অনেক ‘অপ্রিয়’ প্রশ্নের সাবলীল জবাব অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিনের!

প্রকাশিতঃ 10:04 am | November 16, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো :

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন এ এম আমিন উদ্দিন। এখন তিনি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা, অ্যাটর্নি জেনারেল। গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব নিয়েও নিজেকে বদলে ফেলেননি।

আরও পড়ুন: যোগ্যতার মাপকাঠিতেই বিচারক নিয়োগ, আইনমন্ত্রীকে ‘ক্রেডিট’ অ্যাটর্নি জেনারেলের

কথাবার্তায় আগের মতোই সোজা সাপ্টা। যেটা হৃদয়ের গভীরে ধারণ করেন সেটাই অকপটে উচ্চারণ করেন। অনেক অপ্রিয় প্রশ্ন সাধারণত অনেকেই সহজভাবে নিতে পারেন না। উড়িয়ে দেন ফুৎকারে।

কিন্তু কোন প্রশ্নেই ভড়কে না গিয়ে সহজ-সাবলীল ভাষায় উত্তর দিতেই পারঙ্গম ব্যক্তিত্ব এ এম আমিন উদ্দিন। নিজের স্বপক্ষে আরও একবার সেই প্রমাণই রাখলেন।

জার্মানীর ডয়েচে ভেলের অনলাইন টকশোতে সম্প্রতি প্রবাসী সাংবাদিক খালিদ মুহিউদ্দিনের উপস্থাপনায় খোলামেলাভাবেই প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজ অঙ্গণসহ সব মহলেই প্রশংসিত হয়েছেন আমিন উদ্দিন।
‘নিরপেক্ষ’ এবং রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজের কৌশল কি হবে? আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে কি অ্যাটর্নী জেনারেল হওয়া সম্ভব? এমন প্রশ্নে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেই অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিটি রাষ্ট্রকে সরকার পরিচালনা করে তার মতাদর্শের মাধ্যমে। আমেরিকা, ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকেই সরকার অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয়।

সরকার বা রাষ্ট্রকে পরিচালনার জন্য যদি তাদের আইনগত সহায়তার প্রয়োজন হয় তাহলে অ্যাটর্নি জেনারেলের দ্বারস্থ হয়।অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব আদালতে রাষ্ট্রের মামলাগুলো পরিচালনা করা। আমাদের দেশে সাধারণত ফৌজদারী বা অন্যান্য মামলা হয়। নিচের কোর্টের স্বাক্ষী প্রমাণ বিচার বিশ্লেষণ করা অ্যাটর্নী জেনারেলের কাজ।’

তিনি বলতে থাকেন, ‘প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেল অকপটে বলেছেন, এ মামলার এখানে সমস্যা আছে। উনি জোর করে কোন কিছু চাপিয়ে দেননি। আমি যেহেতু সরকারের ভাবাদর্শে বিশ্বাস করি, সরকার যদি মনে করে আমাকেই নিবে এখানে। যার সাথে মতের মিল আছে সরকার তাকেই নিবে। কারণ রাষ্ট্র নিজে নিজে পরিচালিত হয় না। সরকার রাষ্ট্রকে পরিচালিত করে।’

‘বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এতিমের ২ কোটি টাকা তছরুপের মামলার বিষয়ে অ্যাটর্নী জেনারেল অফিস খুবই জানপ্রাণ দিয়ে খেটে করেছে। বিষয়টি স্বাভাবিক কীনা এ প্রশ্ন ছুঁড়েন খালিদ মুহিউদ্দিন।

এ প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আপনার এ বিষয়টিতে গ্যাপ রয়েছে। এটা দুদকের মামলা। দুদক এটি করেছে। অ্যাটর্নী জেনারেল সাহেব দুদকের সঙ্গে ছিলেন। সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ দেশের জন্য চরম লজ্জার বিষয়।

এ কারণে হয়তো তিনি গিয়েছেন। হাইকোর্টে অনেক মামলা রয়েছে, যে মামলায় হাজার টাকার জন্য মানুষ জেল খাটছে। অ্যাটর্নী জেনারেলের অফিস থেকে প্রতিটি মামলা পরিচালনা করা হয়।’

এ কথা বলতে বলতেই একটি উদাহরণ টানেন অ্যাটর্নী জেনারেল। আমাদের আইনের ব্যাখ্যায় একটি কথা আছে- ইকুয়ালিটি বিফর দ্যা ল। আরেকটি কথা আছে ইকোয়াল এমং দি ইকোয়াল।

তখন খালেদ মুহিউদ্দিন বলেন, ‘এটা ঠাট্টা করে বলা।’ কিন্তু অ্যাটর্নী জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘নো, নো। যখন উপজেলা চেয়ারম্যানদের বলা হলো তারা ঋণখেলাপী হলে ইলেকশন করতে পারবে না। তখন তারা মামলা ফাইল করলেন, পার্লামেন্টে করতে পারলে আমরা করতে পারবো না কেন?

পার্লামেন্ট মেম্বাররা তাদের নিজেদের ইকোয়াল আর উপজেলা চেয়ারম্যানরা স্থানীয় সরকারের সদস্য, তারা আলাদা একটি শ্রেণি।’

যারা মিথ্যা মামলার শিকার হবেন তাদের দেওয়ানি ক্ষতিপূরণ মামলা করার পরামর্শ দেন অ্যাটর্নী জেনারেল।

বলেন, ‘দুদকের মামলায় জাহালমের তিন বছর সাজাভোগের বিষয়টি পত্রিকায় এলে সুপ্রিম কোর্ট সমোডর রোল দিলো। দিয়ে দেখলো এটা ব্যাংকের বিষয়। ব্যাংকের কর্মকর্তারা ভুল লোককে সনাক্ত করেছেন।

দুদকের কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। ব্যাংককে আর্থিক জরিমানা করেছেন। অর্থাৎ ভিকটিম বিনা কারণে জেলে থাকায় তাকে সেটা দিয়ে দিতে বলেছেন।’

কালের আলো/এসআর/আরআই

Print Friendly, PDF & Email