Kaler Alo
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬
২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

কালের আলো ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১১:১১ এএম

দেওয়ানগঞ্জের একমাত্র খেজুরবাগানে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি

কালের আলো ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১১:১১ এএম

দেওয়ানগঞ্জের একমাত্র খেজুরবাগানে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে গ্রামবাংলায় শুরু হয়েছে খেজুরের রসের মৌসুম ঘিরে অপেক্ষা। শীতের সকালে টাটকা খেজুরের রসের স্বাদ নিতে মুখিয়ে আছেন রসপ্রেমীরা। অন্যদিকে মৌসুম সামনে রেখে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে একমাত্র খেজুরবাগানে গাছ পরিচর্যা ও রস সংগ্রহের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে রস সংগ্রহ।

৩০ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে একমাত্র বাগান

দেওয়ানগঞ্জের জিল বাংলা সুগার মিলস এলাকায় অবস্থিত খেজুরবাগানটি জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেডের নিজস্ব সম্পত্তি। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর বাগানটি ইজারা দিয়ে থাকে। স্থানীয় গাছিরা ইজারা নিয়ে গাছের পরিচর্যা ও রস সংগ্রহের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন।

একসময় বাগানটিতে ৬০টির বেশি খেজুরগাছ থাকলেও বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে গাছের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০টিতে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে বাগানটি স্থানীয় মানুষের খেজুরের রসের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রেখে আসছে। তবে গাছের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং পুরোনো গাছগুলোর বয়স বেড়ে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী বাগানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইজারা ও পরিচর্যায় ব্যয় লাখ টাকার বেশি

এ বছর বাগানটি ইজারা নিয়েছেন স্থানীয় গাছি মো. মুজিবর। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বাগানের ইজারামূল্য ৩৫ হাজার টাকা। পরিচর্যা ও অন্যান্য খরচসহ মোট ব্যয় দাঁড়াবে এক লাখ টাকার বেশি।

মুজিবর জানান, একটি গাছ থেকে তিন দিন পরপর প্রায় ৮ থেকে ১০ কেজি রস সংগ্রহ করা সম্ভব। সেই হিসাবে ৪০টি গাছ থেকে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসে আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার লিটার রস পাওয়া যেতে পারে। সব খরচ বাদ দিয়েও লাভের আশা করছেন তিনি।

লিটারপ্রতি দাম হতে পারে ১৪০ টাকা

বাগানের রসের চাহিদা প্রতিবছরই থাকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার রসপ্রেমীরাও এ বাগানের রসের জন্য অপেক্ষা করেন।

গাছি আব্দুল মমিন, রবিনসহ কয়েকজন জানান, ২০২৫ সালে প্রতি লিটার খেজুরের রস ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। তবে এ বছর গাছের পরিচর্যা ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি লিটার রসের দাম ১৪০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

নতুন গাছ রোপণের দাবি

গাছিদের আশঙ্কা, বাগানের অধিকাংশ গাছই বেশ পুরোনো। আগামী ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে বয়সের কারণে এসব গাছ মারা যেতে পারে। তখন দেওয়ানগঞ্জের মানুষকে খেজুরের রসের জন্য অন্য উপজেলা কিংবা জেলার ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।

তাই বাগানের যেসব স্থানে গাছ মারা গেছে, সেসব জায়গায় নতুন করে খেজুরগাছ রোপণের দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি বাগানের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

শীতের সকালে খেজুরের রসের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনই নতুন গাছ লাগানো ও বাগান সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তা না হলে একসময় হারিয়ে যেতে পারে দেওয়ানগঞ্জের তিন দশকের পুরোনো এই খেজুরবাগান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

Link copied!