Kaler Alo
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬
২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

চোখের স্ক্যানেই ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি শনাক্ত করবে এআই

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

চোখের স্ক্যানেই ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি শনাক্ত করবে এআই

চোখের নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমেই শরীরের ভেতরে বাসা বাঁধা বিভিন্ন রোগের আগাম সংকেত পাওয়া যেতে পারে। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো জটিল অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এ প্রযুক্তির সাহায্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশের আগেই শরীরের সূক্ষ্ম পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

এ লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের সান্ডারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নর্দার্ন অপথালমিক রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন’ (নোরি) হাব প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ পাউন্ড সরকারি অনুদান পেয়েছে। ‘ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন’ (ইউকেআরআই)-এর মাধ্যমে পাওয়া এ অর্থ দিয়ে প্রযুক্তিটির উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণের কাজ করা হবে।

চোখের স্ক্যানেই মিলবে রোগের আগাম সংকেত
গবেষকদের মতে, চোখের পেছনের ক্ষুদ্র রক্তনালি ও স্নায়ুকলা মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। শরীরে কোনো রোগের দৃশ্যমান লক্ষণ প্রকাশের আগেই এসব অংশে সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সেই পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য রোগের ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

এ প্রযুক্তিতে চোখের নিয়মিত স্ক্যানের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএসের স্বাস্থ্য রেকর্ড এবং কমিউনিটি ডেটা বিশ্লেষণ করা হবে। এসব তথ্য একত্রে পর্যালোচনা করে শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্তের চেষ্টা করবেন গবেষকেরা।

প্রথম ধাপে লক্ষ্য ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ
প্রকল্পটির প্রাথমিক পর্যায়ে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি শনাক্তে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হবে। তবে ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ডিমেনশিয়া ও স্ট্রোকের মতো রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তেও এটি কাজে লাগতে পারে।

নোরির সহ-পরিচালক এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক অন্তর্বর্তী প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ম্যাথিউ ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, সরকারি অনুদান প্রযুক্তিটির উন্নয়ন, বাস্তব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় পরীক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, ‘এই বিনিয়োগ উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবনের একটি নতুন ইকোসিস্টেম তৈরি করবে।’

ক্যাম্পবেল আরও বলেন, এখন তাদের কাছে এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, বাস্তব স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশে পরীক্ষা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার মতো সক্ষমতা ও পরিসর রয়েছে।

চিকিৎসাসেবায় কমবে চাপ, বাড়বে আগাম শনাক্তের সুযোগ
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানমন্ত্রী ক্রিস ম্যাকডোনাল্ড প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, রোগ দ্রুত শনাক্ত করা গেলে রোগীদের চিকিৎসার ফলাফল উন্নত হয়। একই সঙ্গে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএসের ওপর চাপ কমাতেও এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষকদের প্রত্যাশা, চোখের নিয়মিত পরীক্ষার সঙ্গে এআই প্রযুক্তি যুক্ত হলে রোগ শনাক্তের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এতে চিকিৎসকেরা সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগেভাগে ধারণা পেতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের পরবর্তী পরীক্ষা ও চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারবেন।

তবে প্রযুক্তিটি এখনো উন্নয়ন ও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। তাই চোখের স্ক্যানের ফলকে চূড়ান্ত রোগ নির্ণয় হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বরং ভবিষ্যতে এটি রোগের ঝুঁকি শনাক্ত ও চিকিৎসাসেবায় সহায়ক একটি পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি করছে।

কালের আলো/এএন/জেএন

Link copied!