রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের নেতারা সস্তা রাজনীতি করতে এসেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতারা জনগণের হৃদয় ও মনের ভাষা বুঝতে পারেননি। এ ঘটনায় তারা পুরোপুরি ধরা খেয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা দিতে ‘মোবাইল ফিভার ক্লিনিক’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
মিরপুরের ঘটনা নিয়ে জামায়াতের আমিরকে কটাক্ষ
মীর শাহে আলম বলেন, বিরোধী দলের বন্ধুরা সস্তা রাজনীতি করেন। মিরপুর-১০ নম্বরে অবৈধ দোকান সরিয়ে দেওয়ার অভিযানের পর জামায়াতের আমির সেখানে সস্তা রাজনীতি করতে এসেছিলেন। কিন্তু জনগণের হৃদয় ও মনের কথা বুঝতে পারেননি। এ ঘটনায় তারা পুরোপুরি ধরা খেয়েছেন। তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় জনগণের ভোট ও ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই দলটির লক্ষ্য। জনগণ কীসে সন্তুষ্ট হবে, কীসে খুশি থাকবে, সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যারা বিনা ভোটে কিংবা দিনের ভোট রাতে করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে না। দলটি সব সময় জনগণের কাছে যেতে এবং জনগণের ভোট ও ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়।
নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের কৃতিত্ব তারেক রহমানকে
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সঙ্গে উপনির্বাচনের ফলাফল তুলনা করে মীর শাহে আলম বলেন, ওই নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপির প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ৪০ হাজার। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এক লাখ ২৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এই বিজয়ের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও সাহসী পদক্ষেপের কারণে জনগণের মধ্যে বিএনপির প্রতি আস্থা ফিরে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, সাত মাসের ব্যবধানে কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের বিপক্ষে যায়—এমন কোনো বিষয়ে কাউকে ছাড় দেবেন না।
ইশরাকের ঘটনায় ইতিবাচক দিক থাকলেও ছিল ভুল
মিরপুরের একটি ঘটনায় বিএনপির দুর্দিনের কর্মী ও সাহসী নেত্রী হিসেবে পরিচিত মিষ্টি আপাকে বলি হতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে মন্ত্রী ইশরাকের ঘটনাটিকে ইতিবাচক দিক থেকে দেখার কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইশরাক কোনো জায়গা দখল করতে কিংবা চাঁদা তুলতে যাননি। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়েছিলেন। তবে সেই লড়াইয়ের পদ্ধতি সঠিক ছিল না। তিনি বলেন, একজন শপথ নেওয়া মন্ত্রী বা প্রশাসক প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারেন না। ইতিবাচক উদ্দেশ্য থাকলেও নেতিবাচক দিক থাকার কারণে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইশরাককে মন্ত্রিপরিষদ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।
জামায়াতের সংসদ সদস্যকে নিয়েও অভিযোগ
জামায়াতের একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে মীর শাহে আলম বলেন, সাতক্ষীরা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে নিজের মেয়ের বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। পরে অতীতের তারিখ দেখিয়ে বিয়ে নিবন্ধনের পর ওই তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ, জামায়াত লোক দেখানোর জন্য ওই সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করলেও সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করায়নি। এটিই বিএনপির সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পার্থক্য।
জামায়াতের আমির ও সেক্রেটারি জেনারেলের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছোটখাটো ঘটনায়ও জনগণের পক্ষে থাকার জন্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। অথচ নিজেদের জনগণের দল দাবি করলেও জামায়াত তাদের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নেতাকর্মীদের সতর্ক করলেন প্রতিমন্ত্রী
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, কেউ যেন অতি উৎসাহী হয়ে কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়েন। মানুষ এ ধরনের আচরণ পছন্দ করে না। বিএনপির প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তিনি বলেন, বিএনপির কোনো কর্মী রাস্তায় কোনো নারীর গায়ে হাত দেওয়া তো দূরের কথা, তাঁর ওড়নায় হাত দিলেও সাধারণ মানুষ তা ভালোভাবে নেবে না। কারণ, বিএনপির কাছ থেকে মানুষ এমন আচরণ প্রত্যাশা করে না।
নিজেদের ভুল ও ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভুল ও ব্যর্থতা রয়েছে। যেখানে ব্যর্থতা আছে, সেখানে সরকার দুঃখ প্রকাশ করছে এবং ক্ষমা চাইছে।
লোডশেডিং নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, লোডশেডিং হলে সরকার গর্ববোধ করে না। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সরকারের বর্তমান, মধ্যমেয়াদি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ পরিকল্পনায় যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের সাত মাস খুব বেশি সময় নয়। তবে এই সময়ের মধ্যেই সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় মোবাইল ফিভার ক্লিনিক
মোবাইল ফিভার ক্লিনিকের কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে। গতবারের তুলনায় এবার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক কমেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, যারা অর্থের অভাবে হাসপাতালে যেতে পারেন না, তাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। বিএনপি জনগণের ভোট নিয়ে বারবার নির্বাচিত হতে চায়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পানি, গ্যাস, চিকিৎসা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, নাগরিক সেবা, ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নের কাজ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ‘ক্লিন ঢাকা’ এবং বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালানো হবে।
ঢাকাবাসীর ভোট নিয়ে আগামী দিনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা কাউন্সিলর ও মেয়র নির্বাচিত হবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ মুহিত এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি
