মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে বারাশিয়া নদী। নদীটি পার হতে সময় লাগে বড়জোর আধা থেকে এক মিনিট। অথচ একটি পাকা সেতুর অভাবে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দুই ইউনিয়নের নয়টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ছয় কিলোমিটার পথ ঘুরে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান। ফলে স্থানীয়দের নিজেদের উদ্যোগে তৈরি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই এখন দুই পাড়ের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা।
উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের জালিয়াডাঙ্গা এলাকায় বারাশিয়া নদীর ওপর সাঁকোটির অবস্থান। চতুল ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর, শুকদেবনগর, রামদেবনগর ও আরাজী বাইখীর এবং গুনবহা ইউনিয়নের জালিয়াডাঙ্গা, ধোপাপাড়া, দরিহরিহরনগর, চাপলডাঙা ও গুনবহা গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে নদী পার হন।
নিজেদের টাকায় মেরামত, বর্ষায় বাড়ে ঝুঁকি
সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষ জরাজীর্ণ সাঁকোটি ব্যবহার করছেন। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর চাঁদা তুলে নিজেদের অর্থে বাঁশ ও খুঁটি কিনে সাঁকোটি মেরামত করতে হয়। বর্ষায় নদীতে পানি বাড়লে পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। দুর্বল কাঠামোর কারণে যেকোনো সময় সাঁকোটি ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
জালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সাব্বির হোসেন বলেন, ‘মাত্র ১২০ মিটারের একটি পাকা সেতু থাকলে ৩০ সেকেন্ডেই নদী পার হওয়া যেত। কিন্তু সেতুর অভাবে বাইখীর চৌরাস্তা ঘুরে বাজারে যেতে আমাদের অতিরিক্ত ছয় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। অবিলম্বে জালিয়াডাঙ্গা ফুলতলা ঈদগাহ এলাকায় একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হোক।’
সভায় প্রস্তাব, প্রকল্পে নেই সেতু
চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আঞ্চলিক মহাসড়কের বাইখীর ক্লাবঘর থেকে শুকদেবনগর হয়ে জালিয়াডাঙ্গা সড়কের শেষ প্রান্তে সেতুটি নির্মাণের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন সভায় একাধিকবার প্রস্তাব তোলা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীর বিবেচনাতেও রয়েছে। সেতুটি নির্মিত হলে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র বদলে যাবে এবং মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
সেতু নির্মাণে জটিলতার বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্ণেন্দু সাহা জানান, প্রস্তাবিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ১০০ মিটারের বেশি, প্রায় ১২০ মিটার। চলমান গ্রামীণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ১০০ মিটারের কম দৈর্ঘ্যের সেতু অন্তর্ভুক্তির সুযোগ থাকায় এটি আপাতত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে নতুন কোনো বড় প্রকল্প এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেতুটি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একটি সেতুর অভাবে প্রতিদিন সময় ও অর্থ দুটিই ব্যয় করতে হচ্ছে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষকে। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কালের আলো/আইপি/জেএন
