Kaler Alo
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬
২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

আপনার কথা শুনছে না সন্তান? রাগ না করে যা করবেন

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

আপনার কথা শুনছে না সন্তান? রাগ না করে যা করবেন

সন্তান বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে তৈরি হয় নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ ও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা। পোশাক নির্বাচন, খাবার পছন্দ কিংবা কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা—ছোটখাটো নানা বিষয়েও সে নিজের মত প্রকাশ করতে চায়। এ সময় অনেক শিশু মা-বাবার কাছে পরামর্শ চাইলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরামর্শ গ্রহণ করে না। এতে অভিভাবকেরা কখনো বিরক্ত হন, আবার কখনো বুঝতে পারেন না, সন্তান আসলে কী চায়।

তবে শিশুর এমন আচরণ সব সময় অবাধ্যতা কিংবা মা-বাবার মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়ার লক্ষণ নয়। অনেক সময় নিজের পছন্দ বুঝে নেওয়া, সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কিংবা শুধু মা-বাবার মতামত জানার জন্যই তারা পরামর্শ চায়। তাই সন্তান আপনার কথা না শুনলে জোর না করে তার চাওয়াটা বোঝার চেষ্টা করাই ভালো।

পরামর্শ চায়, সিদ্ধান্ত নিজের
ধরা যাক, কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য সন্তান মায়ের কাছে জানতে চাইল, কোন পোশাকটি পরলে ভালো লাগবে। মা একটি পোশাক পছন্দ করে দিলেন। কিন্তু সন্তান সেটি পরতে রাজি হলো না। অন্য পোশাক দেখালেও সেটি তার পছন্দ হলো না। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল, সে নিজেই প্রথম পোশাকটি পরে তৈরি হচ্ছে।

এ ধরনের ঘটনা অনেক পরিবারেই দেখা যায়। আসলে শিশু অনেক সময় মা-বাবার কাছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে চায় না। বরং তাঁদের মতামত শুনে নিজের পছন্দের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে চায়। অন্যের পরামর্শ শুনলে নিজের চাওয়াটা আরও পরিষ্কার হতে পারে। ফলে পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করার মধ্য দিয়েও শিশু বুঝতে শেখে, সে আসলে কী চায়।

সিদ্ধান্তের চেয়ে আশ্বাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ
কোনো বিষয়ে দ্বিধায় পড়লে শিশুরা মা-বাবার কাছে মতামত চায়। তবে সব সময় যে তারা মা-বাবার হাতে সিদ্ধান্তের দায়িত্ব তুলে দিতে চায়, তা নয়। অনেক সময় তারা শুধু জানতে চায়, মা-বাবা বিষয়টি কীভাবে দেখছেন। তাঁদের মতামত শুনে নিজের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আশ্বস্ত হতে চায়।

এ কারণে সন্তান পরামর্শ চাইলে শুরুতেই জেনে নেওয়া যেতে পারে, সে কি মা-বাবার কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত চায়, নাকি শুধু তাঁদের মতামত জানতে আগ্রহী। যেমন বলা যায়, ‘তুমি কি চাও আমি তোমার হয়ে একটি বেছে দিই, নাকি কোনটি আমার বেশি পছন্দ, সেটি বলব?’ এতে শিশুও বুঝতে পারবে, পরামর্শ নেওয়া আর সিদ্ধান্তের দায়িত্ব অন্যের হাতে তুলে দেওয়া এক বিষয় নয়।

জোর করলে বাড়তে পারে দূরত্ব
সন্তান পরামর্শ চাওয়ার পরও তা গ্রহণ না করলে অনেক অভিভাবক বিরক্ত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ বলেন, ‘তুমিই তো আমাকে বেছে দিতে বলেছ, এখন আমার কথাই শুনতে হবে।’ কিন্তু এ ধরনের প্রতিক্রিয়ায় ছোট একটি বিষয়ও মা-বাবা ও সন্তানের মধ্যে মতের লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে।

শিশু তখন ভাবতে পারে, মা-বাবার কাছে সাহায্য চাইলে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা হারাতে হবে। এতে ভবিষ্যতে কোনো বিষয়ে পরামর্শ চাইতেও সে অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। তাই সন্তানের মতের সঙ্গে নিজের মত না মিললেও বিরোধে না জড়িয়ে তার পছন্দের কারণ জানার চেষ্টা করা উচিত।

যেভাবে সামলাবেন সন্তানের এমন আচরণ

১. কী ধরনের সাহায্য চায়, বুঝুন
সন্তান শুধু আপনার মতামত জানতে চাইছে, নাকি সত্যিই চায় আপনি তার হয়ে সিদ্ধান্ত নিন—প্রথমেই বিষয়টি পরিষ্কার করে নিন। এতে ভুল বোঝাবুঝি কমবে।

২. বিকল্প সীমিত রাখুন
একসঙ্গে অনেকগুলো বিকল্প সামনে না রেখে দু-তিনটি পছন্দের সুযোগ দিন। এতে শিশুর পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে নিজের পছন্দ প্রকাশের সুযোগও পাবে।

৩. মতভিন্নতাকে স্বাভাবিকভাবে নিন
আপনার পরামর্শ সন্তানের পছন্দ না-ও হতে পারে। এ নিয়ে তর্ক না করে জানতে চান, কেন সে অন্য বিকল্পটি বেছে নিতে চায়। তার মতামত মনোযোগ দিয়ে শুনুন।

৪. প্রয়োজন অনুযায়ী সীমা নির্ধারণ করুন
সব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শিশুকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া সম্ভব নয়। নিরাপত্তা, সময় কিংবা পারিবারিক নিয়মের সঙ্গে কোনো বিষয় জড়িত থাকলে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করুন। তবে কেন সেই সীমা মানতে হবে, তা শিশুকে বুঝিয়ে বলুন।

৫. ছোট সিদ্ধান্ত নিজে নিতে দিন
কোনো পোশাক পরবে, কোন বই পড়বে কিংবা অবসরে কী খেলবে—এ ধরনের ছোটখাটো বিষয়ে শিশুকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিন। এতে নিজের পছন্দ সম্পর্কে ধারণা তৈরি হবে এবং ধীরে ধীরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।

সন্তানের দ্বিধার কারণও বুঝতে হবে
সন্তান যদি প্রায় প্রতিটি বিষয়েই সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় পড়ে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। সে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভয় পাচ্ছে কি না, মা-বাবাকে হতাশ করতে চায় কি না কিংবা নিজের পছন্দ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছে না—এসব কারণ বোঝার চেষ্টা করুন।

সন্তানের সব সিদ্ধান্ত মা-বাবাকেই নিতে হবে, এমন নয়। অনেক সময় সে শুধু চায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় মা-বাবা পাশে থাকুন। এই পার্থক্য বুঝতে পারলে দৈনন্দিন ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অযথা বিরোধ কমবে। একই সঙ্গে সন্তান নিজের পছন্দ প্রকাশ করতে এবং সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নিতে শিখবে।

সন্তানকে বড় করে তোলার অর্থ শুধু সঠিক সিদ্ধান্তের পথ দেখানো নয়, বরং তাকে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে শেখানোও। তাই সব সময় নিজের মত চাপিয়ে না দিয়ে সন্তানের কথা শুনুন, তার পছন্দকে গুরুত্ব দিন এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকুন। এতে মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক যেমন সহজ হবে, তেমনি তার আত্মবিশ্বাসও গড়ে উঠবে।

কালের আলো/এএন/জেএন

Link copied!