Kaler Alo
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬
২১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম

পোশাক রপ্তানিতে বাজার ধরে রাখলেও ভালো দাম পাচ্ছে না বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম

পোশাক রপ্তানিতে বাজার ধরে রাখলেও ভালো দাম পাচ্ছে না বাংলাদেশ

বিশ্ববাজারে পোশাকের গড় দাম বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বিক্রি হচ্ছে তুলনামূলক কম দামে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ও মূল্য—দুটিই কমেছে। তবে সামগ্রিক বাজারে আমদানি কমার হারের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে কম। ফলে দেশটির পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব কিছুটা বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৫৬ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি কমেছে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ।

এ সময়ে পোশাক আমদানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ১০ শতাংশ। বিপরীতে প্রতি ইউনিট পোশাকের গড় মূল্য বেড়েছে ২ দশমিক ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ পোশাকের পরিমাণ কম আমদানি করলেও আগের তুলনায় বেশি দামে পণ্য কিনেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানিও কমেছে

ওটেক্সার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ থেকে ৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আমদানি কমেছে ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। পাশাপাশি প্রতি ইউনিট পোশাকের গড় দাম কমেছে শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ।

মাসভিত্তিক হিসাবেও রপ্তানিতে ওঠানামা দেখা গেছে। চলতি বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক আমদানি ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ বাড়লেও সেপ্টেম্বরে তা আবার ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমেছে।

তবে সামগ্রিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা ভালো। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব আগের বছরের ১০ দশমিক ৯৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশ হয়েছে বলে ওটেক্সার তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে এগিয়ে ভিয়েতনাম

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিযোগী দেশের পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ, কম্বোডিয়ার ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ২ দশমিক ৮১ শতাংশ।

অন্যদিকে বড় কয়েকটি সরবরাহকারী দেশ বাজার হারিয়েছে। চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে ২৩ দশমিক ০৮ শতাংশ, ভারত থেকে ২৫ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং পাকিস্তান থেকে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

বিশেষ করে চীন ও ভারতের বাজারে বড় ধরনের পতন এশিয়ার পোশাক সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরেছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ তুলনামূলক কম হারে বাজার হারালেও ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার প্রবৃদ্ধি নতুন প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

পোশাকের গড় দামেও পিছিয়ে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের সামগ্রিক গড় আমদানি মূল্য বাড়লেও এশিয়ার প্রধান সাতটি সরবরাহকারী দেশের মধ্যে পাঁচটির পোশাকের ইউনিট মূল্য কমেছে। এসব দেশের মধ্যে চীনের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য সবচেয়ে বেশি, ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া ছাড়া বাকি দেশগুলোর পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য কমেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ পতনের হার শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ।

ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য এখন বিশ্ববাজারের গড় দামের চেয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। গত বছর বাংলাদেশের পোশাকের গড় দাম বিশ্ববাজারের গড় দামের কাছাকাছি ছিল।

অর্থাৎ রপ্তানির পরিমাণের পাশাপাশি পোশাকের বিক্রয়মূল্যেও পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের গড় দাম বাড়লেও বাংলাদেশের পণ্যের ইউনিট মূল্য কমে যাওয়ায় রপ্তানি আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পণ্যের বৈচিত্র্য ও মান বাড়ানোর পরামর্শ

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সামগ্রিকভাবে পোশাক আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব বাংলাদেশের রপ্তানিতেও পড়েছে। তবে বাংলাদেশের রপ্তানি কমার হার সামগ্রিক বাজারের তুলনায় কম হওয়া ইতিবাচক দিক। এতে প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখার সক্ষমতা বোঝা যায়।

তিনি বলেন, শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানো নয়, পোশাকের গড় বিক্রয়মূল্য বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে। বাংলাদেশের পোশাকের ইউনিট মূল্য বিশ্ববাজারের গড় দামের চেয়ে কম থাকা উদ্বেগের বিষয়।

এ জন্য পণ্যের বৈচিত্র্য, উন্নত মান, নতুন ডিজাইন ও উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ক্রেতাদের সঙ্গে দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়িয়ে পণ্যের ভালো দাম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির বাজারে চাহিদা কমার প্রভাব পড়েছে প্রায় সব প্রধান সরবরাহকারী দেশের ওপর। বাংলাদেশের রপ্তানি কমার হার তুলনামূলক কম হলেও বাজারের অংশীদারত্ব ধরে রাখার পাশাপাশি পোশাকের গড় বিক্রয়মূল্য বাড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

Link copied!