Kaler Alo
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬
১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ১০:৪১ এএম

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও সেতুর অপেক্ষায় দুই পাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ১০:৪১ এএম

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও সেতুর অপেক্ষায় দুই পাড়

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মিত হয়নি স্থায়ী সেতু। ফলে এখনো রশি টেনে নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে দুই উপজেলার হাজারো মানুষকে। গাজীপুরের কাপাসিয়া ও নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার সংযোগস্থলে প্রতিদিন এমন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের পাঁচুয়া হাজী বাজারের গঙ্গা ঘাটে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের একটি শাখার ওপর সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। নদীর এক পাশে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের ঝাঁড়তলা বাজার এবং অন্য পাশে কাপাসিয়ার পাঁচুয়া হাজী বাজার। দুই জেলার মানুষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে সেতু না থাকায় পারাপারের একমাত্র ভরসা রশি দিয়ে নিয়ন্ত্রিত কাঠের নৌকা।

রশি টেনে চলছে নদী পারাপার
সরেজমিনে দেখা যায়, টোক-আড়ালিয়া থেকে বারিষাব ইউনিয়নগামী সড়কের গঙ্গা বাজার থেকে পূর্ব দিকে নিচে নেমে গঙ্গা ঘাটে যেতে হয়। নদীর পাড়ে যাওয়ার জন্য নেই প্রশস্ত সড়ক কিংবা পাকা ঘাট। নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড় পর্যন্ত একটি লম্বা রশি টানানো রয়েছে। সেই রশির সঙ্গে বাঁধা কাঠের নৌকায় পারাপার হচ্ছেন মানুষ। নৌকায় যাত্রী ওঠার পর মাঝি রশি ধরে টানতে টানতে এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে নিয়ে যান। প্রতিদিনের এই পারাপারে সময় ও শ্রম দুটোই ব্যয় হচ্ছে। নদীর পানি বাড়লে কিংবা আবহাওয়া প্রতিকূল হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

পাঁচুয়া গ্রামের নৌকার মালিক আসাদ জানান, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই ঘাট দিয়ে মানুষ পারাপার হন। তিনি নিজেই রশি টেনে নৌকা চালান। কেউ পাঁচ টাকা ভাড়া দিলে নেন, আবার কেউ ভাড়া দিতে না পারলেও বিনা ভাড়ায় পার করে দেন। এই নৌকার আয় দিয়েই তার সংসার চলে। তিনি বলেন, ‘এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগ বাড়বে, যাতায়াতও সহজ হবে।’

শিক্ষার্থী ও রোগীদের ভোগান্তি বেশি
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা প্রয়োজনে দুই পাড়ের মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করেন। কিন্তু সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে পৌঁছাতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ রোগীদের জন্য নৌকায় পারাপার বেশ কষ্টকর। নদীতে পানি বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এ ছাড়া নৌকার ওপর নির্ভর করে পণ্য পরিবহন করতে হওয়ায় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। আড়ালিয়া এলাকার বাসিন্দা মুজিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই ঘাট দিয়ে নৌকায় নদ পার হচ্ছেন। বর্ষাকালে নদের পানি বাড়লে পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে চলাচলে অনেক কষ্ট হয়। তিনি বলেন, ‘এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে দুপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।’

দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি
হাফেজ আব্দুস সাত্তার বলেন, দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখনো সেই দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সেতুটি নির্মিত হলে মনোহরদী এলাকার বাসিন্দারা মাওনা-শ্রীপুর হয়ে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। এতে শুধু দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে না, আশপাশের এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণেরও সুযোগ তৈরি হবে।

সমীক্ষা ও অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানালেন প্রকৌশলী
এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, পাঁচুয়া হাজী বাজারের গঙ্গা ঘাটে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেতুটি নির্মাণ করা গেলে গাজীপুরের কাপাসিয়া ও নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে। তবে এ ধরনের সেতু নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি সমীক্ষা, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন বলে জানান তিনি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান উপজেলা প্রকৌশলী।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সেতু নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

Link copied!