শিক্ষক প্রশিক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, পরিবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে তাল মেলাতে শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিকে (নায়েম) আরও আধুনিক প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর নায়েমে ‘২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স’-এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এআই ব্যবহারে পিছিয়ে পড়া যাবে না
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে। এআইয়ের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে। তাই শিক্ষক প্রশিক্ষণেও এআইয়ের ব্যবহার ও প্রয়োগকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারেন। এ জন্য শিক্ষকদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, অনেক শিক্ষক এখনো প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে পারেননি। তাঁদের দ্রুত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা প্রয়োজন।
শিক্ষা ক্যাডারের প্রশিক্ষণ ও বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা অনেক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ওরিয়েন্টেশন ছাড়াই শিক্ষকতায় যোগ দেন। অন্যদিকে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা চার-পাঁচ মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেন। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশাসন ও শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে পার্থক্য এবং পরবর্তী সময়ে সৃষ্ট বৈষম্যের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ত্রুটি দায়ী। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারাও বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পান। অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মতো একই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই তাঁরা শিক্ষকতায় আসেন। অথচ অনেক সময় তাঁদের অবমূল্যায়ন করা হয়।
উচ্চশিক্ষার মান নিয়েও ভাবতে হবে
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা নিয়ে আলোচনায় সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার মান নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না। এসব পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পড়বে ও শিখবে—এমন ধারণা করা হয়। তবে উচ্চশিক্ষার মান কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
শিক্ষা খাতে সরকারের বরাদ্দের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছেন। আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
সেরা প্রশিক্ষণার্থীদের সম্মাননা
অনুষ্ঠানের আগে শিক্ষামন্ত্রী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নায়েমের প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক প্রিম রিজভী। এতে সভাপতিত্ব করেন নায়েমের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি
