Kaler Alo
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত, আন্দোলন না করার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত, আন্দোলন না করার আহ্বান

পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দাবি পূরণে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। তাই ভাঙচুর, কারখানা বন্ধ রাখা কিংবা উৎপাদন ব্যাহত হয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত
শ্রমমন্ত্রী জানান, গত শুক্রবার শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই রোববার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর নেতারাও শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনের দাবির বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালিকপক্ষও এ বিষয়ে একমত হয়েছে। ফলে মজুরি বোর্ড গঠন নিয়ে আর কোনো বিরোধ থাকার কথা নয়। এ অবস্থায় শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করেন তিনি।

বকেয়া বেতন পরিশোধে মালিকদের উদ্যোগ
শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়েও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া বেতন পরিশোধের উদ্যোগ নেবেন। এ ছাড়া প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাস্তবায়নের জন্য মালিকপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় উঠে এসেছে।

কারখানা বন্ধ ও ভাঙচুরে শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা
শ্রমমন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে সরকার ও মালিকপক্ষ উদ্যোগ নিয়েছে। তাই কারখানা ভাঙচুর বা বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি করার প্রয়োজন নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। এতে মালিকপক্ষ অর্থ পেতে সমস্যায় পড়বে। আর মালিকদের আয় ব্যাহত হলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আন্দোলনে বাইরের লোকজনের উসকানির অভিযোগ
শ্রমিকদের আন্দোলনে বাইরের কিছু লোক উসকানি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন শ্রমমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকেরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করলেও বাইরে থেকে কিছু ব্যক্তি এসে তাঁদের উত্তেজিত করছেন। এ বিষয়ে প্রকৃত শ্রমিক এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান তিনি। কারা কারখানার নিয়মিত শ্রমিক এবং কারা বাইরে থেকে এসে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন, তা ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী।

শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান
শ্রমিকদের উদ্দেশে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, তাঁদের দাবি পূরণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। মজুরি বোর্ড গঠন এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তাই শ্রমিকদের কাজে ফিরে গিয়ে শিল্পের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করা উচিত। তিনি বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে মালিক, শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এবং বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. রেজওয়ান সেলিমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

Link copied!