Kaler Alo
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

চার মাসেই লক্ষ্যমাত্রার ৪৩ শতাংশ ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

চার মাসেই লক্ষ্যমাত্রার ৪৩ শতাংশ ঋণ

সরকারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি এবং সরকারি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসেই (জুলাই-অক্টোবর) ব্যাংক খাত থেকে নিট ৪৭ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এর ফলে পুরো অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪৩ শতাংশ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে।

সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ার পেছনে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির পাশাপাশি নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন-ভাতা পরিশোধের চাপও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, সামনে সরকারি ব্যয়ের চাপ আরও বাড়লে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে।

অক্টোবরে ব্যাংক থেকে রেকর্ড ঋণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু অক্টোবর মাসে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ব্যাংক খাত থেকে মোট ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এক মাসে সরকারের ঋণ নেওয়ার এই পরিমাণ অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ।

এর আগে চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে ৫৬ হাজার কোটি, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি এবং সেপ্টেম্বরে সাড়ে ৪১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল সরকার। তবে এসব পরিসংখ্যান মোট ঋণের হিসাব। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের একটি বড় অংশ আগের ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় পরিশোধ এবং পুরোনো বিল-বন্ড পুনঃইস্যুতে ব্যয় হয়। ফলে মোট ঋণের পরিমাণ আর নিট ঋণের পরিমাণ এক নয়। এসব সমন্বয়ের পর অক্টোবর শেষে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা।

আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি, বাড়ছে ঋণনির্ভরতা
সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সরকারের আয়ের সক্ষমতার তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি। সে অনুযায়ী রাজস্ব আয় না পাওয়ায় সরকারকে বেশি ব্যাংকঋণ নিতে হচ্ছে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের চাপও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তাঁর মতে, সামনে এই চাপ আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম মনে করেন, অর্থবছরের প্রথম দিকের তুলনায় শেষ দিকে সরকারের ব্যয়ের চাপ সাধারণত বেশি থাকে। এ কারণে ওই সময়ে সরকার বেশি ঋণ নিয়ে থাকে।

 তিনি বলেন, অক্টোবর মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হলেও আগের বিল-বন্ডের মেয়াদপূর্তিতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এটি ইতিবাচক দিক। কারণ, এর ফলে বাজারে টাকার সরবরাহ কমবে এবং রিজার্ভ মানিও কমবে। ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব খুব বেশি হওয়ার কথা নয় তবে অর্থনীতির গতি বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড বাজেট ঘোষণা করেছে সরকার। এই বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি পূরণে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এর মধ্যে দেশের ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ অর্থবছরজুড়ে সরকারের ঋণ পরিকল্পনায় ব্যাংক খাত গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে থাকছে। তবে প্রথম চার মাসেই এই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪৩ শতাংশ ঋণ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায়েও বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাস, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় সরকারের নিয়মিত ব্যয় নির্বাহে অর্থের জোগান নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।

বর্ধিত বেতন-ভাতা মেটাতে বিশেষ ট্রেজারি বিল
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন-ভাতা পরিশোধের অর্থ জোগাতেও ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত সোমবারও ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ব্যাংক খাত থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে সরকার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, সরকারের চাহিদা অনুযায়ী ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ঋণের জোগান দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম দায়িত্ব। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই দায়িত্ব পালন করছে।

সব মিলিয়ে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি, বাজেটের বড় অঙ্কের ঘাটতি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন-ভাতা পরিশোধের চাপ সামাল দিতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে সরকারের। অর্থবছরের বাকি সময়ে রাজস্ব আদায়ের পরিস্থিতি এবং সরকারি ব্যয়ের চাপের ওপর নির্ভর করবে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ আরও কতটা বাড়ে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

Link copied!