Kaler Alo
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্যের জয়, তবে কী বদলে যাচ্ছে রাজনীতির সমীকরণ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্যের জয়, তবে কী বদলে যাচ্ছে রাজনীতির সমীকরণ?

যুক্তরাষ্ট্রের ২৩৭ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল আল-সাইয়েদ। মিশিগান থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয় পাওয়া এই রাজনীতিককে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারতেও চলছে আলোচনা। বিশেষ করে ভারতের কর্ণাটকে তাঁর স্ত্রীর স্বজনেরা তাঁকে ‘কর্ণাটকের জামাই’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। তবে তাঁর এই জয় কেবল একটি ঐতিহাসিক প্রতিনিধিত্বের ঘটনা নয়; নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থের প্রভাব, মুসলিম পরিচয় নিয়ে আক্রমণ এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাঁর অবস্থানও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর
মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সাইয়েদ। মিডল ইস্ট আইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ৫২ শতাংশ ভোট। বিপরীতে রজার্স পেয়েছেন ৪৬ শতাংশ।

১৭৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ২৩৭ বছরে কোনো মুসলিম এই উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচিত হননি। আল-সাইয়েদের জয়ের মধ্য দিয়ে সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। অবসরে যাওয়া ডেমোক্রেটিক সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৬ সালে কিথ এলিসন প্রথম মুসলিম হিসেবে প্রতিনিধি পরিষদে আসেন। ২০১৮ সালে রাশিদা তালিব ও ইলহান ওমর প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে কংগ্রেসে নির্বাচিত হন। তবে সিনেটে এত দিন কোনো মুসলিম সদস্য ছিলেন না। মিডল ইস্ট আইয়ের তথ্য অনুযায়ী, আল-সাইয়েদ প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার পাশাপাশি এই কক্ষে নির্বাচিত ষষ্ঠ আরব-আমেরিকানও।

কর্ণাটকে ‘জামাই’ হিসেবে পরিচিতি
আল-সাইয়েদের স্ত্রী সারা জুকাকু পেশায় চিকিৎসক ও মনোরোগবিশেষজ্ঞ। তাঁর পারিবারিক শিকড় ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকে। যদিও তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে, পরিবারের স্বজনেরা এখনো কর্ণাটকের ভাটকল শহরে বসবাস করেন। ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-সাইয়েদের জয়ে আনন্দে ভাসছেন ভারতে থাকা সারার স্বজনেরা। তাঁরা তাঁকে ‘কর্ণাটকের জামাই’ বলে ডাকছেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, আল-সাইয়েদ আন্তরিক ও মিশুক স্বভাবের মানুষ।

সারা ও আল-সাইয়েদের পরিচয় মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। ২০০৬ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে। এক দশকেরও বেশি আগে এক আত্মীয়ের বিয়েতে তাঁরা ভাটকল গিয়েছিলেন। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কয়েক দিন কাটান। সারার চাচা জুকাকু আবদুল মজিদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ মুসলিম হওয়ায় পরিস্থিতি বিবেচনায় আল-সাইয়েদের জয়ের সম্ভাবনা তাঁরা কল্পনাও করেননি। তাঁর কাছে এই জয় আশীর্বাদের মতো। সারার কাজিন বিবি হুসনাও এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচার ও ভোট গণনার দিন পরিবার উদ্বেগের মধ্যে ছিল। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে সুন্দর জয় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘আরবের চেয়ে বেশি ভারতীয়’ হওয়ার গল্প
নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের ভারতীয় পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে রসিকতা করেছেন আল-সাইয়েদ। ইনডিপেনডেন্টকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দুই দশক ধরে দক্ষিণ ভারতীয় এক নারীর সঙ্গে সংসার করে তিনি ‘আরবের চেয়ে বেশি ভারতীয়’ হয়ে গেছেন। নিজেকে ‘সম্মানসূচক ভারতীয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতির ধৈর্যের বিষয়টি তিনি দেশটিতে না গেলে বুঝতে পারতেন না। সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে কোনো কিছুই দ্রুত হয় না।

এক পডকাস্টে পারিবারিক একটি মজার ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর এক চাচা জানতে চেয়েছিলেন, ৮ কোটি মিসরীয় থাকতে তিনি কেন ভারতীয় নারীকে বিয়ে করলেন। জবাবে আল-সাইয়েদ বলেন, ভারতীয়দের সংখ্যা এক শ কোটি; পরিসংখ্যান অনুযায়ী এটাই ছিল বেশি সম্ভাবনাময় ঘটনা। তবে ভারতীয় পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও নিজের মিসরীয় শিকড়ের কথা ভুলে যাননি তিনি। তাঁর বাবা মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় শহর আলেকজান্দ্রিয়ায় বড় হয়েছেন। মিসরীয় খাবার ও সংস্কৃতির প্রতিও রয়েছে তাঁর বিশেষ অনুরাগ।

চিকিৎসক থেকে রাজনীতির ময়দানে
আল-সাইয়েদের জন্ম মিশিগানের রচেস্টার হিলসে। তাঁর মা-বাবা মিসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসতি গড়েন। রাজনীতিতে আসার আগে চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতে কাজ করেছেন তিনি।আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন আল-সাইয়েদ। পরে রোডস স্কলার হিসেবে ২০১১ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্যে ডক্টরেট করেন। ২০১৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন।

২০১৫ সালে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। আর্থিক সংকটের পর শহরটির জনস্বাস্থ্যসেবা পুনর্গঠনের কাজ তদারক করেন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন চেয়েছিলেন আল-সাইয়েদ। তবে সে নির্বাচনে গ্রেচেন হুইটমারের কাছে পরাজিত হন। ২০২৬ সালে সিনেট নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় আসেন তিনি।

কোটি কোটি ডলারের প্রচারেও থামানো যায়নি
সিনেট নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ের লড়াইয়েও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন আল-সাইয়েদ। গত আগস্টে প্রাইমারিতে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে পরাজিত করে দলের মনোনয়ন পান তিনি। তাঁর প্রচারে সমর্থন দিয়েছিলেন প্রগতিশীল রাজনীতির পরিচিত মুখ সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ ও রাশিদা তালিব।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাইমারিতে তাঁকে পরাজিত করতে ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী ৬ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করে। এর মধ্যে প্রভাবশালী লবিগোষ্ঠী আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আইপ্যাক) হ্যালি স্টিভেন্সের পক্ষে ৩ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করে। তবে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও প্রাইমারিতে আল-সাইয়েদের জয় ঠেকানো যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাঁর অবস্থান এবং প্রচারের তৃণমূলভিত্তিক সমর্থন এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

শেষ মুহূর্তে ২৪ লাখ ডলারের তহবিল সংগ্রহ
সাধারণ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হ্যালি স্টিভেন্স রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন জানান। আল-সাইয়েদের রাজনৈতিক অবস্থান ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। এ ঘটনায় ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে প্রতিক্রিয়া তৈরি হলেও আল-সাইয়েদের প্রচারে ভাটা পড়েনি। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টিভেন্সের ঘোষণার দিনই তাঁর প্রচারশিবির এক দিনে ২৪ লাখ ডলার সংগ্রহ করে। এটি ছিল প্রচারশিবিরটির এক দিনে সর্বোচ্চ তহবিল সংগ্রহ।

প্রচারশিবিরের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ অনুদান দেন। তাঁদের মধ্যে ২৯ হাজার ৬০২ জন প্রথমবারের মতো অর্থ সহায়তা করেন। গড়ে প্রত্যেকে ৩৬ ডলার ৭৪ সেন্ট করে দেন। প্রচারশিবিরের মুখপাত্র কোল ওজনিয়াকের মতে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া এই অর্থ মিশিগানের ভোটারদের মধ্যে আল-সাইয়েদকে ঘিরে তৈরি হওয়া আগ্রহের প্রতিফলন। তাঁর ভাষায়, এটি অঙ্গরাজ্যের পুরোনো ধারার রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষের অবস্থানেরও প্রকাশ।

মুসলিম পরিচয় ও নাম নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণ
নির্বাচনী প্রচারে আল-সাইয়েদের মুসলিম ও আরব পরিচয় বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে ওঠে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান দলের কয়েকজন নেতা তাঁর নাম, ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ ও তাঁদের সমর্থকেরা আল-সাইয়েদের সঙ্গে হিজবুল্লাহ, হামাস ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তোলেন। এমনকি ৯/১১-এর হামলাকে তিনি সমর্থন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়াহ আইন চালুর পরিকল্পনা করছেন—এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়।

আল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর বক্তব্য, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অর্থনৈতিক সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে দৃষ্টি সরাতেই তাঁর নাম ও ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে আনা হচ্ছে। প্রচারের সময় ট্রাম্প তাঁকে ‘জিহাদি’ বলে আখ্যা দেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। নির্বাচনের দিন ম্যাকম্ব কাউন্টির একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে প্রচারপত্র বিলির সময় এক ব্যক্তি তাঁকে ‘মুসলিম সন্ত্রাসী’ বলে চিৎকার করেন। তবে এসব আক্রমণের মুখেও নিজের পরিচয় আড়াল করেননি আল-সাইয়েদ। বরং জনস্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশুদ্ধ পানি, ন্যায্য মজুরি ও শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে প্রচারের কেন্দ্রে রাখেন।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান
ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা দেওয়ার কঠোর সমালোচক আল-সাইয়েদ। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর যুক্তি ছিল, বিদেশের যুদ্ধে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে সেই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অবকাঠামোগত সংকট সমাধানে ব্যবহার করা উচিত।

ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বলার কারণে সমালোচনার মুখে পড়লেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, শিশুদের বোমার আতঙ্ক ছাড়া বেঁচে থাকার অধিকার চাওয়া ঘৃণার প্রকাশ হতে পারে না। এ ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার নিয়ে তাঁকে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। আল-সাইয়েদের মতে, একইভাবে ফিলিস্তিনের অস্তিত্ব ও ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়েও রাজনীতিকদের প্রশ্ন করা উচিত।

ট্রাম্পের জেতা অঙ্গরাজ্যেই আল-সাইয়েদের জয়
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মিশিগানে জয় পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে অঙ্গরাজ্যটিতে আল-সাইয়েদের মতো ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের একজন মুসলিম প্রার্থীর জয় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-সাইয়েদ শুধু বড় শহরেই প্রচার চালাননি। ছোট শহর, গ্রাম, শিল্পাঞ্চল ও শহরতলিতেও ভোটারদের কাছে গেছেন। মসজিদের পাশাপাশি গির্জায়ও প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রচারের লক্ষ্য ছিল ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে মিশিগানের সব শ্রেণির মানুষের সমর্থন পাওয়া।

আরব-আমেরিকান ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মায়া বেরি তাঁর বিজয়কে ‘বিরাট ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত পরিচয়কেন্দ্রিক নেতিবাচক প্রচারের পরিবর্তে ভোটাররা প্রার্থীর নীতি ও জনকল্যাণমূলক বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

বদলের ইঙ্গিত, নাকি দীর্ঘ পথের শুরু?
ইনডিপেনডেন্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আল-সাইয়েদের জয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনীতিতে নতুন গতি তৈরি করতে পারে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, বৈষম্য কমানো এবং রাজনীতিতে বড় অর্থদাতাদের প্রভাব সীমিত করার মতো বিষয়গুলো তাঁর রাজনৈতিক এজেন্ডার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে একজন সিনেটরের বিজয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক নীতি বা রাজনৈতিক কাঠামো রাতারাতি বদলে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। দেশটির পররাষ্ট্রনীতি, ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা কিংবা অভ্যন্তরীণ বৈষম্যের মতো জটিল বিষয়ে পরিবর্তন আনতে দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে।

সব মিলিয়ে আল-সাইয়েদের জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম ও আরব-আমেরিকান প্রতিনিধিত্বের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। একই সঙ্গে এটি নির্বাচনী প্রচারে অর্থের প্রভাব, ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক আক্রমণ এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে মার্কিন ভোটারদের অবস্থান নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। মিশিগানের এই জয় তাই শুধু একজন রাজনীতিকের সাফল্যের গল্প নয়; বরং মার্কিন রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব ও পরিবর্তনের সম্ভাবনা কতটা বিস্তৃত হতে পারে, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।

কালের আলো/এসএ/জেএন

Link copied!