Kaler Alo
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

দুর্নীতিতে দুর্বল সমবায়, পুনরুজ্জীবনে আইন সংস্কারের তাগিদ রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

দুর্নীতিতে দুর্বল সমবায়, পুনরুজ্জীবনে আইন সংস্কারের তাগিদ রাষ্ট্রপতির

দুর্নীতি, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও বাজারজাতকরণ সংকটে দেশের সমবায় আন্দোলন পিছিয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমবায় খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সংগঠনগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করা, সক্ষমতা বাড়ানো এবং সমবায়-সংশ্লিষ্ট আইন যুগোপযোগী করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকার মতো সক্ষমতা অর্জনে সমবায় সমিতিগুলোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্নীতির কারণে অধিকাংশ সমবায় সমিতি কার্যকারিতা হারিয়েছে। তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি সমিতি সফলভাবে কাজ করছে। সমবায় আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস ও সম্ভাবনা থাকলেও সেই অবস্থান এখন আর নেই।

তিনি বলেন, সমবায় আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হলে প্রথমেই সংগঠনগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে সমিতিগুলো নিজেদের কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারে।

সমবায় আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরলেন রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি জানান, ১৯০৪ সালে সমবায় আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এ আন্দোলন দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সমবায়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগের সঙ্গে সমবায় আন্দোলনকে যুক্ত করে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ষাটের দশকে বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত ড. আখতার হামিদ খানকে পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বার্ডের মহাপরিচালকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। এর ফলে সমবায় আন্দোলন আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

সমবায় খাতের উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ও বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে এ খাত আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এনজিওর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে এনজিও কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ও সফল হয়েছে। এর ফলে সমবায় আন্দোলন পিছিয়ে পড়েছে। এখন সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সমবায় সমিতিগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর মতো ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি সমবায় খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের উপযোগী করে বিদ্যমান আইন সংশোধন এবং যুগোপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

পণ্য বাজারজাতকরণে সমবায়ভিত্তিক কোম্পানির প্রস্তাব
সমবায় সমিতিগুলোর উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সমবায় অধিদপ্তরকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব পণ্য উৎপাদন করে, সেগুলোর যথাযথ বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সমবায়ভিত্তিক কোম্পানি গঠন করা যেতে পারে। এসব কোম্পানি সমবায় সমিতিগুলোর উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, দেশে এ ধরনের উদ্যোগের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। পণ্য বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি দূর করতে হবে।

ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান
সমবায়ের মূল দর্শন একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করা—এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত মোকাবিলা করে সম্মিলিতভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতির মতে, সমবায় আন্দোলনকে নতুন করে শক্তিশালী করতে হলে সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা দূর করার পাশাপাশি নীতিগত সহায়তা, উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

কালের আলো/এএএন/জেএন

Link copied!