিশুর মধ্যেও সেই অভ্যাস গড়ে ওঠার সুযোগ বাড়ে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু সময় পরিবারের সবাই মিলে বই পড়ার জন্য রাখা যেতে পারে।

স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বড়দের সচেতন ভূমিকা জরুরি। শিশুকে ফোন থেকে দূরে থাকতে বলার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও অপ্রয়োজনীয় ফোন ব্যবহার কমালে সে বাস্তব উদাহরণ পাবে। বই পড়ার সময় ফোন সরিয়ে রেখে শিশুর সঙ্গে গল্পে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে।

চাপ নয়, উৎসাহেই গড়ে উঠুক অভ্যাস
শিশুর বই পড়ার অভ্যাস এক দিনে তৈরি হয় না। কখনো সে বইয়ে আগ্রহ দেখাবে, কখনো অন্য খেলায় ব্যস্ত হতে চাইবে। তাই জোর না করে তার পছন্দ, বয়স ও মনোযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন।

শৈশবে বইয়ের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্ক বড় হওয়ার পরও থেকে যেতে পারে। বইয়ের পাতায় শিশুর সামনে খুলে যায় অচেনা পৃথিবী, নতুন ভাবনা আর অসংখ্য সম্ভাবনার দরজা। সেই দরজায় প্রথম কড়া নাড়ার কাজটি করতে পারেন অভিভাবকেরাই—একটি গল্প, কয়েকটি ছবি কিংবা প্রতিদিনের সামান্য কিছু সময় দিয়ে।

বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তাই কেবল পড়ার অভ্যাস নয়; শিশুর কল্পনা, চিন্তা ও অনুভবের জগৎকে সমৃদ্ধ করার এক সুন্দর সূচনা।

কালের আলো/এসএ/জেএন

Link copied!