Kaler Alo
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬
২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম

কোম্পানি আইনে পরিবর্তন চান আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম

কোম্পানি আইনে পরিবর্তন চান আইনমন্ত্রী

আইনজীবীদের জন্য পেশাগত কাজের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি কোম্পানিতে একজন করে আইনজীবী বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এ জন্য কোম্পানি আইন পরিবর্তনের বিষয়েও বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান আইনমন্ত্রী।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর পুরান ঢাকায় নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণে ঢাকা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কোম্পানিতে হিসাব-নিকাশ দেখার জন্য একজন করে অডিটর বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ দিতে হয়। একইভাবে প্রতিটি কোম্পানিতে একজন করে আইনজীবী রাখার বিষয়েও বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলেছেন তিনি। এ জন্য কোম্পানি আইনে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি নিজে যাচাই করে দেখবেন বলেও জানান।

আইনজীবীদের প্রশিক্ষণে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ
আইনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের চিন্তার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা ও জ্ঞান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনজীবীদের নিজেদের জ্ঞান, মেধা, প্রজ্ঞা, শিক্ষা ও মনন সমৃদ্ধ করতে হবে। কীভাবে আইন পেশাকে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটিই তাঁদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আইনমন্ত্রী জানান, আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য এ বছর ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এবং রূপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত দেশের প্রায় ৮০ হাজার আইনজীবীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, আইনজীবীরা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের সুযোগ পান না। এ অবস্থার পরিবর্তন এবং পেশাগত মান উন্নয়নের জন্যই এ বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আইন পেশাকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া সরকারের অঙ্গীকার।

নবীন আইনজীবীদের সততার সঙ্গে কাজের পরামর্শ
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে আসাদুজ্জামান বলেন, তাঁদের সব সময় বড় পরিসরের আইনজীবী হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। বিচারকদের সঙ্গে অনৈতিক লেনদেন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, জজ সাহেবদের সঙ্গে লেনদেনের পথে যাওয়া যাবে না।

আইনজীবী সুরক্ষা আইনের আগে পেশাগত অসদাচরণ রোধে গুরুত্ব
আইনজীবী সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আইনজীবীদের সুরক্ষা আইন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে এ আইন প্রণয়নের আগে বার কাউন্সিলের পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালগুলোকে আরও গতিশীল করতে হবে। তিনি বলেন, দু-একজন আইনজীবীর আচরণের কারণে পুরো আইনজীবী সমাজ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। এমনকি কিছু মানুষের আচরণের কারণে আইনজীবীদের বাসা ভাড়া দিতে বা পারিবারিক সম্পর্ক গড়তে অনেকে অনাগ্রহী হন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রথমে বার কাউন্সিলের ট্রাইব্যুনালগুলোকে কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে। পেশাগত অসদাচরণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সমাজ থেকেই আইনজীবীদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দাবি উঠবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধিরা
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক ইলতুৎমিশ সওদাগর এ্যানির সঞ্চালনায় এবং অফিস সেক্রেটারি আবজাল হোসাইন মৃধার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির, ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন, ঢাকার ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ইকবাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কালাম খান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

Link copied!