যোগ্যতার মাপকাঠিতেই বিচারক নিয়োগ, আইনমন্ত্রীকে ‘ক্রেডিট’ অ্যাটর্নি জেনারেলের

প্রকাশিতঃ 11:36 am | November 17, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো :

হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রাজনীতিকরণের প্রক্রিয়ার আলোচনার বিষয়টিকে রীতিমতো ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

আরও পড়ুন: অনেক ‘অপ্রিয়’ প্রশ্নের সাবলীল জবাব অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিনের!

আওয়ামী লীগের মতাদর্শ অনুসরণ করার পুরস্কার হিসেবেই এ পদে নিয়োগ পাওয়া যায় এমন সমালোচকদেরও বিষয়েও মুখ খুলেছেন। বর্তমান সরকারের সময়ে যোগ্যতার মাপকাঠিতেই বিচারক নিয়োগ হয়েছে বলেও দৃঢ় মত দিয়েছেন। বাঁকবদলের এ সূচনার জন্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হককেই তিনি ‘ক্রেডিট’ দিয়েছেন।

পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া খোলাসা করে এ এম আমিন উদ্দিন বলেছেন, ‘নিরপেক্ষ নীতি অবলম্বনের কারণে আওয়ামী লীগ করেন না এমন অনেকেই বিচারপতি হতে পেরেছেন। নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ্যতা নিয়েও কোন প্রশ্ন নেই।’

জার্মানীর ডয়েচে ভেলের অনলাইন টকশোতে সম্প্রতি প্রবাসী সাংবাদিক খালিদ মুহিউদ্দিনের উপস্থাপনায় নিজের চেনা স্টাইলে, স্পষ্ট ভাষায় এসব কথা বলেছেন রাষ্ট্রের এ প্রধান আইন কর্মকর্তা। তাঁর যুক্তিনিষ্ঠ এমন উচ্চারণ ৭১’র পরাজিত শক্তি বা তাদের দোসরদের ফুটো বেলুনের মতোই চুপসে দিলেও উজ্জীবিত করেছে স্বাধীনতার পক্ষের মানুষজনকে।

তেড়েফুঁড়ে কথা বলা ধাঁচে নেই অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের। ধীরস্থিরভাবে প্রশ্নের গভীরতায় প্রবেশ করে টু দ্যা পয়েন্টেই সাফ সাফ কথা বলেন। ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে কথা বলার প্রবণতাকে আলিঙ্গন না করে বিবেকের দায়বদ্ধতায় সত্য ও সুন্দরের পথে তার অনড় নীতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

উপস্থাপকের এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘মাননীয় আইনমন্ত্রী যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগের চেষ্টা করেছেন। যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ করেন না। আমি নাম বলে কাউকে বিব্রত করতে চাই না। আপনি নিজেও খোঁজ নিয়ে দেখেন।

যাদের ক্যারিয়ার ভালো ছিল, এখানে কাজ করেছেন তারাই নিয়োগ পেয়েছেন। তবে একটি বিষয় হয়তো তিনি দেখেছেন তারা স্বাধীনতার পক্ষের কী না। একটি দেশের স্বাধীনতা যারা বিশ্বাস করে না তাদের তিনি কেন নিবেন? আওয়ামী লীগ করে না এমন অনেকে এসেছেন। কিন্তু তাদের নিরপেক্ষতা এবং যোগ্যতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই।’

এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতিবাচক এক উদাহরণও সামনে টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘২০০২ থেকে ২০০৪ সালে যারা জুডিশিয়াল অফিসার ছিলেন তারা আওয়ামী লীগ করতেন না। বিচার বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে তারা সুপ্রিম কোর্টে এসেছিলেন। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরপরই তাদের বাদ দেওয়া হয়। বর্তমান সরকার এটা করে না। কাউকে বাদ দেওয়ার চিন্তা করেনি, বাদও দেয়নি’ যোগ করেন এ এম আমিন উদ্দিন।

কালের আলো/এসএকে/জিকেএম

Print Friendly, PDF & Email