Kaler Alo
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

ফর্টিফায়েড চালের কার্যকারিতা যাচাইয়ে ডব্লিউএফপির সহায়তা চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

ফর্টিফায়েড চালের কার্যকারিতা যাচাইয়ে ডব্লিউএফপির সহায়তা চায় সরকার

সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে বিতরণ করা ফর্টিফায়েড বা পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল মানুষের পুষ্টি উন্নয়নে কতটা কার্যকর, তা যাচাই করতে গবেষণার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ গবেষণার জন্য জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কাছে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে গবেষণাটি পরিচালনায় প্রায় চার লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।

বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০০ উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এই চালের প্রকৃত পুষ্টিগত সুফল সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পেতে গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সরকারি খাদ্যগুদামে দীর্ঘদিন চালের গুণগত মান বজায় রাখা এবং কৌশলগত খাদ্যশস্যের মজুত ব্যবস্থাপনা উন্নত করতেও ডব্লিউএফপির সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানমের কার্যালয়ে ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

ফর্টিফায়েড চালের সুফল যাচাইয়ে গবেষণা
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের প্রাপ্যতা বাড়ানো সরকারের অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে ডব্লিউএফপি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। সরকার এই সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করতে চায়। তিনি বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ফর্টিফায়েড চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে এসব কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের পুষ্টির কতটা উন্নতি হচ্ছে, তা জানতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন।

খাদ্যমন্ত্রীর মতে, ফর্টিফায়েড চালের কার্যকারিতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো এবং নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের আগে চালের প্রকৃত পুষ্টিগত সুফল সম্পর্কে শক্তিশালী প্রমাণ থাকা জরুরি। চালসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্যে পুষ্টি উপাদান সংযোজনের কার্যক্রম সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও আইন প্রণয়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ, পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে ডব্লিউএফপির সহযোগিতা প্রয়োজন।

ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা ফর্টিফায়েড চালের কার্যকারিতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেন। সম্ভাব্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদেরও গবেষণায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মত দেন তিনি। এ জন্য একটি বিস্তারিত ধারণাপত্র তৈরির পরামর্শ দেন। পাশাপাশি পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আশ্বাস দেন তিনি।

খাদ্যগুদামে চালের মান ধরে রাখার উদ্যোগ
সরকারি খাদ্যগুদামে দীর্ঘদিন সংরক্ষিত চালের গুণগত মান বজায় রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন খাদ্যমন্ত্রী। এ সমস্যা মোকাবিলায় খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি মজুত ব্যবস্থাপনার জন্য সমন্বিত নীতিমালা এবং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়নে ডব্লিউএফপির কারিগরি সহায়তা চান তিনি।

বৈঠকে বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কৌশলগত খাদ্যশস্যের মজুত আরও কার্যকর ও দুর্যোগসহনশীল করার বিষয়েও আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবিলায় খাদ্য মজুত এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সম্প্রসারণের আলোচনা
বৈঠকে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত খাদ্য ব্যবহার করে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে খাদ্য, কৃষি, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তুলে ধরা হয়। ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জানান, আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় কৌশলগত খাদ্যশস্যের মজুত ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা, খাদ্যশস্যের পুষ্টিমান উন্নয়ন এবং স্কুল ফিডিং কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরের সহযোগিতা পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ২০২৮ সাল থেকে নতুন অংশীদারত্ব কার্যক্রম শুরু করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় খাদ্যসচিব আবু তাহের মোহাম্মদ মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন খান, ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের সিনিয়র পার্টনারশিপ অ্যাডভাইজার মো. মহসিন চৌধুরী, হেড অব প্রোগ্রাম জেসি উডসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

Link copied!