Kaler Alo
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

১৩ হাজার নয়, নৌকা ছিল ২ লাখ ৬৭ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

১৩ হাজার নয়, নৌকা ছিল ২ লাখ ৬৭ হাজার

অতীতে পরিসংখ্যানকে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, পরিসংখ্যানের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সঠিক তথ্য তুলে ধরা। কিন্তু অতীতে মিথ্যা তথ্য প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে এর ব্যাপক ব্যবহার হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কার্যালয়ে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় তিন সংস্কার উদ্যোগ
তিতুমীর বলেন, অতীতের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে নির্ভরযোগ্য, গ্রহণযোগ্য, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। পরিসংখ্যানকে শুধু পাঠ্যপুস্তকের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তথ্য ও অপতথ্যের লড়াই চলছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে নির্ভরযোগ্য করা জরুরি।

পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় সরকারের তিনটি প্রধান সংস্কার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমত, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানসম্পন্ন পরিসংখ্যান তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, জননীতি প্রণয়ন ও সরকারি সেবা বাস্তবায়নে সঠিক তথ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষ, গবেষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পরিসংখ্যান সহজলভ্য করা।

নৌকার সংখ্যা নিয়েও ভুল তথ্য
অতীতের পরিসংখ্যানের অসংগতির উদাহরণ তুলে ধরে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, দেশে একসময় ইঞ্জিনচালিত নৌকার সংখ্যা ১৩ হাজার দেখানো হয়েছিল। অথচ প্রকৃত সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬৭ হাজার। এ ধরনের তথ্যের ব্যবধান থেকেই অতীতে কীভাবে পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে, তা বোঝা যায়। তিনি বলেন, এ অবস্থার পরিবর্তনে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতেও ভুল তথ্যের প্রভাব
তিতুমীর বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রকৃত উপকারভোগীদের অনেকে বাদ পড়েছেন। আবার যাদের সুবিধা পাওয়ার কথা নয়, তারাও বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধা পেয়েছেন। এতে রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদের অপচয় হয়েছে।

এ ধরনের ভুল কমাতে প্রক্সিমিটি টেস্টসহ বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচিতে প্রকৃত উপকারভোগী চিহ্নিত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।

তথ্যভান্ডারের মধ্যে সমন্বয়ের উদ্যোগ
সরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্যভান্ডারের মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি উন্মুক্ত তথ্যনীতি প্রণয়নের মাধ্যমে গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই নীতিমালা তৈরি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের তথ্য নিয়ে বিদেশে গবেষণার সুযোগ বাড়লে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার মান উন্নত হবে এবং জননীতিতে জবাবদিহিতা বাড়বে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিষয়ে অন্যদের দেওয়া ভুল ও অপতথ্যের ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।

পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সংস্কারকে কঠিন যাত্রা উল্লেখ করে তিতুমীর বলেন, নির্ভরযোগ্য, গ্রহণযোগ্য, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. শামীমুল হক। এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আলোচনায় অংশ নেন।

কালের আলো/এসএ/এমএসআইপি

Link copied!