অভিনেত্রী তানজিন তিশার সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয় শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। শুটিং সেটে অভিনেত্রী সামিয়া অথৈয়ের সঙ্গে বিরোধ, মারধরের অভিযোগ এবং সংগঠনের সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করার পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় সামিয়া অথৈয়ের সদস্যপদও স্থগিত করেছে সংগঠনটি।
সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তানজিন তিশা। প্রায় ২৫ মিনিটের লাইভে তিনি সামিয়া অথৈয়ের সঙ্গে বিরোধ, সংগঠনের সালিশ বৈঠক এবং গত এক বছরে তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্ক নিয়ে কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ নিয়ে আপত্তি
লাইভে তিশা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণার কারণে শিল্পীরা সমালোচনার মুখে পড়েন। কাজের জায়গায় মতের অমিল বা বিরোধ তৈরি হতেই পারে। তবে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে কিংবা সাংবাদিকদের জানিয়ে অন্য কারও ক্যারিয়ারের ক্ষতি করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।
গত এক বছরে তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা বিতর্ক প্রসঙ্গেও কথা বলেন অভিনেত্রী। তিশার ভাষ্য, ‘গত এক বছরে অনেক কিছু দেখলাম, শাড়ি-কাণ্ডও দেখলাম। আজ হোক বা কাল, সবকিছু সবার সামনে আসবে। আমি শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।’
শুটিং সেটের ঘটনা নিয়ে তিশার বক্তব্য
সামিয়া অথৈয়ের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিং সেটে। ওই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিশা বলেন, নাটকটির সেটে একজন শিল্পীর সঙ্গে তাঁর সমস্যা হয়েছিল। শুটিং ইউনিটের সবাই ঘটনাটি দেখেছেন এবং কী ঘটেছিল, তা তাঁদের জানা আছে।
নাটকে মানসিক প্রতিবন্ধী চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিশা। তাঁর দাবি, নাটকের দৃশ্য দেখলেই দর্শক বুঝতে পারবেন সেখানে কী ঘটেছিল এবং কে কীভাবে অভিনয় করেছেন। নির্যাতনের অভিযোগ নিয়েও দর্শকেরা দৃশ্যটি দেখে ধারণা পাবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পাঁচ ঘণ্টার সালিশ বৈঠক
শুটিং সেটের ঘটনার পর ফেসবুকে তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলেন সামিয়া অথৈ। পরে দুজনকেই ডেকে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে অভিনয় শিল্পী সংঘ। তিশা জানান, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে বৈঠকে পুরো ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।
তিশার দাবি, বৈঠকে দুজনকেই ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিতে এবং ভিডিও বার্তা পাঠাতে বলা হয়েছিল। তবে সামিয়া অথৈ ভিডিও বার্তা দেননি, তিনিও কোনো কারণে সেটি পাঠাতে পারেননি। সংগঠনের নোটিশ অমান্য করার কারণেই তাঁকে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।
সদস্যপদ স্থগিতের কারণ জানাল সংগঠন
অভিনয় শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ৭ জুলাই তানজিন তিশাকে সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই নোটিশের লিখিত জবাব জমা দেননি তিনি।
সংগঠনের চিঠিতে আরও বলা হয়, সালিশ ও বিরোধ নিষ্পত্তির বৈঠকে আলোচনার পর কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় তিশার সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে সংগঠনের ফেসবুক পেজে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা মিঠু।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানিয়েছেন, বিরোধ মেটাতে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই অভিনেত্রীকে ভিডিও বার্তা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কেউই তা দেননি। এ কারণেই দুজনের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে তিশা ফেসবুক লাইভে প্রতিক্রিয়া জানালেও সামিয়া অথৈ এখনো বিস্তারিত কিছু বলেননি। যোগাযোগ করা হলে তিনি শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান।
কালের আলো/আরআইকে/জেএন
