Kaler Alo
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

বরিশাল সংবাদদাতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০২:১০ পিএম

 নিষেধাজ্ঞা শেষে মেঘনায় ফিরেছে ইলিশের জোয়ার

বরিশাল সংবাদদাতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০২:১০ পিএম

 নিষেধাজ্ঞা শেষে মেঘনায় ফিরেছে ইলিশের জোয়ার

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বরিশালের মেঘনা নদীতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। রুপালি ইলিশের আশায় নদীতে নেমেছেন হাজারো জেলে। তাঁদের জালে ইলিশের পাশাপাশি ধরা পড়ছে পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এসব মাছ নিয়ে একের পর এক নৌকা ভিড়ছে বরিশালের বিভিন্ন মাছঘাটে।

দীর্ঘ বিরতির পর মাছ ধরা শুরু হওয়ায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে জেলে, আড়তদার, মৎস্য ব্যবসায়ী ও ঘাটের শ্রমিকদের মধ্যে। তবে বাজারে মাছের সরবরাহ শুরু হলেও এখনো কমেনি ইলিশের দাম। বিশেষ করে বড় আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। ফলে ঘাটে মাছের আমদানি ও বেচাকেনা জমে উঠলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ইলিশ কেনা এখনো ব্যয়বহুল। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে মাছ আসা ও কেনাবেচার এমন চিত্র দেখা গেছে।

নদীতে ফিরেছেন হাজারো জেলে
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে বরিশালের মেঘনা, কালাবদর, সুগন্ধা, সন্ধ্যা, জয়ন্তী, আড়িয়াল খাঁ ও কীর্তনখোলাসহ বিভিন্ন নদীতে মাছ শিকারে নামেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই ইলিশ ধরার প্রস্তুতি নিয়ে নদীতে যাত্রা করেন তাঁরা।

শুক্রবার ভোরের আলো ফুটতেই মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতে শুরু করেন জেলেরা। মেঘনার হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর এবং বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে একের পর এক জেলে নৌকা ভিড়তে থাকে। প্লাস্টিকের ঝুড়িতে সাজিয়ে ঘাটে আনা হয় ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। মাছ নামানোর পরপরই শুরু হয় দরদাম ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক। অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায় অনেক মাছ।

এক রাতের মাছ বিক্রি ১৫ হাজার টাকা
পোর্ট রোডের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে জেলে আবুল হোসেন জানান, সাতজন মিলে মধ্যরাতে নদীতে মাছ ধরতে নেমেছিলেন। তাঁদের ধরা ইলিশ বিক্রি হয়েছে মোট ১৫ হাজার টাকায়। আবার রাতে মাছ ধরতে নদীতে নামার প্রস্তুতি রয়েছে তাঁদের। তবে কয়েক দিন পর ইলিশের প্রাপ্যতা কমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই জেলে। তাঁর মতো অনেক জেলেই নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে মাছ ধরতে নেমেছেন। প্রথম দফায় কেমন মাছ পাওয়া যায়, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রত্যাশা ও অনিশ্চয়তা দুটোই রয়েছে।

চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বড় ইলিশ
 মাছের সরবরাহ শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় ইলিশের পরিমাণ কম থাকায় দাম এখনো বেশি বলে জানিয়েছেন আড়তদাররা। পোর্ট রোডের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চাহিদা বেশি থাকায় ইলিশের দাম কমেনি। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। আর ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায়।

ইলিশের পাশাপাশি জেলেদের জালে পাঙ্গাশও ধরা পড়ছে। বড় আকারের পাঙ্গাশ কেজিপ্রতি ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট আকারের পাঙ্গাশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের সরবরাহ বাড়লে বাজারদরে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন এই আড়তদার।

প্রথম দিকে মাছের আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা
অপর আড়তদার সেলিম মিয়া বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে ঘাটে মাছ আসতে শুরু করেছে। শনিবার মাছের সরবরাহ পর্যবেক্ষণ করলে ইলিশের আমদানি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। কারণ, আগের বছরগুলোতে নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম দুই দিন মাছের সরবরাহ ভালো থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা কমে যেত।

আড়তদার ইব্রাহিম হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে ঘাটে বড় ইলিশ বেশি আসছে। তবে ছোট ইলিশের সংখ্যা তুলনামূলক কম। প্রত্যাশার তুলনায় ইলিশের পরিমাণও কম পাওয়া যাচ্ছে। পাঙ্গাশ ধরা পড়ায় জেলেদের লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ইলিশের পাশাপাশি পাঙ্গাশেও সম্ভাবনা দেখছে মৎস্য বিভাগ
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের দুটি অভিযান কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় জেলেরা এর সুফল পাচ্ছেন। ইলিশের পাশাপাশি পাঙ্গাশও পাওয়া যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মতে, পাঙ্গাশের উৎপাদন ও বংশবিস্তার বাড়াতে সরকারিভাবে কার্যকর প্রকল্প নেওয়া হলে এ মাছও ইলিশের মতো জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে জেলেদের ফেরা এবং মাছঘাটে বেচাকেনা শুরু হওয়ায় বরিশালের মৎস্য খাতে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে ইলিশের সরবরাহ কতটা বাড়বে এবং তার প্রভাব বাজারদামে পড়বে কি না, তা জানতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

Link copied!