Kaler Alo
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
২০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

পাবনা সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

পারমাণবিক কেন্দ্রের নিরাপত্তায় জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ

পাবনা সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

পারমাণবিক কেন্দ্রের নিরাপত্তায় জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি এবং বহুমাত্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে প্রকল্পটি সম্পর্কে স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, ভুল ধারণা দূর করা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য ছড়িয়ে দিতে স্থানীয় ইমামদের সহযোগিতা চেয়েছেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পাবনার ঈশ্বরদীতে পাকশী ও সাহাপুর ইউনিয়নের ইমামদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘কমিউনিটি লিডার রাউন্ডটেবিল’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলা হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রকল্পটির ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো ও স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা জোরদার করতে এ সভার আয়োজন করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পাবনা এবং পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্র, ঈশ্বরদীর সহযোগিতায় পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্রে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। রূপপুর প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

নিরাপত্তা ও জ্বালানি সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান। সভাপতিত্ব করেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনপিসিবিএলের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আলিউজজামান।

সভায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া, কেন্দ্রের আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনায় প্রযুক্তি ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে রূপপুর
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. জাহেদুল হাছান বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি কেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি, একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

ভুল ধারণা দূর করতে ভূমিকা রাখতে পারেন ইমামরা
সভাপতির বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বলেন, স্থানীয় জনগণের কাছে ইমামদের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব রয়েছে। এ কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে সঠিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য প্রচার, প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা এবং জনসচেতনতা বাড়াতে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে প্রকল্প সম্পর্কে ইতিবাচক ও তথ্যভিত্তিক ধারণা গড়ে তুলতে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ইমামদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশেষজ্ঞরা
মতবিনিময় পর্বে অংশ নেওয়া ইমামরা পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, কেন্দ্রের নিরাপত্তা, বিকিরণের সম্ভাব্য প্রভাব, পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের কল্যাণে প্রকল্পটির ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বের সঙ্গে এ ধরনের সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে সঠিক তথ্য ছড়িয়ে পড়বে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং প্রকল্পের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা আরও জোরদার হবে।

সন্ধানী বার্তা/এএইচ/এমএসআইপি

Link copied!