জাপানের মধ্যাঞ্চলে ৫ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। এতে বিভিন্ন ভবনের দোকানের কাচ ভেঙে গেছে। আতঙ্কে ভবন থেকে বাইরে ছুটে আসেন বাসিন্দারা। ভূমিকম্পের পর কয়েকটি ছোট পরাঘাতও অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
ভূমিকম্পের মাত্রা নিয়ে দুই সংস্থার ভিন্ন তথ্য
জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ৭ বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) হিসাবে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫। স্থানীয় সময় শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত ১টা ৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল শিজুওকা প্রিফেকচারে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৪০ কিলোমিটার গভীরে। শিজুওকা ও আইচি পাশাপাশি অবস্থিত দুটি অঞ্চল।
বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয় কম্পন
ভূমিকম্পে আইচি প্রিফেকচারসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে। এর মধ্যে ছিল হামামাতসু শহর, জাপানের প্রাচীন রাজধানী কিয়োতো ও নারা এবং ইয়ামানাশি ও গিফু প্রিফেকচার। দেশটির বিখ্যাত ফুজি পর্বতও ইয়ামানাশি প্রিফেকচারে অবস্থিত। তবে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল টোকিও থেকে বেশ দূরে হওয়ায় রাজধানীতে কম্পন অনুভূত হয়নি।
দোকানের কাচ ভেঙে আহত অনেকে
জাপানের টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে বিভিন্ন দোকানের ভাঙা কাচ এবং সড়কে ছড়িয়ে থাকা কাচের টুকরো দেখা গেছে। একটি বইয়ের দোকানে তাক থেকে অসংখ্য বই মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজন ভূমিকম্পের সময় ভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে যান। এতে আতঙ্কের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটে।
বুলেট ট্রেনের গতি কমানো হয়েছে
সরকারি ভূকম্পন মূল্যায়নে আইচি অঞ্চলে সবচেয়ে তীব্র কম্পন অনুভূত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নিরাপত্তার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে শিনকানসেন বুলেট ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়। ভূমিকম্পের কারণে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
কালের আলো/এসএ/এমএএইচ
