Kaler Alo
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

কালের আলো ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

অন্ত্রের সুস্থতায় পানি ও আঁশযুক্ত খাবারের ভূমিকা কতটা ?

কালের আলো ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

অন্ত্রের সুস্থতায় পানি ও আঁশযুক্ত খাবারের ভূমিকা কতটা ?

শরীরের পরিপাকতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কোলন বা বৃহদান্ত্র। খাবার হজমের পর অবশিষ্ট বর্জ্য থেকে পানি ও কিছু লবণ শোষণ করে মল তৈরিতে ভূমিকা রাখে এই অঙ্গ। নিয়মিত মলত্যাগ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কোলনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে কোলনের দেয়ালে বিষাক্ত পদার্থ জমে থাকে এবং তা দূর করতে বিশেষভাবে কোলন পরিষ্কার করতে হয়—এমন ধারণার পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

কোলন সুস্থ রাখতে বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ‘কোলন ক্লিনজিং’ ওষুধ বা বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণের প্রয়োজন সাধারণত হয় না। বরং পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মতো অভ্যাসই অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে।

ফাইবারসমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফল খান
কোলনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে খাদ্যতালিকায় আঁশ বা ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। খাদ্যআঁশ মলের পরিমাণ বাড়াতে এবং মলত্যাগ সহজ করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্যও কিছু ধরনের আঁশ গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিনের খাবারে আপেল, নাশপাতি, রাস্পবেরি, শুকনো বরইয়ের মতো ফল রাখতে পারেন। এ ছাড়া ব্রকলি, পালংশাক, মটরশুঁটি এবং অন্যান্য শাকসবজিও উপকারী। এসব খাবার কাঁচা, রান্না করে কিংবা স্মুদি তৈরি করেও খাওয়া যায়। তবে হঠাৎ করে অতিরিক্ত আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া শুরু না করে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ানো ভালো। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।

ত্রিফলা খাওয়ার আগে সতর্ক থাকুন
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ত্রিফলার ব্যবহার বেশ পরিচিত। ‘ত্রিফলা’ শব্দটি এসেছে ‘ত্রি’ অর্থাৎ তিন এবং ‘ফল’ থেকে। এটি আমলকী, হরিতকী ও বহেরা—এই তিনটি ফলের সমন্বয়ে তৈরি।

আয়ুর্বেদে হজম ও মলত্যাগের সমস্যা দূর করতে ত্রিফলা ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে কোলন পরিষ্কার করা কিংবা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই নিয়মিত ত্রিফলা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা নিয়মিত ওষুধ সেবনকারীদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

লবণ-পানি পান করে কোলন পরিষ্কার নয়
কিছু প্রচলিত ঘরোয়া পদ্ধতিতে এক গ্লাস পানিতে এক টেবিল চামচ সামুদ্রিক লবণ মিশিয়ে পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। দাবি করা হয়, এতে দ্রুত মলত্যাগ হয় এবং অন্ত্র পরিষ্কার হয়। তবে এই পদ্ধতির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

বরং অতিরিক্ত লবণ শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, শরীরে পানির ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ কিংবা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে। তাই কোলন পরিষ্কারের উদ্দেশ্যে লবণ-পানি পান করা উচিত নয়।

প্রতিদিন একটি আপেল রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়
আপেলে রয়েছে খাদ্যআঁশ, বিশেষ করে পেকটিন নামের দ্রবণীয় আঁশ। এটি অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। আপেলের খোসাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আঁশ রয়েছে। তাই ভালোভাবে ধুয়ে খোসাসহ আপেল খাওয়া যেতে পারে।

তবে আপেল খেলেই কোলনের দেয়ালে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়—এমন দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত আপেল ও অন্যান্য ফল খাওয়াই বেশি উপকারী।

আপেলের রসের চেয়ে গোটা ফল ভালো
আপেলের রস পান করলে শরীরে কিছু পানি ও পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। তবে গোটা আপেলের তুলনায় রসে খাদ্যআঁশের পরিমাণ অনেক কম থাকে। তাই কোলনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে আপেলের রসের চেয়ে গোটা আপেল খাওয়া বেশি উপকারী।

প্রতিদিন তিন থেকে চার গ্লাস আপেলের রস পান করলেই শরীরের বর্জ্য নিষ্কাশন বা মলত্যাগের প্রক্রিয়া উন্নত হবে—এমন কোনো প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। অতিরিক্ত ফলের রসে প্রাকৃতিক চিনিও বেশি থাকতে পারে। তাই ফলের রসের ওপর নির্ভর না করে গোটা ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন
কোলনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে পানি গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানির ঘাটতি হলে মল শক্ত হয়ে যেতে পারে, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

সবার পানির চাহিদা এক নয়। বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর তা নির্ভর করে। সকালে সাধারণ পানি পান করার পাশাপাশি দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করতে পারেন। চাইলে স্বাদ বাড়াতে পানিতে লেবুর রস মেশানো যায়। তবে লেবু বা মধু মেশানো পানি কোলন পরিষ্কারের বিশেষ কোনো চিকিৎসা নয়।

কোলন সুস্থ রাখতে যেসব অভ্যাস জরুরি
কোলনের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু নির্দিষ্ট কোনো খাবারের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। নিয়মিত আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, শারীরিক পরিশ্রম এবং মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাস বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, মলের সঙ্গে রক্ত গেলে, অকারণে ওজন কমলে কিংবা পেটে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া কোলন পরিষ্কারের ওষুধ, এনিমা বা লবণ-পানির মতো ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করা ঠিক নয়।

সবশেষে মনে রাখা জরুরি, সুস্থ কোলন বজায় রাখতে আলাদা করে ‘ডিটক্স’ বা পরিষ্কার করার প্রয়োজন নেই। শরীরের নিজস্ব বর্জ্য নিষ্কাশনব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করে। স্বাস্থ্যকর খাবার ও জীবনযাপনই সেই কার্যক্রমকে সহায়তা করার সবচেয়ে ভালো উপায়। সূত্র: হেলদিবিল্ডার্জড

কালের আলো/এসএ/জেএন

Link copied!