Kaler Alo
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর ৪ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্যমাত্রা:প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর ৪ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্যমাত্রা:প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়ির ছাদে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নিজের বাসায়ও সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে নিজের বাসার উদাহরণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণকে আহ্বান জানানোর আগে নিজেও বাসায় সোলার প্যানেল স্থাপন করেছেন। ইতিমধ্যে বাসায় ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেন। নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে সরকার তা কিনে নেবে। তিনি জানান, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রণোদনাসহ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে এই বিদ্যুৎ কেনার ব্যবস্থা করা হবে।

বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, দেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য আরও ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎসে
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রাথমিকভাবে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করেছে। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কৃষিতে সৌরচালিত সেচ পাম্প চালুর পরিকল্পনা
কৃষিতে উৎপাদন খরচ কমানো এবং পরিবেশ রক্ষায় বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পগুলো পর্যায়ক্রমে সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এতে কৃষি খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে যুক্ত আট হাজারের বেশি নতুন সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানকে গ্রাহকসেবার মান বজায় রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে যত্নবান হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান
দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপ্রয়োজনীয় বাতি, ফ্যান ও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট বন্ধ রেখে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে। বিদ্যুৎ ব্যবহারে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তির প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, সৌরবিদ্যুৎ প্রদর্শনীতে তরুণদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব। চলতি বাজেটে স্টার্টআপের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যাতে অর্থের অভাবে তরুণদের কোনো উদ্ভাবনী ধারণা হারিয়ে না যায়।

এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়ন সহযোগীদেরও শুধু বড় প্রকল্পে নয়, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন তিনি। ‘সূর্যের আলোকে দেশের সম্পদে পরিণত করার’ প্রত্যয় ব্যক্ত করে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

Link copied!