ব্যাংকিং কেলেঙ্কারির জেরে অভিশংসিত হয়ে সান্তিয়াগো পেনার ক্ষমতাচ্যুতির পর প্যারাগুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন পেদ্রো আলিয়ানা। গতকাল শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ৫২ বছর বয়সী আলিয়ানা শপথ গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি লাতিন আমেরিকার দেশটির ৫৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিলেন।
আলিয়ানার শপথ গ্রহণের দিনই প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেনার অধ্যায়ের অবসান ঘটে। উয়েনো ব্যাংকের আকস্মিক পতন ও এর সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে দ্রুত তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। প্যারাগুয়ের ৪৫ সদস্যের সিনেটের মধ্যে ৪৪ জন সদস্য পেনাকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেন। একজন ভোটদানে বিরত থাকেন।
ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে জড়ায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়
দেশটির প্রভাবশালী ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান উয়েনো ব্যাংকের পতনকে কেন্দ্র করেই এ সংকটের সূত্রপাত। ব্যাংকটির কার্যক্রমে সরকারি সংস্থাগুলোর যথাযথ নজরদারি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির সঙ্গে পেনার ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত ছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
অভিশংসনের পর আস্থার অপব্যবহারসহ কয়েকটি অপরাধের সন্দেহে পেনাকে গৃহবন্দী রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা।
ক্ষমতা ছাড়ার পর শুক্রবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পেনা লেখেন, ‘আমি কৃতজ্ঞতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। যাঁরা এখনো উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন, তাঁদের কষ্টের বিষয়টি আমি পুরোপুরি উপলব্ধি করছি।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধানের বিরুদ্ধেও পরোয়ানা
উয়েনো ব্যাংকের ওপর যথাযথ নজরদারি করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিরুদ্ধেও। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধান কার্লোস কারভালোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেন তিনি।
যেভাবে শুরু হয় ব্যাংকিং সংকট
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে এ কেলেঙ্কারির সূত্রপাত হয়। ওই দিন প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, উয়েনো ব্যাংক আইন অনুযায়ী নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতার মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাংকটির ঋণ ও অন্যান্য বিনিয়োগের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত নেই বলেও জানানো হয়।
এরপর ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উয়েনোর অবশিষ্ট সম্পদ অন্য ব্যাংকগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে এ সংকটের কারণে ব্যাংকটির লাখ লাখ গ্রাহক হঠাৎ করেই নিজেদের হিসাবের অর্থ ও পেনশনের টাকা ব্যবহারের সুযোগ হারান।
ঝুঁকিতে লাখো গ্রাহকের আমানত
প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহক নিয়ে উয়েনো ব্যাংক ছিল প্যারাগুয়ের অন্যতম বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান। দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশেরই হিসাব ছিল ব্যাংকটিতে।
ব্যাংকটিতে সাধারণ গ্রাহকদের আমানতের পাশাপাশি পেনশনসহ সরকারের বিভিন্ন তহবিলের অর্থও জমা ছিল। সরকারি পেনশন তহবিলের প্রায় ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার এ ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়েছিল।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ব্যাংকটি দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করে। এরপর থেকে লাখ লাখ গ্রাহক নিজেদের ব্যাংক হিসাবের অর্থ তুলতে পারছেন না। এতে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের পাশাপাশি সরকারি তহবিলের অর্থের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
৪৭ বছর বয়সী সান্তিয়াগো পেনা ২০২৩ সালের আগস্টে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তবে উয়েনো ব্যাংককে ঘিরে তৈরি হওয়া আর্থিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হলো।
কালের আলো/এএএন/জেএন
