Kaler Alo
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম

মহাবিশ্বের রহস্য খুঁজে ২২ বছর পর শেষ হলো সুইফটের যাত্রা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম

মহাবিশ্বের রহস্য খুঁজে ২২ বছর পর  শেষ হলো সুইফটের যাত্রা

মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণগুলোর রহস্য অনুসন্ধানে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সুইফট টেলিস্কোপ। দীর্ঘ ২২ বছরের মহাকাশ অভিযান শেষে বুধবার (৪ নভেম্বর) পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ধ্বংস হয়েছে এই মহাকাশ পর্যবেক্ষণযন্ত্র। ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা অঞ্চলের আকাশ দিয়ে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন মহাকাশ বাহিনী।

প্রায় ১ হাজার ৪৫২ কেজি ওজনের সুইফট টেলিস্কোপটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় শব্দের গতির প্রায় ২২ গুণ গতিতে ছুটছিল। এর আগে কক্ষপথে টিকিয়ে রাখতে একটি উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও সেটি ব্যর্থ হয়। ওই অভিযানের প্রায় তিন মাস পর পৃথিবীতে ফিরে আসে টেলিস্কোপটি।

কোথায় হলো পতন
মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে সুইফট পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ সময় তখন বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিট। বিষুবরেখা থেকে প্রায় ৩২২ কিলোমিটার উত্তরে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের আকাশে ঘটনাটি ঘটে।

নাসার ধারণা ছিল, বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণজনিত তীব্র তাপে স্যাটেলাইটটির অধিকাংশ অংশ পুড়ে যাবে। তবে কিছু ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে। এখন পর্যন্ত এসব ধ্বংসাবশেষের কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

উত্তর সুমাত্রার রাজধানী ও বৃহত্তম শহর মেদান থেকে পতনস্থলটির দূরত্ব তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শহরটিতে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের বসবাস। পুরো প্রদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ। তবে মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, ধ্বংসাবশেষের কারণে কোনো মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল খুবই কম। এ ধরনের ঘটনায় কারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২ হাজার ১০০ জনে একজন বলে হিসাব করেছিল সংস্থাটি।

ব্রিটিশ মহাকাশ প্রকৌশলী ডিন স্লেডেন জানিয়েছেন, স্যাটেলাইটটির মাত্র কয়েকটি ছোট ও পুড়ে যাওয়া টুকরা পৃথিবীর মাটিতে পৌঁছাতে পারে। সেগুলোর কোনোটি থেকেই টেলিস্কোপটির আসল চেহারা চেনার সুযোগ থাকবে না। তাঁর মতে, এ ধরনের আকারের স্যাটেলাইট নিয়মিতই বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। প্রায় ৭০ বছরের মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কোনো মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

দুই দশকে উন্মোচন করেছে মহাবিশ্বের নানা রহস্য
প্রায় ৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে তৈরি নাসার সুইফট স্যাটেলাইটের প্রধান কাজ ছিল গামা-রে বিস্ফোরণ পর্যবেক্ষণ করা। মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণগুলোর মধ্যে এসব বিস্ফোরণ অন্যতম। তিনটি টেলিস্কোপের সমন্বয়ে তৈরি এই পর্যবেক্ষণযন্ত্র বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে মহাজাগতিক ঘটনা অনুসন্ধান করত।

২০০৪ সালে উৎক্ষেপণের পর থেকে সুইফট শত শত সুপারনোভা বিস্ফোরণ, কৃষ্ণগহ্বরের নক্ষত্র ছিন্নভিন্ন করার ঘটনা, নক্ষত্রের এক্স-রে বিকিরণ, গ্রহাণু ও ধূমকেতু পর্যবেক্ষণ করেছে। এর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ৭ হাজার বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

মাত্র দুই বছরের কার্যকাল মাথায় রেখে নকশা করা হয়েছিল টেলিস্কোপটি। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে মহাকাশে কাজ করেছে এটি। গত ২০ অক্টোবর এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

ব্যর্থ উদ্ধার অভিযানেই শেষ হয় কার্যকাল
নিজস্ব চালিকাশক্তি বা প্রপালশন ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক মাস ধরেই সুইফটের কক্ষপথ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছিল। এর কার্যকাল বাড়াতে গত জুলাইয়ে নাসা ও যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনাভিত্তিক মহাকাশ স্টার্টআপ ক্যাটালিস্ট একটি বিশেষ উদ্ধারযান উৎক্ষেপণ করে।

‘লিংক’ নামের ওই মহাকাশযানের পরিকল্পনা ছিল সুইফটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেটিকে টেনে আরও উঁচু ও স্থিতিশীল কক্ষপথে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু মহাকাশে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই লিংক নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ঘুরতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে আগস্টের মাঝামাঝি উদ্ধার অভিযান পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এরপর সুইফটকে পৃথিবীতে ফিরে আসতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হলো নাসার অন্যতম সফল মহাকাশ পর্যবেক্ষণ অভিযানের। দুই দশকের বেশি সময় ধরে মহাবিশ্বের বিস্ফোরণ, নক্ষত্র ও কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছে এই টেলিস্কোপ।

কালের আলো/এসএ/জেএন

Link copied!