বাজেট ২০২৪-২৫: এবার চোখ এমআরটি-৫ নির্মাণে

প্রকাশিতঃ 11:37 am | June 09, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

বাংলাদেশে গত এক দশকের প্রতিটি বাজেটেই যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণে মেগা প্রকল্প প্রাধান্য পেয়ে আসছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন মেগা প্রকল্প নেওয়ার চেয়ে চলমান প্রকল্প শেষ করার দিকে মনোযোগ সরকারের।

আর চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে থাকায় অর্থ ব্যয়ের চাহিদা কমেছে। এ কারণে বেশিরভাগ মেগা প্রকল্পে আগামী অর্থবছরেও বরাদ্দ কমেছে। আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এমআরটি-৬ ও এমআরটি-১-এ বরাদ্দ কমেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কাজ শুরু হওয়া এমআরটি-৫ নর্দার্ন রুট প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে।

প্রকল্প পরিচালকেরা মনে করছেন, সব মেগা প্রকল্পে বরাদ্দের চাহিদা নির্ধারণে সরকার সতর্ক। এক্ষেত্রে আগামী অর্থবছরের জন্য কেবল একান্ত দরকারি মেগা প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, আর বরাদ্দও সে অনুযায়ী রাখা হয়েছে, যেন অব্যবহৃত অর্থ ফেরত না যায়।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করেন, আগামী অর্থবছরে মেগা প্রকল্পে অহেতুক বরাদ্দ বেশি রাখা হয়নি। যে অর্থ ব্যবহার না করলেই নয়, কেবল সেটুকুই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সে অনুযায়ী, মেট্রোরেল লাইন এমআরটি-৬ (মতিঝিল থেকে কমলাপুর) প্রকল্পের জন্য আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ কমেছে।

মেট্রোরেলের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী অর্থবছরের এডিপিতে এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এক হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের এডিপির তুলনায় আগামী এডিপিতে এ প্রকল্পে বরাদ্দ কমেছে ৪২ শতাংশ। আর সংশোধিত এডিপির তুলনায় আগামী অর্থবছরের এডিপিতে এ প্রকল্পের বরাদ্দ ১৮ কোটি টাকা কমেছে।

অন্যদিকে এমআরটি-১ প্রকল্পে আগামী অর্থবছরে ৩ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রথম পাতাল রেল বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুনবাজার-পূর্বাচল পর্যন্ত মেট্রোরেলের এই প্রকল্পে বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৮ শতাংশ কমেছে।

তবে এমআরটি-৫ নর্দার্ন রুট প্রকল্পে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ সামান্য বেড়েছে। আগামী অর্থবছরের এডিপিতে এ প্রকল্পে ৯৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। এ বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের এডিপির তুলনায় ১০ শতাংশ এবং সংশোধিত এডিপির তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি।

এমআরটির এ রুট গাবতলী-আফতাবনগর পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে পাতাল রেল এবং আফতাবনগর থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে উড়ালপথে।

এ প্রকল্পে মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা।

এদিকে প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো ও অতিরিক্ত বরাদ্দ না রাখাকে স্বাগত জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদেরা। তাদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে মেগা প্রকল্পে অতিরক্তি অর্থ বরাদ্দ না রাখাই যৌক্তিক হবে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের (পিইবি) চেয়ারম্যান ও সিইও এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাওয়ায় উন্নয়ন ব্যয়ে লাগাম টানা দরকার। অগ্রাধিকার দিয়ে মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

এসব মেগা প্রকল্পের অর্থ এখনই ব্যয় না করলে সমস্যা হবে না, সেখানে বরাদ্দ কমানোই ভাল বলে মনে করেন এ অর্থনীতিবিদ। এ অর্থনীতিবিদের আশঙ্কা, মেগা প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় বন্ধ না হলে আগামী অর্থবছরেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) গবেষণা পরিচালক সায়েমা হক বিদিশা বলেন, সরকার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কারণ ঘাটতি মেটাতে হবে।

আপাতত নতুনগুলো বন্ধ রেখে বিদ্যমান জরুরি প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এ অর্থনীতিবিদও।

বাজেট নিয়ে সরকারের চিন্তা-ভাবনা নিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত বাংলানিউজকে বলেন, সরকারের লক্ষ্য বেড়ে যাওয়া মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ। সময়ের প্রয়োজনেই বাজেটে এ বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/কেএ

Print Friendly, PDF & Email