Kaler Alo
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬
১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম

দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কাটছে, আনোয়ারার উপকূলে দৃশ্যমান হচ্ছে টেকসই বাঁধ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম

দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কাটছে, আনোয়ারার উপকূলে দৃশ্যমান হচ্ছে টেকসই বাঁধ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় রায়পুর ও জুঁইদন্ডী ইউনিয়নে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলের মানুষের মধ্যে এ প্রকল্প ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মিত হলে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পাবে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও চিংড়িঘের।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আটটি প্যাকেজে মোট ৫ দশমিক ১৭৫ কিলোমিটার স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও তীর সংরক্ষণের কাজ চলছে।

৩৫০ কোটি টাকার প্রকল্পে দুই ইউনিয়নে কাজ

প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চারটি প্যাকেজে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে জুঁইদন্ডী ইউনিয়নে ২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে পাউবোর তত্ত্বাবধানে চারটি প্যাকেজে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রায়পুর ইউনিয়নে ২ দশমিক ৭৭৫ কিলোমিটার স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা ও বাঁধ সংরক্ষণের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ প্রকল্পে স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা, বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ এবং ঢাল সংরক্ষণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইতিমধ্যে রায়পুর ইউনিয়নে এক কিলোমিটার বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজের অগ্রগতি প্রায় ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে জুঁইদন্ডী ইউনিয়নে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এখনো ঝুঁকিতে কয়েক কিলোমিটার বাঁধ

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারা উপজেলায় মোট প্রায় ৪৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে নদীতীরে আট কিলোমিটার এবং সমুদ্রতীরে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে।

বর্তমানে নদীতীরে ২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার এবং সমুদ্রতীরে ২ দশমিক ৭৭৫ কিলোমিটার স্থায়ী সুরক্ষা বাঁধের কাজ চলছে। তবে এখনো নদীতীরে প্রায় চার কিলোমিটার এবং সমুদ্রতীরে ২ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে নোনাপানি প্রবেশ করে। এতে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও চিংড়িঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন বাঁধে আধুনিক ব্লক, নির্দিষ্ট উচ্চতার টেকসই মাটির ঢাল এবং সিসি ব্লক ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব অবকাঠামো উপকূলের হাজার হাজার পরিবারকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেবে।

কাজের মান ও সময়সীমা নিয়ে নির্দেশনা

সম্প্রতি আনোয়ারার উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এনামুল হক। পরিদর্শনকালে তিনি কাজের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা এবং নির্মাণের গুণগতমান শতভাগ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।

স্বস্তিতে উপকূলের মানুষ

নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধ দেখে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা জালাল উদ্দিন আনোয়ারী বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে একটি টেকসই বেড়িবাঁধের অপেক্ষায় ছিলেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হলে এলাকার চিত্র বদলে যাবে।

একই ইউনিয়নের ছিবাতলী ঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. জাহিদুল আলম বলেন, তাঁদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বেড়িবাঁধ নির্মিত হচ্ছে। এতে ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার ভয় কমবে। নির্মিত বাঁধটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠছে।

জুঁইদন্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দা সালাউদ্দিন জাহেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ইউনিয়ন নদীভাঙন ও প্লাবনের শিকার। টেকসই বাঁধ নির্মাণের ফলে উপকূলে ভাঙনের ঝুঁকি কমবে এবং মানুষ ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাবে। বাঁধটি মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ীভাবে নির্মিত হলে আগামী কয়েক দশক প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে আশা করেন তিনি।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের আনোয়ারার দায়িত্বে থাকা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বর্ণ হক বলেন, রায়পুরে নির্ধারিত সময়ের আগেই এক কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে সব কাজ শেষ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

Link copied!