আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংঘটিত ঘটনার জেরে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অশালীন আচরণ, গালাগাল ও হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে তাঁকে।
পরীমণি ছাড়াও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রোববার সকালে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে তিনজনের ঠিকানায় নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নোটিশদাতা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার।
সাত দিনের মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধ
আইনি নোটিশে পরীমণিকে ভবিষ্যতে সব ধরনের অশালীন কথা বা সংলাপ, হুমকি, অশালীন অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি ও নৃত্য থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের কোনো শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই।
অন্যদিকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে পরীমণিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নোটিশদাতা আইনজীবী।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ
আইনি নোটিশে গত ৫ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পরীমণি।
৫ নভেম্বর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় তাঁর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কি হয়। এ সময় পরীমণি সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মুঠোফোন কেড়ে নেন বলে নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত ট্রাইপড ভেঙে ফেলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই ঘটনায় জাগো নিউজের প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার, আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন এবং টাইমস টুডের শাহ রিয়াজ আহত হন বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া সুজন চন্দ্র মণি দাস নামে এক বিচারপ্রার্থীও আহত হন। তাঁর মাথা ফেটে রক্তপাতের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগ
নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরীমণি সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের দিকে তেড়ে যান এবং তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। একপর্যায়ে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকিও দেন বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, রবিউল হোসাইনের ডান হাত জন্মগতভাবে ছোট এবং ওই হাতে তিনটি আঙুল নেই। এমন একজন পেশাগত সাংবাদিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ তাঁর পেশাগত মর্যাদার পাশাপাশি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ।
আদালতের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন
আইনি নোটিশে আরও বলা হয়েছে, আদালত প্রাঙ্গণে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। সেখানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে আদালতের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ কিংবা পেশিশক্তি প্রদর্শনের সুযোগ কারও নেই। একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত নয় বলেও নোটিশে উল্লেখ করেছেন আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার।
কালের আলো/এসএ/আরআইকে
