Kaler Alo
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
২০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

সিটি গ্রুপের ব্যবসা সচল রাখতে ৮ ব্যাংকের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

সিটি গ্রুপের ব্যবসা সচল রাখতে ৮ ব্যাংকের উদ্যোগ

বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে সংকটে পড়া সিটি গ্রুপের ব্যবসা সচল রাখতে নতুন করে তিন হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ দেওয়ার বিশেষ সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বেসরকারি সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে আটটি ব্যাংকের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের নির্দিষ্ট একটি বিধানের কার্যকারিতা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বুধবার (৪ নভেম্বর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সিটি গ্রুপের ঋণখেলাপি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে চলতি মূলধন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে এ ঋণের বিপরীতে বেশ কিছু শর্তও আরোপ করা হয়েছে।

যে আট ব্যাংক দিচ্ছে ঋণ
প্রাথমিকভাবে সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে আটটি ব্যাংক এই অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা করছে। অন্য ব্যাংকগুলো হলো—পূবালী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সিটি গ্রুপভুক্ত ঋণখেলাপি পাঁচটি প্রতিষ্ঠান—সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি এডিবল অয়েল, সিটি ডাল মিলস ও শম্পা ফ্লাওয়ার মিলসের অনুকূলে তিন হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণসুবিধা দেওয়া যাবে। এ জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক(৩) ধারায় বর্ণিত বিধান ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর হবে না। সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে গঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থায়নের ক্ষেত্রে এ ছাড় প্রযোজ্য হবে।

ঋণ বিতরণে যেসব শর্ত
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, ঋণখেলাপি কোনো প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ঋণ বা ঋণপত্র (এলসি) সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে একই আইনের ১২১ ধারার ক্ষমতাবলে সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে বিশেষ পরিস্থিতিতে সাময়িক ছাড় দিতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করেই সিটি গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন ঋণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঋণের বিপরীতে দায়মুক্ত সম্পদ বন্ধকসহ নির্ধারিত শর্ত মানতে হবে। প্রস্তাবিত ঋণসুবিধার কারণে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে সিটি ব্যাংক কিংবা সিন্ডিকেটের অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ ঋণের জন্য সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আর্থিক সহায়তা চাইতে পারবে না। এ ছাড়া ঋণের অর্থ দিয়ে কেনা পণ্য বিক্রির পর যে টাকা পাওয়া যাবে, তা নির্দিষ্ট একটি ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। ওই হিসাব থেকে সিন্ডিকেটভুক্ত ব্যাংকগুলোর পাওনা আনুপাতিক হারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে।

২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে সংকট
দেশের অন্যতম শীর্ষ ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক সিটি গ্রুপ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে। ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনতে বড় অঙ্কের ব্যাংকঋণ নিয়ে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছিল গ্রুপটি। তবে গ্যাসসংকটের কারণে কিছু কারখানা চালু করতে না পারায় ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়।

ভোগ্যপণ্যের পাশাপাশি ইস্পাত, শিপিং ও চাসহ বিভিন্ন খাতে সিটি গ্রুপের বিনিয়োগ রয়েছে। তীর, বেঙ্গল, ন্যাচারাল, জীবন, কুইক বাইট ও জেলফি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য বাজারজাত করে প্রতিষ্ঠানটি। কয়েক মাস আগে গ্রুপটির ঋণ পরিশোধের সংকট সামনে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে ঋণ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুরুতে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) সিটি গ্রুপের ঋণ পুনর্গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করে। বাংলাদেশ ব্যাংকও তাতে সম্মতি দেয়।

আগেও পেয়েছে বিশেষ সুবিধা
গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিটি গ্রুপের ঋণখেলাপি না করার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে গত ৩১ মার্চ বিশেষ নীতি সহায়তার আওতায় ঋণখেলাপি না করা, সুদের হার কমানো এবং ১ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন সুবিধা চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দিয়েছিল সিটি গ্রুপ।

ঋণের দায় আংশিক পরিশোধ করে সংকট কাটাতে হোসেন্দি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ কয়েকটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয় গ্রুপটি। পাশাপাশি তাদের মালিকানাধীন ১৮ হাজার ৮৭৫ একর আয়তনের আটটি চা-বাগানের আংশিক বিক্রিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এসব সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাওয়া যায়নি। এ পরিস্থিতিতে গ্রুপটির পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা সচল রাখতে তিন হাজার কোটি টাকার নতুন চলতি মূলধন ঋণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ছাড়ের ফলে সিন্ডিকেটভুক্ত ব্যাংকগুলো নির্ধারিত শর্তে এ অর্থায়ন করতে পারবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

Link copied!