Kaler Alo
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

ঝুঁকির বেইলি সেতুর বিদায়, ইছামতিতে আসছে আধুনিক সেতু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

ঝুঁকির বেইলি সেতুর বিদায়,  ইছামতিতে আসছে আধুনিক সেতু

একটি জরাজীর্ণ বেইলি সেতু, প্রতিদিনের ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার আর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি—এসবের অবসানের অপেক্ষায় মুন্সীগঞ্জের মানুষ। ইছামতি নদীর বুকে এবার নির্মিত হতে যাচ্ছে আধুনিক ও টেকসই কুন্ডেরবাজার সেতু। এই সেতু শুধু নদীর দুই পাড়কে যুক্ত করবে না, খুলে দেবে মুন্সীগঞ্জের যোগাযোগ, কৃষি ও অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় মুন্সীগঞ্জ (ছনবাড়ি)-কুন্ডেরবাজার-শ্রীনগর সড়কের কুন্ডেরবাজার এলাকায় সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি।

  • কুন্ডেরবাজারে ১৫১.৯০ মিটার দীর্ঘ দুই লেনের সেতু নির্মাণে ব্যয় ৬৮ কোটি টাকা

  • সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

  • সুবিধা পাবেন মুন্সীগঞ্জের কয়েক লাখ মানুষ

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩২৮-এর সংসদ সদস্য মমতাজ আলো।

আসছে আধুনিক অবকাঠামো
ইছামতি নদীর ওপর মুন্সীগঞ্জ (হাসাড়া)-কুন্ডেরবাজার-শ্রীনগর (ছনবাড়ি) জেলা মহাসড়কের ষষ্ঠ কিলোমিটারে রয়েছে পুরোনো একটি বেইলি সেতু। জরাজীর্ণ অবস্থা ও সীমিত ভারবহন ক্ষমতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটি যান চলাচলের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছিল।

সেই সেতুর জায়গায় নির্মিত হবে নতুন কুন্ডেরবাজার সেতু। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি সেতু এবং আরসিসি সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্প (ঢাকা জোন)’-এর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

৬৮ কোটি টাকায় ১৫১.৯০ মিটারের সেতু
সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে নির্মিতব্য এ সেতুর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্টিল কম্পোজিট কাঠামোর সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ১৫১ দশমিক ৯০ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ৩০ মিটার। থাকবে দুই লেনের যান চলাচলের সুবিধা।

শুধু সেতু নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না প্রকল্পটি। এর সঙ্গে নির্মাণ করা হবে ৬০০ মিটার সংযোগ সড়ক। পাশাপাশি পুরোনো সেতু প্রতিস্থাপন, সড়ক উন্নয়ন ও নদীতীর সংরক্ষণমূলক কাজও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের প্রস্তাবিত বাস্তবায়নকাল জুন ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত।

কৃষি ও বাণিজ্যের নতুন গতি 
মুন্সীগঞ্জ, টঙ্গিবাড়ী ও সিরাজদীখানসহ আশপাশের এলাকার মানুষের কাছে কুন্ডেরবাজার সেতু কেবল একটি যোগাযোগ অবকাঠামো নয়; এটি অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও নতুন সংযোগ।

এ অঞ্চলে উৎপাদিত আলু, ধান, গম, সরিষা ও মৌসুমি শাকসবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছে দিতে সড়কটির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নতুন সেতু চালু হলে পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল আরও নিরাপদ ও সহজ হবে। কমবে পরিবহনজনিত সময় ও ব্যয়।

একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের যোগাযোগ আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। কৃষক, ব্যবসায়ী, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রী—সব শ্রেণির মানুষই এর সুফল পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বদলে যাওয়ার প্রত্যাশায় তিন উপজেলা 
জরাজীর্ণ সেতুর কারণে যান চলাচলে যে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তি তৈরি হতো, নতুন সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে তার অবসানের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। উন্নত সংযোগ সড়ক ও নদীতীর সংরক্ষণকাজ সেতুটির স্থায়িত্ব এবং সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে।

ইছামতির ওপর কুন্ডেরবাজার সেতু তাই শুধু কংক্রিট, ইস্পাত আর সড়কের সমন্বয় নয়; এটি নিরাপদ যাতায়াত, কৃষিপণ্যের সহজ বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের একটি সম্ভাবনাময় সংযোগ। সেতুটির নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হলে মুন্সীগঞ্জের যোগাযোগের মানচিত্রে যুক্ত হবে নতুন এক অধ্যায়। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি পেরিয়ে ইছামতির দুই পাড়ের মানুষের জন্য শুরু হতে পারে আরও সহজ, নিরাপদ ও গতিশীল যাতায়াতের দিন। 

কালের আলো/এমএএমকে

Link copied!