কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্রবধূ সমাজকর্মী নাইমা খন্দকার প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দাউদকান্দির কয়েকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় ও সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ করেও ২০ দিন ধরে কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নাইমা খন্দকার এসব অভিযোগ করেন।
স্বামী বিদেশে থাকায় হয়রানির অভিযোগ
নাইমা খন্দকারের দাবি, তাঁর স্বামী খন্দকার মাহবুব হোসেন তুষার বর্তমানে তাঁর শ্বশুর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। এ সুযোগে তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নাজেহাল করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাণনাশের ভয়ভীতিও দেখানো হচ্ছে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যেকোনো সময় তাঁর প্রাণনাশসহ বড় ধরনের ক্ষতি করা হতে পারে। প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে দাউদকান্দির কয়েকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এসব হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
২০ দিনেও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ
নাইমার ভাষ্য, এ ঘটনায় গত ২০ দিন ধরে দাউদকান্দি থানা ও সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবারের পুত্রবধূ হয়েও যদি নিজ এলাকায় এমন হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হতে হয়, তাহলে সাধারণ পরিবারের নারীদের নিরাপত্তা কোথায়?
অভিযোগের পেছনে কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কুমিল্লা জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ড. মোশাররফ
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে সিঙ্গাপুরে রয়েছেন।
নাইমা খন্দকার জে. হুদা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ও সচিব। এ ছাড়া জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কুমিল্লা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে নারী ও শিশুদের অধিকার এবং অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন এই সমাজকর্মী।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলো শনাক্ত করতে সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি
