Kaler Alo
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা,কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

হাকালুকি-বাইক্কা বিলে সংকটে ১৪৩ প্রজাতির মাছ

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা,কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

হাকালুকি-বাইক্কা বিলে সংকটে ১৪৩ প্রজাতির মাছ

প্রয়োজনীয় খনন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে মৌলভীবাজারের হাকালুকি ও হাইল হাওরের ১০টি সরকারি মৎস্য অভয়াশ্রম। দীর্ঘদিন ধরে পলি ও বালু জমে ভরাট হয়ে গেছে এসব জলাভূমির বিভিন্ন অংশ। কমে গেছে পানির গভীরতা, সংকুচিত হচ্ছে মাছের বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র। পাশাপাশি কচুরিপানা ও আগাছার বিস্তারে ব্যাহত হচ্ছে জলজ পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য। এতে হুমকির মুখে পড়েছে হাওরের জীববৈচিত্র্য এবং দেশীয় প্রায় ১৪৩ প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় মাছের প্রজনন, বংশবিস্তার ও নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি হাকালুকি হাওরের কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ী অংশে পাঁচটি বিলসহ মোট নয়টি বিলকে স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে তেকুনিয়া, মাইয়াজুড়ি, কোয়ার কোনা, মাইছলার ডাক ও সানে মেদী বিল। ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে এসব অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে সানে মেদী বিলের এক হেক্টর জলাশয় এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অন্যদিকে, শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে ১১৮ হেক্টর এলাকাজুড়ে তিনটি বিল নিয়ে ২০০৩ সালে গড়ে তোলা হয় বাইক্কা বিল অভয়াশ্রম। মাছের পাশাপাশি পাখি ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবেও এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি।

পলি-বালুতে কমছে জলাশয়ের গভীরতা
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পলি ও বালু জমে অভয়াশ্রমগুলোর অনেক স্থানে পানির গভীরতা কমে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে যাওয়ায় মাছের বিচরণ ও আশ্রয়স্থল সংকুচিত হচ্ছে। অন্যদিকে বর্ষায় কচুরিপানা ও আগাছার বিস্তার জলজ পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।

মাছের প্রজননের উপযোগী গভীর জলাশয় ও প্রাকৃতিক গর্ত ভরাট হয়ে যাওয়ায় ডিম ছাড়ার পরিবেশ, পোনা মাছের বেড়ে ওঠা এবং পূর্ণবয়স্ক মাছের নিরাপদ আশ্রয়—সবই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে হাওরের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর।

এ ছাড়া পদ্ম, শাপলাসহ বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদের আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। খাদ্য ও নিরাপদ বিচরণক্ষেত্রের অভাবে পরিযায়ী পাখির উপস্থিতিও কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যথাসময়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে অভয়াশ্রমগুলোর পরিবেশগত গুরুত্ব ও মাছের প্রাকৃতিক প্রজননব্যবস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জরুরি ভিত্তিতে খনন ও সংস্কারের দাবি
বাইক্কা বিল অভয়াশ্রমের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বড় গাঙ্গিনা বিল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মিন্নত আলী বলেন, অভয়াশ্রমগুলো রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং, বিলের গভীরতা পুনরুদ্ধার এবং সরকারি তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন এই অভয়াশ্রমের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় নেতা আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, দেশীয় অনেক স্বাদু পানির মাছ ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অবশিষ্ট প্রজাতিগুলো রক্ষা করতে হলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পলি অপসারণ, পরিকল্পিতভাবে হাওর ও বিল খনন এবং জলজ পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা জরুরি। অন্যথায় দেশীয় মাছের জীববৈচিত্র্য আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্কারের প্রস্তাব পাঠিয়েছে মৎস্য বিভাগ
মৌলভীবাজারের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফ হোসেন অভয়াশ্রমগুলো পলি ও বালুতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিলগুলো পুনর্খননের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বাইক্কা বিলসহ জেলার ১০টি মৎস্য অভয়াশ্রমের সুরক্ষা ও পুনরুদ্ধারে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আশাবাদ জানিয়েছেন।

পরিবেশবিদদের মতে, শুধু খনন করলেই অভয়াশ্রমগুলোর সংকট কাটবে না। এর পাশাপাশি প্রয়োজন পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ। অবৈধ দখল বন্ধ, মাছের প্রজনন মৌসুমে ক্ষতিকর আহরণ নিয়ন্ত্রণ এবং জলজ উদ্ভিদ ও পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে হাওরের প্রাকৃতিক পরিবেশের পাশাপাশি দেশীয় মাছের অস্তিত্বও আরও বড় সংকটে পড়বে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

Link copied!