Kaler Alo
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

সমাধিসৌধ-লেক-জাদুঘরে নতুন সাজ, বদলে যাচ্ছে জিয়া উদ্যান

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

সমাধিসৌধ-লেক-জাদুঘরে নতুন সাজ, বদলে যাচ্ছে জিয়া উদ্যান

নতুন রূপে সেজে উঠছে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ঐতিহাসিক জিয়া উদ্যান। আধুনিক অবকাঠামো, নান্দনিক পরিবেশ ও দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বদলে যাচ্ছে পুরো উদ্যান ও সমাধি প্রাঙ্গণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধের সংস্কার থেকে শুরু করে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, আর্কাইভ, গ্রন্থাগার ও অডিটরিয়ামের আধুনিকায়ন—সবখানেই চলছে উন্নয়নকাজ। নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ক্রিসেন্ট লেকের ফোয়ারা। লেকের পাড়ে তৈরি হচ্ছে ওয়াকওয়ে। দর্শনার্থীদের জন্য নির্মিত হচ্ছে আধুনিক পাবলিক টয়লেট, নিশ্চিত করা হচ্ছে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা।

  • জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল পুনর্নির্মাণসহ পুরো প্রাঙ্গণে ব্যাপক সংস্কার 
  • ১৫ কোটি টাকার প্রকল্পে নতুন সাজে লেক, ফোয়ারা ও জাদুঘর
  • ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন রূপে সাজানোর লক্ষ্য

সব মিলিয়ে ২১টি পৃথক খাতে প্রায় ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫৯৪ টাকা ব্যয়ে চলছে ব্যাপক সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এসব প্রকল্প। লক্ষ্য, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজের বড় অংশ শেষ করে জিয়া উদ্যান ও সমাধি প্রাঙ্গণকে আরও আকর্ষণীয়, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক রূপে সাজিয়ে তোলা।

এবারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় শুধু স্থাপনার সৌন্দর্য বাড়ানো নয়, দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে সংস্কারকাজ শেষ হলে জিয়া উদ্যান হয়ে উঠবে স্মৃতিচারণ, অবসরযাপন ও পারিবারিক ভ্রমণের জন্য আরও উপযোগী একটি স্থান।

সমাধিসৌধ ও জাদুঘরে বড় উন্নয়ন
সংস্কারকাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে রয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধ। সমাধির মার্বেল ফ্লোর পলিশ, উইং ওয়ালের গ্রানাইট সংস্কার, ক্যালিগ্রাফি প্রতিস্থাপনসহ আনুষঙ্গিক উন্নয়নকাজে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার ৯১০ টাকা।

অন্যদিকে, জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, আর্কাইভ ও গ্রন্থাগারের সিভিল ও বৈদ্যুতিক সংস্কার এবং নতুন আসবাব কেনার জন্য ব্যয় হচ্ছে ৩ কোটি ২ লাখ ৭ হাজার ১৮৮ টাকা। এর ফলে স্মৃতিবিজড়িত এসব স্থাপনা আরও আধুনিক ও দর্শনার্থীদের ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠবে। সমাধিস্থলের অডিটরিয়ামেও যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। ৫৩ লাখ ৪৭ হাজার ১১৯ টাকা ব্যয়ে স্টেজ লাইট ও সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ২৩৩ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হচ্ছে এলইডি স্ক্রিন। মেমোরিয়াল হলের জন্য নতুন আসবাব কেনা ও স্থাপনেও নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ।

ক্রিসেন্ট লেকে ফিরছে নতুন সৌন্দর্য
জিয়া উদ্যানের অন্যতম আকর্ষণ ক্রিসেন্ট লেককে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে থাকা ফোয়ারাটি সংস্কার করে আবারও সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে বরাদ্দ রয়েছে ১ কোটি ৪৯ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫০ টাকা।

লেকের গাইড ওয়াল মেরামত, ফ্লাশ পয়েন্টিং এবং নিচতলার সলিং সংস্কারেও চলছে কাজ। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ টাকা। লেকের ওপর সেতুর ভাঙা মার্বেল প্রতিস্থাপন, ওয়াটার রিপেলেন্ট কাজ ও স্টিল ফ্রেমে নতুন রঙের জন্য ব্যয় হচ্ছে ৩৩ লাখ ৫ হাজার ৪০৬ টাকা।

লেকের দক্ষিণ পাশে সি রোডের ফুটপাত ঘিরে তৈরি হচ্ছে ইটের বেষ্টনী। পাশাপাশি পুকুরপাড়জুড়ে নির্মাণ করা হবে নতুন ওয়াকওয়ে। এ কাজের জন্য ৬৪ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৭ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এসব কাজ শেষ হলে লেককেন্দ্রিক পুরো এলাকাটি আরও দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠবে।

দর্শনার্থীদের জন্য বাড়ছে নাগরিক সুবিধা
উন্নয়ন পরিকল্পনায় দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নারী, পুরুষ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহারের উপযোগী দুটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট ব্লক নির্মাণ করা হচ্ছে। উদ্যানের পূর্ব পাশে মেট্রো স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় একটি এবং পশ্চিম পাশে পাম্পহাউসের কাছে আরেকটি টয়লেট ব্লক তৈরি হচ্ছে। এ দুই স্থাপনায় ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৯৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে উদ্যানের ভেতরে স্থাপন করা হচ্ছে দুটি গভীর নলকূপ। এর সঙ্গে থাকছে পাম্প মোটর এবং পানি সরবরাহের পাইপলাইন। এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ ৯ হাজার ৪৮৩ টাকা। উদ্যানের উত্তর পাশে মসজিদ থেকে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র পর্যন্ত নতুন বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ব্যয় হচ্ছে ৭৫ লাখ ৩ হাজার ৩৫০ টাকা। পাশাপাশি মেমোরিয়াল কমপ্লেক্সের টয়লেট ব্লকগুলোর টাইলস ও স্যানিটারি ফিটিংসও নবায়ন করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্ব
জিয়া উদ্যান ও সমাধি প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু উদ্যোগ। সমাধিস্থলের মসজিদ, অডিটরিয়াম, জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, আর্কাইভ ও পাঠাগারসহ বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। এ কাজে ব্যয় হচ্ছে ২৮ লাখ ২৭ হাজার ১৬৮ টাকা।

বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে সমাধিস্থলে স্থাপন করা হচ্ছে ১০০ কেভিএ জরুরি জেনারেটর। এ ছাড়া ৪০০ কেভিএ সাবস্টেশন মেরামত, অডিটরিয়ামের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং মসজিদের সিভিল ও বৈদ্যুতিক সংস্কারের কাজও চলছে। উদ্যানের সৌন্দর্য আরও বাড়াতে আরবি কালচার ও ল্যান্ডস্কেপিং উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ কাজের জন্য ২১ লাখ ৬৯ হাজার ২১৭ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সবুজায়ন ও নান্দনিক পরিবেশ উন্নয়নের এসব উদ্যোগ পুরো এলাকাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

ডিসেম্বরেই দৃশ্যমান হবে পরিবর্তন
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাধিসৌধের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণসহ পুরো উদ্যানের সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর ডিসেম্বরের মধ্যে কাজের বড় অংশ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘জিয়া উদ্যান এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলের সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। উদ্যানে আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে সেখানে নানা কিছু যোগ করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এসব কাজের বড় অংশগুলো শেষ হবে।’

সব মিলিয়ে জিয়া উদ্যানকে ঘিরে চলমান এই উন্নয়ন উদ্যোগ রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও স্মৃতিবিজড়িত স্থানকে নতুনভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করেছে। সমাধিসৌধের নান্দনিকতা, জাদুঘরের আধুনিকায়ন, লেকের সৌন্দর্য এবং দর্শনার্থীদের বাড়তি সুযোগ-সুবিধা—সবকিছু মিলিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন অবয়বে দেখা যেতে পারে পুরো জিয়া উদ্যান। উন্নয়নকাজ শেষ হলে ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি এটি রাজধানীবাসীর জন্য আরও আকর্ষণীয় ও স্বাচ্ছন্দ্যময় একটি দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠবে।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

Link copied!