যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধ সত্ত্বেও রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইউক্রেন। নতুন করে দেশটির দুটি বড় তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে কিয়েভ। এতে অন্তত একটি শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্মকর্তারা।
রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) থেকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলা আবারও জোরদার হয়েছে। সর্বশেষ রোববার (১ নভেম্বর) রাতে নিজনি নভগোরোদ ও সামারা অঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়।
দুটি বড় তেল শোধনাগারে হামলা
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১ নভেম্বর) রাতে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় নিজনি নভগোরোদ অঞ্চলের কস্তোভো তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়। এর কিছুক্ষণ আগে সামারা অঞ্চলে রুশ রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান রোসনেফটের মালিকানাধীন আরেকটি বড় তেল শোধনাগারেও হামলা চালানো হয়। তবে হামলায় দুটি স্থাপনার কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হামলা বন্ধে সম্মতি দেয়নি কিয়েভ
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হোয়াইট হাউসের চাপের মুখে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে ইউক্রেন। তবে ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টকে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারের পক্ষ থেকে ৩০ দিনের জন্য হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হলেও কিয়েভ তাতে সম্মতি দেয়নি। রুশ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, শুক্রবার থেকে তেল শোধনাগারগুলোতে নতুন করে হামলা শুরু করে ইউক্রেন। ক্রেমলিনের দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ ও অবস্থান উপেক্ষা করছে কিয়েভ।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষ
এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। গত মাসে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে একটি চুক্তির কথাও ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারদরের ওপর এসব হামলার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ওয়াশিংটনের।
পাল্টা অভিযানের কথা জানালেন জেলেনস্কি
সাম্প্রতিক তেল শোধনাগারগুলোতে হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি জেলেনস্কি। তবে রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী একটি প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলার কথা জানিয়েছেন তিনি। ওই অভিযানে রাশিয়ার একটি প্যান্টসির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে এ ধরনের অভিযানকে ইউক্রেনের ‘দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জেলেনস্কি।
রুশ হামলায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন লাখো পরিবার
জেলেনস্কির দাবি, ইউক্রেনের শহরগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় রাশিয়ার ধারাবাহিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দিতেই পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে কিয়েভ। রোববার (১ নভেম্বর) রাতেও ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে রুশ হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে কয়েক লাখ পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হামলার তীব্রতা অনেক বেশি। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিচ্ছে মস্কো। রাজধানী কিয়েভের একটি গুরুত্বপূর্ণ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রোববার সেখানে আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স
কালের আলো/এসএ/এমএস
