Kaler Alo
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

পাঁচ বছরে ১৩৭ কোটি টাকা লোকসান বিআইডব্লিউটিসির

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

পাঁচ বছরে ১৩৭ কোটি টাকা লোকসান বিআইডব্লিউটিসির

পদ্মা সেতু চালুর পর টানা পাঁচ বছর ধরে লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত সংস্থাটির মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৩৭ কোটি টাকার বেশি। ফেরি চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাওয়া-কাঁঠালবাড়ী রুট বন্ধ হয়ে যাওয়া, উপকূলীয় যাত্রীবাহী সার্ভিসে লোকসান এবং ফেরি রুটে নাব্যতা-সংকটকে আর্থিক ক্ষতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। গত রোববার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

পাঁচ বছরে লোকসান ১৩৭ কোটি টাকার বেশি
বিআইডব্লিউটিসির দেওয়া আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে সংস্থাটির আয় ছিল ৪৩৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। বিপরীতে ব্যয় হয় ৪৪০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ওই বছর লোকসান হয় ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় কমে দাঁড়ায় ৩৬০ কোটি টাকা। ব্যয় হয় ৪০০ কোটি ১০ লাখ টাকা। ফলে লোকসান হয় ৩৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩২৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা আয় এবং ৩৬৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ের বিপরীতে লোকসান দাঁড়ায় ৪২ কোটি ২০ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটির আয় ছিল ৩১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ব্যয় ৩৪৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এ বছর লোকসান হয় ২৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অনিরীক্ষিত হিসাবে আয় ৩২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং ব্যয় ৩৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এতে লোকসান হয়েছে ২৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

মাওয়া-কাঁঠালবাড়ী রুট বন্ধে কমেছে আয়
বিআইডব্লিউটিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু চালুর পর ২০২২ সালের ২৫ জুন থেকে মাওয়া-কাঁঠালবাড়ী ফেরি সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। একসময় এই রুটে বিপুলসংখ্যক যানবাহন পারাপার হতো। রুটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংস্থাটি আয়ের বড় একটি উৎস হারিয়েছে। প্রতিবেদনে পদ্মা সেতু চালুর পর সংস্থাটির অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরে বিভিন্ন ফেরি রুটে ১ কোটি ১৬ লাখের বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুট থেকে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৮৮১ কোটি ১৩ লাখ টাকা আয় হয়েছে। এ ছাড়া আরিচা-কাজিরহাট রুট থেকে ১৪৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, চাঁদপুর-শরীয়তপুর রুট থেকে ১৫৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা, ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুট থেকে ১০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা এবং লাহারহাট-ভেদুরিয়া রুট থেকে ১২৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা আয় হয়েছে।

অন্যদিকে, মাওয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে পাঁচ বছরে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৬২০টি যানবাহন পারাপার করে ৩৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা আয় হয়েছিল। তবে ২০২২ সালের ২৫ জুন থেকে এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

নতুন রুট চালু করে আয় বাড়ানোর চেষ্টা
লোকসান কাটিয়ে উঠতে নতুন রুট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি। গত ৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে ভোলার ইলিশা পর্যন্ত ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর পর্যন্ত এ রুটে ১ হাজার ৩২০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে আয় হয়েছে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৩৭ হাজার ৯০০ টাকা।

সরকারের কাছে ভর্তুকি পাওনা ৩৬০ কোটি টাকা
বিআইডব্লিউটিসির আর্থিক সংকটের অন্যতম কারণ উপকূলীয় যাত্রীবাহী সার্ভিসের লোকসান। সংস্থাটির ভাষ্য, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ সচল রাখতে জনস্বার্থে লোকসান দিয়ে এসব সার্ভিস পরিচালনা করতে হয়। প্রকৃত লোকসানের বিপরীতে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও সরকার প্রতিবছর থোক বরাদ্দ হিসেবে মাত্র ৫০ লাখ টাকা দেয়। ফলে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সরকারের কাছে সংস্থাটির ভর্তুকি পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩৬০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

একই সময়ে সরকারের কাছে বিআইডব্লিউটিসির ঋণের পরিমাণ ৭১৭ কোটি ৬ লাখ টাকা। এ ঋণের বিপরীতে প্রতিবছর ১৫ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধের দায় (ডিএসএল) হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। গত পাঁচ বছরে এ খাতে ৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে সংস্থাটি। এ অবস্থায় সরকারের কাছে ঋণ ও ভর্তুকি বাবদ পাওনা সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি। পাশাপাশি বার্ষিক ভর্তুকি ৫০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করার প্রস্তাবও দিয়েছে সংস্থাটি। প্রস্তাবটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বিবেচনাধীন রয়েছে।

নাব্যতা-সংকটে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়
সংস্থাটির মতে, ফেরি রুটের নাব্যতা-সংকটও পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। নদীতে নাব্যতা কমে গেলে ফেরিগুলোকে ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়। এতে যাত্রার সময় ও জ্বালানি খরচ—দুটিই বাড়ে। এ সমস্যা সমাধানে ফেরি রুটের ড্রেজিংয়ের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিসির অধীনে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি।

সমুদ্রে বাংলাদেশের ১০৬ পতাকাবাহী জাহাজ
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সমুদ্রগামী বাংলাদেশ পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে ১০৬টি। দেশি-বিদেশি জাহাজে কর্মরত নাবিক ও কর্মকর্তার সংখ্যা ১১ হাজার ৬৪ জন। তাঁদের মধ্যে নাবিক ৪ হাজার ৫৮৮ জন এবং কর্মকর্তা ৬ হাজার ৪৭৬ জন। এ খাত থেকে বার্ষিক রেমিট্যান্স আসে প্রায় ৪ হাজার ৪৫১ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

এদিকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন ফারুক সোমবার রাতে বলেন, বৈঠকে বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে কমিটির সদস্য মো. হাফিজ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

Link copied!