Kaler Alo
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

ঘরের সৌন্দর্য ও সতেজতা বাড়াবে যে ১০ ইনডোর গাছ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

ঘরের সৌন্দর্য ও সতেজতা বাড়াবে যে ১০ ইনডোর গাছ

ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সবুজের ছোঁয়া আনতে ইনডোর গাছের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে অনেকের। বসার ঘর, শোবার ঘর কিংবা বারান্দার এক কোণে কয়েকটি গাছই বদলে দিতে পারে ঘরের পরিবেশ। তবে সৌন্দর্য বাড়ানোর বাইরেও কিছু ইনডোর গাছ ঘরের বাতাসে থাকা নির্দিষ্ট দূষক শোষণ করতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

যদিও সাধারণ ঘরের পরিবেশে শুধু গাছ রাখলেই বাতাস উল্লেখযোগ্যভাবে বিশুদ্ধ হয়—এমন শক্ত প্রমাণ নেই। তাই ঘরের বাতাস ভালো রাখতে গাছের পাশাপাশি জানালা খুলে রাখা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও জরুরি।

সহজে পরিচর্যা করা যায় এবং ঘরের ভেতরে রাখা উপযোগী—এমন ১০টি ইনডোর গাছ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১. স্নেক প্ল্যান্ট
কম আলোতেও টিকে থাকতে পারে স্নেক প্ল্যান্ট। মাদার-ইন-লজ টাং নামেও পরিচিত এই গাছের পাতা লম্বা ও খাড়া। খুব বেশি পানি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিলেই চলে। রাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ ও অক্সিজেন ছাড়ার বৈশিষ্ট্যের কারণে অনেকেই শোবার ঘরে এ গাছ রাখতে পছন্দ করেন।

২. স্পাইডার প্ল্যান্ট
নতুন গাছপ্রেমীদের জন্য স্পাইডার প্ল্যান্ট হতে পারে ভালো পছন্দ। সহজে বেড়ে ওঠা এই গাছের সরু ও বাঁকানো পাতার পাশে ছোট ছোট নতুন চারা জন্মায়। মাঝারি আলোতে ভালো থাকে। নিয়মিত অল্প পানি দিলেই বেড়ে ওঠে। পোষা প্রাণীর জন্যও এটি তুলনামূলক নিরাপদ।

৩. পিস লিলি
সাদা ফুল ও গাঢ় সবুজ পাতার জন্য পিস লিলি বেশ জনপ্রিয়। সরাসরি সূর্যের আলো এড়িয়ে উজ্জ্বল পরোক্ষ আলো এবং আর্দ্র পরিবেশে এ গাছ ভালো জন্মে। মাটির ওপরের অংশ শুকিয়ে এলে পানি দিতে হয়। তবে গাছটির পাতা বা ফুল খেলে পোষা প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে। তাই তাদের নাগালের বাইরে রাখা ভালো।

৪. অ্যালোভেরা
অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী পরিচিত একটি ভেষজ উদ্ভিদ। এর পাতার ভেতরে থাকা জেল ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা হয়। উজ্জ্বল পরোক্ষ আলোতে এ গাছ ভালো থাকে। মাটি শুকিয়ে যাওয়ার পর পানি দিলেই চলে। অতিরিক্ত পানি দিলে শিকড় পচে যেতে পারে। তবে পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখা উচিত।

৫. অ্যারেকা পাম
ঘরের সাজসজ্জায় সবুজের আবহ তৈরি করতে অ্যারেকা পাম বেশ জনপ্রিয়। এর পালকের মতো ছড়ানো পাতা ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়। উজ্জ্বল পরোক্ষ আলোতে এ গাছ ভালো জন্মে। পাশাপাশি আশপাশের বাতাসে আর্দ্রতা বাড়াতেও সহায়তা করতে পারে। বসার ঘরের এক কোণে বড় টবে রাখা যায় এই গাছ।

৬. রাবার প্ল্যান্ট
বড় ও চকচকে পাতার কারণে রাবার প্ল্যান্ট ঘরের সাজে আলাদা সৌন্দর্য যোগ করে। উজ্জ্বল পরোক্ষ আলোতে ভালো জন্মে। মাটি কিছুটা শুকিয়ে এলে পানি দিতে হয়। নিয়মিত পরিচর্যা পেলে গাছটি বেশ বড় হতে পারে। তবে এর কষ ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। পোষা প্রাণীর জন্যও এটি ক্ষতিকর।

৭. বোস্টন ফার্ন
ঘরের আর্দ্র পরিবেশে বোস্টন ফার্ন ভালো জন্মে। ঘন ও নরম পাতার কারণে গাছটি ঘরের সাজে স্নিগ্ধতা আনে। সরাসরি রোদ এড়িয়ে পরোক্ষ আলোতে রাখতে হয়। মাটি সব সময় হালকা আর্দ্র রাখা প্রয়োজন। বাথরুমের মতো আর্দ্র জায়গায় এ গাছ ভালো থাকতে পারে।

৮. ইংলিশ আইভি
ঝুলন্ত টব কিংবা উঁচু তাক সাজাতে ইংলিশ আইভি ব্যবহার করা যায়। এর লতানো ডাল ও সবুজ পাতা ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়। মাঝারি আলো এবং পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত মাটিতে গাছটি ভালো জন্মে। মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিতে হয়। তবে এর পাতা খেলে পোষা প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে।

৯. গোল্ডেন পথোস
হৃদয়াকৃতির পাতা ও লতানো ডালের জন্য গোল্ডেন পথোস বেশ পরিচিত। কম আলোতেও টিকে থাকতে পারে বলে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় রাখা যায়। খুব বেশি পানি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ঝুলন্ত টব কিংবা তাকের ওপর রাখলে এর লতানো ডাল নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে গাছটি পোষা প্রাণীর জন্য বিষাক্ত।

১০. জেডজেড প্ল্যান্ট
গাঢ় সবুজ ও চকচকে পাতার জেডজেড প্ল্যান্ট কম আলোতেও ভালো থাকতে পারে। নিয়মিত পানি দেওয়ার প্রয়োজন কম হওয়ায় ব্যস্ত মানুষের জন্য এটি পরিচর্যা করা সহজ। মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিতে হয়। তবে গাছটির কোনো অংশ খেলে পোষা প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে।

গাছের পাশাপাশি প্রয়োজন বায়ু চলাচল
ইনডোর গাছ ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায় এবং প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার অনুভূতি দেয়। তবে ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে শুধু গাছের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। নিয়মিত জানালা খুলে রাখা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং ধুলাবালি পরিষ্কার রাখাও জরুরি।

গাছ কেনার আগে ঘরের আলো, আর্দ্রতা ও পরিচর্যার সুযোগ বিবেচনা করা উচিত। পাশাপাশি বাসায় পোষা প্রাণী থাকলে গাছটি তাদের জন্য নিরাপদ কি না, সেটিও যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।

কালের আলো/এসএ/জেএন

Link copied!