Kaler Alo
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

বেক্সিমকোর ঋণ কেলেঙ্কারিতে সালমানসহ ৬৯ জন আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

বেক্সিমকোর ঋণ কেলেঙ্কারিতে সালমানসহ ৬৯ জন আসামি

বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যাংক থেকে ঋণসুবিধা নিয়ে ১ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ ৪ হাজার ৭৫৪ টাকা ৯০ পয়সা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে এসব মামলা করা হচ্ছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, স্পিংফুল অ্যাপারেলস, আরবান ফ্যাশনস ও মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস নামে তিন প্রতিষ্ঠানের ঋণের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে মামলাগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিন মামলায় সালমান এফ রহমানসহ যথাক্রমে ২২, ২২ ও ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আসামির সংখ্যা ৬৯ জন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন একাধিক মামলায় রয়েছেন।

যেভাবে আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্ট তিন প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও তাঁদের অনুকূলে বিপুল অঙ্কের ঋণসুবিধা মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। পরে আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ভুয়া অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করে অর্থ স্থানান্তর করা হয়।

অনুসন্ধান অনুযায়ী, ভুয়া বাণিজ্যিক লেনদেনের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের একটি কৃত্রিম চিত্র তৈরি করা হয়। নিজেদের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে—এমন তথ্য দেখিয়ে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। পরে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক। এ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও পারস্পরিক যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে। দুদকের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালক এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে জড়িত ছিলেন।

স্পিংফুল অ্যাপারেলসে ১৪১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
স্পিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে ১৪১ কোটি ২৮ লাখ ১ হাজার ১৭১ টাকা ২৫ পয়সা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে প্রথম মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্য আসামিরা হলেন—এ এস এম এফ রহমান, ইকবাল আহমেদ, ওসমান কায়সার চৌধুরী ওরফে ও কে চৌধুরী, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক, রীম এইচ শামসুদ্দোহা, মোহাইমিনুল ইসলাম, কোহিনুর আবেদিন, আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর, আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, আহমেদ শাহরিয়ার রহমান, আবদুছ ছালাম আজাদ, আবদুল জব্বার, মিজানুর রহমান, মো. হুমায়ুন কবির টালী, মো. আবদুর রহিম, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও এম এম মাহাতাব হোসাইন বাদশা।

আরবান ফ্যাশনসে ৪১৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
আরবান ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে ৪১৭ কোটি ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৬ টাকা ৫ পয়সা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দ্বিতীয় মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ মামলাতেও সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—এ এস এম এফ রহমান, ইকবাল আহমেদ, ওসমান কায়সার চৌধুরী ওরফে ও কে চৌধুরী, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক, রীম এইচ শামসুদ্দোহা, হেলাল উদ্দিন, সাহিদা রহমান, আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর, আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, আহমেদ শাহরিয়ার রহমান, আবদুছ ছালাম আজাদ, ইসমাইল হোসেন, মো. শহিদুল হক, মিজানুর রহমান, মো. মমতাজুল ইসলাম, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, মো. সালেহ আহমেদ ও রফিকুল ইসলাম।

মিডওয়েস্ট গার্মেন্টসে ৫৬৩ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ
মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ৫৬৩ কোটি ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫২৭ টাকা ৬০ পয়সা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে তৃতীয় মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় সালমান এফ রহমানসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—এ এস এম এফ রহমান, ইকবাল আহমেদ, ওসমান কায়সার চৌধুরী ওরফে ও কে চৌধুরী, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক, রীম এইচ শামসুদ্দোহা, মোহাইমিনুল ইসলাম, কোহিনুর আবেদিন, আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর, আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, আহমেদ শাহরিয়ার রহমান, আবদুছ ছালাম আজাদ, আবদুল জব্বার, মো. শহিদুল হক, মিজানুর রহমান, মো. মমতাজুল ইসলাম, মো. আবদুর রহিম, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, মো. সালেহ আহমেদ, রফিকুল ইসলাম, এম এম মাহাতাব হোসাইন বাদশা ও মো. হুমায়ুন কবির টালী।

যেসব ধারায় অপরাধের অভিযোগ
দুদকের অনুমোদিত মামলাগুলোতে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭(ক) ও ১০৯ ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত আইন, ২০১৫)-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায়ও অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে তিন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণের অর্থ ভুয়া আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের মাধ্যমে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই পৃথক তিনটি মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

Link copied!