যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ চার থেকে পাঁচজন মন্ত্রী পদত্যাগ করতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে এখন থেকেই নিজের অবস্থান তৈরি করতে চাইছেন রুবিও।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টকে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি সূত্র এমন তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হতাশাজনক ফলের পর মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য প্রশাসন থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের সর্বশেষ ফল অনুযায়ী, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছেন ২৫৩টি। বিপরীতে রিপাবলিকানদের ঝুলিতে গেছে ১৬০টি আসন। উচ্চকক্ষ সিনেটেও ডেমোক্র্যাটরা ৫৪টি এবং রিপাবলিকানরা ৪৪টি আসন পেয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে রুবিও
ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা বাড়ছে। ২০২৮ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে নিজের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সূত্রগুলোর মতে, পরবর্তী নির্বাচনে নিজের অবস্থান শক্ত করতে ইরান যুদ্ধসহ ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত নীতিগুলো থেকে দূরত্ব তৈরি করতে চাইছেন রুবিও। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের দায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর চাপিয়ে নিজেকে বিতর্কের বাইরে রাখার বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।
এদিকে, রুবিওর পদত্যাগের জল্পনার আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধটি রিপাবলিকানদের প্রতি ভোটারদের সমর্থন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে স্বীকার করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এমনকি ট্রাম্পও বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার খবর নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস।
‘কেউই সরকারে থাকতে চান না’
দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু রুবিও নন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার আরও তিন থেকে চারজন সদস্য পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রুবিওর পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইনজেল এ ধরনের খবরকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনকে ঘিরে মিথ্যা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের কয়েকটি সূত্র। তাদের মতে, ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। অনেক মার্কিন নাগরিক যুদ্ধের কারণ ও প্রেক্ষাপটও ভালোভাবে বোঝেন না।
একটি সূত্রের ভাষ্য, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিশংসনের উদ্যোগের মুখে পড়তে হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে দায়িত্ব ছাড়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ সূত্রও জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর মার্কো রুবিও কী সিদ্ধান্ত নেন, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, রুবিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে বহাল থাকবেন—এমন সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান পার্টির আরেকটি সূত্রের দাবি, নির্বাচনে দলের এই পরাজয়ের পর রুবিওর পদত্যাগের সম্ভাবনা প্রবল। তাঁর সঙ্গে আরও চার-পাঁচজন মন্ত্রীও পদ ছাড়তে পারেন।
তবে এখন পর্যন্ত রুবিও বা অন্য কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনে সম্ভাব্য এই পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট
কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন
