Kaler Alo
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬
২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

কালের আলো রিপোর্ট

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় বিনিয়োগ, চীনের ২০ জে-১০সিই কিনছে বাংলাদেশ

কালের আলো রিপোর্ট

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় বিনিয়োগ, চীনের ২০ জে-১০সিই কিনছে বাংলাদেশ

আকাশসীমার নিরাপত্তা, আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি আর সামরিক সক্ষমতার সমন্বয়ে নতুন এক অধ্যায়ের পথে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। বাহিনীর বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে চীনের তৈরি ৪ দশমিক ৫ প্রজন্মের ২০টি জে-১০সিই মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট। গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে ফরাসি রাফালের বিপরীতে আলোচনায় আসা এই যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এখন নীতিগত ও আর্থিক অনুমোদনের পর্যায় অতিক্রম করেছে। প্রকল্পের অর্থ পরিশোধে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দেওয়ার অনুমোদনও দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সরকার থেকে সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থাপনায় চীনের কাছ থেকে যুদ্ধবিমানগুলো সংগ্রহের এ উদ্যোগে ব্যয় ধরা হয়েছে সুদসহ ২১৩ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের মধ্যেই যুদ্ধবিমানগুলো বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

  • সুদসহ ব্যয় সাড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা; দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড শেষে ছয় কিস্তিতে পরিশোধ 
  • ক্রয়প্রকল্পে মিলেছে নীতিগত ও আর্থিক অনুমোদন
  • প্যাকেজে থাকছে রক্ষণাবেক্ষণ ও যুদ্ধাস্ত্র

২০ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আসছে সমন্বিত প্যাকেজ
চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল অ্যারো-টেকনোলজি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএটিআইসি) থেকে কেনা হচ্ছে জে-১০সিই যুদ্ধবিমানগুলো। এ প্রকল্পে মূল যুদ্ধবিমানের মূল্য প্রায় ১৯৬ কোটি মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে সুদ বাবদ ব্যয় যুক্ত হবে আরও ১৭ কোটি ডলার। চুক্তির আর্থিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম কিস্তিতে মোট মূল্যের ২০ শতাংশ অর্থ অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে। এ বাবদ পরিশোধের পরিমাণ ৩৯ দশমিক ১৯ কোটি ডলার।

এরপর দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড শেষে বাকি অর্থ ছয়টি অসমান বার্ষিক কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকবে। এই ক্রয় প্যাকেজে যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি থাকছে লজিস্টিকস সহায়তা, পাইলট ও ক্রুদের প্রশিক্ষণ, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নত যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা। অর্থাৎ, যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সঙ্গে এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত সহযোগিতাও চুক্তির অন্তর্ভুক্ত।

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন, এগোচ্ছে ক্রয়প্রক্রিয়া
সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চীন সরকারের কাছ থেকে জি-টু-জি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়েছে বিমানবাহিনীর সদর দপ্তর। যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি কমিটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে। তিনি বলেন, রাফালকে ৪ দশমিক ৫ প্রজন্মের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে জে-১০সিই খুব ভালো করেছে। তাই বাংলাদেশ বিমানটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

যে প্রযুক্তিতে আলাদা পরিচিতি জে-১০সিই-এর
এক ইঞ্জিন ও এক আসনের জে-১০সিই চীনের বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত জে-১০সি যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ। আধুনিক মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান হিসেবে এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে অ্যাকটিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (এইএসএ) রাডার। এই রাডারের মাধ্যমে একই সময়ে একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও ট্র্যাক করা যায়। শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রতিরোধেও এটি কার্যকর। যুদ্ধবিমানটি চীনের তৈরি দূরপাল্লার বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল ‘পিএল-১৫’ নিক্ষেপে সক্ষম। এই ক্ষেপণাস্ত্র আধুনিক পশ্চিমা ও রুশ যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশযুদ্ধে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া উন্নত ডেটা লিংক এবং এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে নেটওয়ার্ককেন্দ্রিক সমন্বয়ের সক্ষমতা রয়েছে জে-১০সিই-এর। সমমানের ইউরোপীয় যুদ্ধবিমান রাফাল ও ইউরোফাইটার টাইফুনের তুলনায় এর কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত সংক্ষিপ্ত আকাশযুদ্ধ ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর জে-১০সি যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা প্রদর্শনের পর বিমানটি নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ে। বিশেষ করে বাংলাদেশের আগ্রহও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

অর্থ পরিশোধে ছয় কিস্তি, অনুমোদন রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির
যুদ্ধবিমান কেনার আর্থিক বিষয়টি নিয়ে চীনের সঙ্গে নেগোসিয়েশনের আগেই অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে মৌখিক আলোচনা করেছিল বিমানবাহিনী। রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির অনুমোদনের জন্য অর্থমন্ত্রীকে পাঠানো সারসংক্ষেপে অর্থ পরিশোধের কাঠামো ও সরকারি দায়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ২০টি জে-১০সিই এমআরসি যুদ্ধবিমানের মোট মূল্যের ৮০ শতাংশ অর্থ পরবর্তী সময়ে ছয়টি অসমান বার্ষিক কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে।

এটি মূলত বাকিতে কেনার ব্যবস্থা। ফলে যুদ্ধবিমানগুলোর অপরিশোধিত অর্থ সরকারের সরাসরি দায় হিসেবে বিবেচিত হবে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের সরাসরি দায় পরিশোধের জন্য সাধারণত সরকারের গ্যারান্টি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে প্রকল্পটির স্পর্শকাতরতা এবং বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ বিবেচনায় মোট মূল্যের ওপর রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দেওয়া যেতে পারে।

ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন সংযোজন
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এ যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনাকে গতিশীল করে। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারও এই প্রতিরক্ষা নীতি অব্যাহত রেখেছে।

বিমানবাহিনীর বর্তমান বহরে রয়েছে পুরোনো এফ-৭ এবং সীমিতসংখ্যক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান। এসব যুদ্ধবিমানের পরিবর্তে আধুনিক ফাইটার জেট যুক্ত করার পরিকল্পনা থেকেই জে-১০সিই কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

Link copied!