Kaler Alo
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬
২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

কালের আলো রিপোর্ট

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম

শ্রমিক অসন্তোষ কাটিয়ে রোববার থেকে পুরোদমে উৎপাদনে ফিরছে পোশাকশিল্প

কালের আলো রিপোর্ট

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম

শ্রমিক অসন্তোষ কাটিয়ে রোববার থেকে পুরোদমে উৎপাদনে ফিরছে পোশাকশিল্প

টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ ও উৎপাদন বন্ধ থাকার পরিস্থিতি কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প। আগামীকাল রোববার (৮ নভেম্বর) থেকে অধিকাংশ কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন মালিকেরা। একই দিনে শ্রমিকদের অক্টোবর মাসের বেতন পরিশোধের কথা রয়েছে। এতে কর্মক্ষেত্রে অস্থিরতা আরও কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অক্টোবরের বেতন পরিশোধের প্রস্তুতি, কমতে পারে শ্রমিক অসন্তোষ
শিল্পাঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতির চিত্র দেখা গেছে। শুক্রবার সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের উপস্থিতি বেড়েছে। সাভার ও আশুলিয়ার ৮৮টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি সড়কে বিক্ষোভ ও উত্তেজনাও আগের তুলনায় কমেছে।

শিল্পাঞ্চল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার শ্রমিক অসন্তোষের জেরে আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের প্রায় ১৩০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এর মধ্যে সাভার ও আশুলিয়ায় ৭০টি, গাজীপুরে ৫০টি এবং নারায়ণগঞ্জে আটটি কারখানা রয়েছে।

সাভার-আশুলিয়াসহ শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতির উন্নতি, সচল ৮৮ কারখানা
শিল্পমালিকেরা আশা করছেন, শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির পর রোববার থেকে অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে। কয়েক দিনের অস্থিরতায় উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বাড়তি উৎপাদনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও পোশাকশিল্পের সংকট পুরোপুরি কাটেনি। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর মতে, উৎপাদন স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা না গেলে রপ্তানি আদেশ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের অন্যতম প্রধান কারণ মজুরি বৃদ্ধি। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। গত বুধবার নতুন মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরিকাঠামো কার্যকরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন পাওয়ার কথা শ্রমিকদের।

নতুন মজুরিকাঠামো জানুয়ারি থেকে কার্যকরের কথা, শ্রমিকদের দাবি ৩০ হাজার টাকা
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ফলে শ্রমিকদের দাবিগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।

সব মিলিয়ে কয়েক দিনের অস্থিরতা কাটিয়ে পোশাকশিল্পে উৎপাদনের গতি ফেরানোর চেষ্টা চলছে। রোববার থেকে কারখানাগুলো পুরোদমে চালু হলে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে স্বস্তি ফিরবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এমএএইচ/এমকে

Link copied!