Kaler Alo
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

কারখানা বন্ধ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকরা: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

কারখানা বন্ধ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকরা: মাহদী আমিন

যথাসময়ে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হলেও একটি চিহ্নিত মহল দেশের গার্মেন্টসশিল্পকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

সোমবার (২ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতের উদ্যোগ

ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশে গার্মেন্টসশিল্পের যাত্রা শুরু হয়। এ শিল্পের মাধ্যমে দেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ও এ শিল্পের বিকাশ এবং শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হয়।

তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে।

নতুন মজুরি বোর্ড গঠন

গার্মেন্টসশিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাপ্লাই চেইন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি জড়িত। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয়, অন্যান্য খাতের বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

এ লক্ষ্যেই মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, গঠনমূলক ও বহুমাত্রিক আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের জন্য ন্যায়সংগত, যৌক্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে।

উসকানি ও নাশকতার অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, মজুরি নির্ধারণের ইতিবাচক উদ্যোগের পরও একটি চিহ্নিত মহল গার্মেন্টসশিল্পে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের উসকানি ও নাশকতার মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতনের দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, কারখানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ, পুলিশের গাড়ি ও বক্স ভাঙচুর এবং যানবাহন ও স্থাপনায় হামলার মতো কর্মকাণ্ড শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থী। শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি পলাতক অপশক্তি অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কারখানা বন্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকরাই

মাহদী আমিন বলেন, কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন শ্রমিকেরা। এতে বেকারত্ব বাড়বে, রপ্তানি আয় কমবে এবং দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, ভাঙচুর ও শিল্প ধ্বংসের সুযোগ দেওয়া যাবে না। শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা সফল হবে না। সহিংসতা ও নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আহ্বান

সাধারণ শ্রমিকদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, গুজব বা উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না। শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, গার্মেন্টস খাত ও পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা বিবেচনায় শ্রমিকদের যৌক্তিক ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার সবসময় পাশে থাকবে। কারণ এ শিল্পের অগ্রযাত্রার সঙ্গে দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি জড়িত।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

Link copied!