Kaler Alo
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নাটোর সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:১৮ এএম

জনবলসংকটে ধুঁকছে ৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল

নাটোর সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:১৮ এএম

জনবলসংকটে ধুঁকছে ৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় তিনতলা বিশিষ্ট ৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল থাকলেও জনবলসংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ২০১৮ সালে বিলাঞ্চলের মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী না থাকায় দীর্ঘদিনেও চালু করা যায়নি পূর্ণাঙ্গ সেবা। ফলে অধিকাংশ শয্যা রোগীশূন্য পড়ে থাকছে, আর উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের যেতে হচ্ছে জেলা ও বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে।

হাসপাতালটিতে ২৪ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন। চিকিৎসকের পাশাপাশি নার্স, ফার্মাসিস্ট, টেকনিশিয়ান, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ও নিরাপত্তাকর্মীরও সংকট রয়েছে। ১৩টি কর্মচারীর পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন। নার্স রয়েছেন ১১ জন এবং মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট রয়েছেন মাত্র তিনজন। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় আধুনিক অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।

২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতাল
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিন একর জমির ওপর ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ শয্যার আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া নির্মাণকাজ ২০২১ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। উদ্বোধনের পর বহির্বিভাগের কার্যক্রম শুরু হলেও পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা চালু হয়নি। বর্তমানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালে গড়ে ভর্তি থাকেন ২০ থেকে ২৫ জন রোগী। রোগীর চাপ বাড়ায় সীমিত জনবল নিয়ে সেবা দিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

দীর্ঘ অপেক্ষায় রোগী ও স্বজনেরা
দুই বছর বয়সী শিশুর জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসা রেখা খাতুন জানান, দুদিন ধরে ছেলের জ্বর ও সর্দি না কমায় সকালে চিকিৎসক দেখাতে এসেছেন। হাসপাতালে এসে রোগীদের ভিড় দেখে কখন চিকিৎসকের সিরিয়াল পাবেন, আর কখন ওষুধ নিয়ে বাড়ি ফিরবেন—তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

রেখা খাতুনের অভিযোগ, চিকিৎসক কম থাকায় রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকলে এমন ভোগান্তি হতো না। হাঁটুব্যথা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা আয়েশা বেগম বলেন, হাঁটু ও কোমরব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। দুপুর হতে চললেও তখনো চিকিৎসক দেখাতে পারেননি। দীর্ঘ সিরিয়ালের কারণে রোগীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একজন চিকিৎসককে একাই রোগী দেখতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সীমিত জনবলেই সেবা চালানোর চেষ্টা
নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. এ এস এম সায়েম বলেন, রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, হাসপাতালে প্রতিদিন ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাফি, উচ্চ রক্তচাপ ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাভাবিক প্রসব, মাতৃকালীন স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ প্রসব এবং নিয়মিত অ্যান্টিনেটাল চেকআপের ব্যবস্থাও রয়েছে। আগের তুলনায় বর্তমানে রোগীরা বেশি স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

জনবল বাড়ানোর আশ্বাস সিভিল সার্জনের
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় হাসপাতালটিতে পুরোপুরিভাবে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই হাসপাতালটির জনবল বাড়ানো হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

Link copied!