ময়লা পরিষ্কারে ১৫শ স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে খালে নামলেন মেয়র আতিক

প্রকাশিতঃ 3:14 pm | February 23, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে লাউতলা ও রামচন্দ্রপুর খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও ময়লা পরিষ্কার অভিযান শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টা থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

এ কার্যক্রমে ডিএনসিসির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের এক হাজার ৫০০ সদস্য। খালে ময়লা পরিষ্কারে নামার আগে মোহাম্মদপুরের বছিলার পশ্চিমাঞ্চল পুলিশ লাইন মাঠ (বছিলা ট্রেনিং একাডেমি) বিডি ক্লিনিংয়ের স্বেচ্ছাসেবীদের শপথ পাঠ করান ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। পরে হাতে গ্লাভস পরে মেয়র নিজেই ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারে খালে নেমে যান।

এসময় আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আগে লাউতলা খালে ট্রাক স্ট্যান্ড ছিল। আমরা সেখান থেকে স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করেছি এবং পরবর্তীতে খালটি খনন করেছি। খালের দুপাড়ে বিভিন্ন রকমের ফল, ফুল, ওষুধি গাছ লাগিয়েছি। এছাড়া খালের দুপাড়ে হাঁটাচলার পথ তৈরি করেছি। এখন সেখানে পানিপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা খাল পরিষ্কার করে দিয়ে যাই, কিন্তু নাগরিকরা আবার খালে ময়লা ফেলেন। খালের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আজ লাউতলা ও রামচন্দ্রপুর খাল পরিষ্কার করে দিয়ে যাচ্ছি।

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, আমরা যদি ব্যক্তিগতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকি, আমরা যদি আমাদের আঙিনাগুলো পরিষ্কার রাখি, তাহলে এই নগর পরিষ্কার থাকবে। এডিস এবং কিউলেক্স মশা থাকবে না।

তিনি বলেন, আমরাই খালগুলোর পানি দূষিত করছি। ময়লা আবর্জনা ফেলছি। আবার আমরাই কিন্তু অভিযোগ করছি। খাল দূষণ হলে এর দায় আমাদের সবাইকে নিতে হবে। যারা ময়লা ফেলে তাদের মস্তিষ্কের ময়লা আগে পরিষ্কার করতে হবে। ময়লা ফেলা বন্ধে এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে।

নগরের যেসব খালে ময়লা ফেলা হয় সেগুলোতে ময়লা ফেলা বন্ধে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে জানিয়ে মেয়র বলেন, যে শহরে বাচ্চারা মাঠে খেলতে নামে, রাস্তায় হাঁটে, আমরা সেখানে বাসাবাড়ির জানালা দিয়ে রাস্তায়, মাঠে ময়লা ফেলছি। এটি হতে দেবো না। তাই খালগুলোতে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দেবো, যেন কেউ ময়লা ফেলতে না পারে। এরপরও কেউ ময়লা ফেললে তাকে জরিমানার আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, ময়লা ও দখলমুক্ত করে রাজধানীর খালগুলোর আগের রূপে ফেরানো হবে। পরিবেশকে আমরা ধ্বংস করে ফেলেছি। পরিবেশ এখন প্রতিশোধ নিচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, রাস্তা ঘাট ডুবে যায়। কারণ খাল দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারে না। ময়লা ফেলে খালগুলোকে ধ্বংস করে ফেলেছে। খাল পুনরুদ্ধারে আমরা এলাকাবাসীর সহযোগিতা চাই।

এদিকে  বছিলার লাউতলা খাল পরিষ্কারে অংশ নেওয়ার পরই এবার গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে খালের অংশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো। মেয়র আতিকুল ইসলামের উপস্থিতিতেই এটি হচ্ছে। এ সময় অন্যান্য স্থাপনার পাশাপাশি একটি ১০তলা ভবনের অর্ধেক অবৈধভাবে গড়ে ওঠায় এটিরও ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে।

কালের আলো/ডিএস/এমএ

Print Friendly, PDF & Email