Kaler Alo
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬
১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

বগুড়া সংবাদদাতা কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

সবজির দরপতনে লোকসানের মুখে কৃষক

বগুড়া সংবাদদাতা কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

সবজির দরপতনে লোকসানের মুখে কৃষক

বগুড়ায় আগাম শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হলেও বাজারে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম সবজির মোকাম মহাস্থান হাটে প্রতি কেজি চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে মাত্র দুই টাকায়। উৎপাদন ও পরিবহন খরচ তুলতে না পেরে লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। তবে পাইকারি বাজারের তুলনায় বগুড়া মহানগরের খুচরা বাজারে একই সবজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দামে।**

ফলন বেশি, বাজারে সরবরাহের চাপ
সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত বগুড়ায় চলতি মৌসুমে আগাম শীতকালীন সবজির ভালো ফলন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রায় এক মাস আগে থেকেই এসব সবজি উঠতে শুরু করে। উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে সরবরাহও বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে ক্রেতার সংখ্যা না বাড়ায় পাইকারি বাজারে তৈরি হয়েছে দরপতনের পরিস্থিতি।

জেলা কৃষিসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বগুড়ায় প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে। উৎপাদন বেশি হওয়ায় মহাস্থান হাটে প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক সবজি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ সবজি বাজারে এলেও চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় দাম ধরে রাখতে পারছেন না কৃষকরা।

এক সপ্তাহেই অর্ধেকের বেশি কমেছে দাম
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই হাজারো কৃষক, ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে মহাস্থান হাট। হাটের বিভিন্ন স্থানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ফুলকপি, মুলা, শিম, চিচিঙ্গাসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজি। তবে সরবরাহের তুলনায় ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা।

হাটে বর্তমানে প্রতি মণ চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিপ্রতি দাম দাঁড়াচ্ছে দুই টাকা। এক সপ্তাহ আগে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া করলার দাম কমে হয়েছে ৩০ টাকা। একই সময়ে ৬০ টাকার ফুলকপি নেমে এসেছে ১৫ টাকায়। ৩০ টাকার মুলা বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকা এবং ১৫০ টাকার শিমের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকা কেজিতে।

এ ছাড়া ৪০ টাকার পটল বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা, ৫০ টাকার শসা ৩০ টাকা, ৮০ টাকার মরিচ ৩৫ টাকা, ৫৫ টাকার পেঁয়াজ ৪০ টাকা এবং ১০০ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। অন্যান্য সবজির দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

উৎপাদন খরচ না ওঠায় হতাশ কৃষক
হাটে সবজি নিয়ে আসা কৃষকরা জানান, এবার আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ ও ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ সবজি বাজারে আসায় দাম কমে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে সবজি উৎপাদন ও পরিবহনে যে খরচ হয়েছে, বিক্রির পর সেই টাকাও উঠছে না।

তাঁদের ভাষ্য, বাজারে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, বাধ্য হয়ে সেই দামেই সবজি বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। পচনশীল পণ্য হওয়ায় সবজি ধরে রাখার সুযোগও সীমিত। ফলে দাম কম হলেও বিক্রি করা ছাড়া বিকল্প থাকছে না। এতে মৌসুমের শুরুতেই লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কম দামে কিনে কিছুটা স্বস্তিতে ব্যাপারীরা
স্থানীয় ব্যাপারীরা জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় তাঁরা তুলনামূলক কম দামে পণ্য কিনতে পারছেন। পরে আশপাশের বিভিন্ন উপজেলায় এসব সবজি বিক্রি করে কিছুটা বাড়তি আয় করার সুযোগ রয়েছে। তবে কম দামে কেনার সুবিধা থাকলেও কৃষকদের পরিস্থিতি বেশ কঠিন। মহাস্থান হাটের ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ হাট থেকে সবজি কিনে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করছেন। কাঁচামালের ব্যবসায় লাভ-লোকসান নিত্যদিনের ঘটনা। লাভ হলে যেমন ভালো লাগে, তেমনি লোকসান হলে কষ্ট হয়।

মহানগরের বাজারে প্রায় দ্বিগুণ দাম
পাইকারি বাজারে সবজির দাম কমলেও বগুড়া মহানগরের খুচরা বাজারে তার পুরো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। ফতেহ আলী, রাজাবাজার, কলেজ বাজার, বিসিক কাঁচাবাজার ও মাটিডালী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মহাস্থান হাটের তুলনায় এসব বাজারে একই সবজি প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। মহানগরের বাজারে প্রতি কেজি চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং মুলা ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। এ ছাড়া শিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ২৫ থেকে ৩০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ফতেহ আলী বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল জানান, মহাস্থান হাট থেকে সবজি কিনে আনতে পরিবহনসহ বিভিন্ন ধরনের খরচ হয়। এ কারণে মোকামের তুলনায় খুচরা বাজারে প্রতিটি সবজির দাম কিছুটা বেশি রাখতে হয়। বগুড়া রাজাবাজার ব্যবসায়ী ও আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, মোকামের তুলনায় খুচরা বাজারে সবজির দাম বেশি থাকে। কোনো সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যায়, আবার সরবরাহ কমলে দাম বেড়ে যায়। তাঁর মতে, গতবারের তুলনায় এবার আগাম শীতকালীন সবজির দাম কম রয়েছে।

 বগুড়ায় আগাম শীতকালীন সবজির ভালো ফলন হলেও উৎপাদনকারীরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। একদিকে পাইকারি বাজারে পানির দামে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের, অন্যদিকে খুচরা বাজারে সেই সবজি কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি টাকা। উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যকার দামের এই ব্যবধানই এখন আলোচনায় এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

Link copied!