Kaler Alo
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬
২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

কালের আলো রিপোর্ট

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

শিশুদের শিখন ঘাটতি পূরণে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের কর্মসূচি

কালের আলো রিপোর্ট

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

শিশুদের শিখন ঘাটতি পূরণে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের কর্মসূচি

প্রাথমিক স্তরে শিশুদের শেখার দুর্বলতা কাটিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে বাংলাদেশকে ৩০ কোটি (৩০০ মিলিয়ন) ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর শিক্ষার মান উন্নয়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। বিশেষ করে পড়া, লেখা ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া হবে বিশেষ কর্মসূচি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাকসেলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ কর্মসূচির আওতায় এ অর্থায়নের অনুমোদন দেয়। বাংলাদেশের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে এ ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

  • উপকৃত হবে ২ কোটি ৬০ লাখ শিশু
     
  • উপকৃত হবে ২ কোটি ৬০ লাখ শিশু
     
  • পিছিয়ে পড়াদের জন্য থাকছে বাড়তি পাঠদান

বিশ্বব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অর্থায়নের আওতায় শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিখন ঘাটতিতে পিছিয়ে শিশুরা 
দেশে প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের অংশগ্রহণ প্রায় সর্বজনীন পর্যায়ে পৌঁছালেও শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। বিশেষ করে বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পড়ার দক্ষতা অর্জনে অনেক শিশু পিছিয়ে রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বাংলাদেশের ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় অর্ধেকই একটি সাধারণ লেখা পড়ে তার অর্থ বুঝতে পারে না। একই সূচকে মালয়েশিয়ায় এ হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ বাড়লেও শিশুদের প্রকৃত শিখন অর্জনে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো দক্ষ জনশক্তি তৈরির ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে। গত দুই দশকে বাংলাদেশে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ বাড়াতে বিশ্বব্যাংক কাজ করেছে। নতুন অর্থায়নের লক্ষ্য হচ্ছে, শিশুরা যেন শ্রেণিকক্ষে শুধু উপস্থিত না থেকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতাও অর্জন করতে পারে।

শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও বিশেষ পাঠদান
নতুন কর্মসূচিতে শিশুদের পড়া, লেখা ও গণিত শেখানোর জন্য বিশেষ শিক্ষা প্যাকেজ চালু করা হবে। এর মধ্যে থাকবে পাঠদানের উপকরণ, নির্দিষ্ট পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকে আরও ফলপ্রসূ করতে শিক্ষকদের হাতে ব্যবহারিক শিক্ষা উপকরণও তুলে দেওয়া হবে।

পাশাপাশি দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রধান শিক্ষককে নেতৃত্ব, বিদ্যালয় পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দক্ষতা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

যেসব শিক্ষার্থী স্বাভাবিক পাঠক্রমের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না, তাদের জন্য থাকবে অতিরিক্ত পাঠদান ও প্রতিকারমূলক শিক্ষা কার্যক্রম। বিশেষ করে যেসব জেলার শিক্ষার্থীরা শিখন দক্ষতায় তুলনামূলক বেশি পিছিয়ে, সেসব এলাকায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও কর্মসূচির দলনেতা তাসমিনা রহমান বলেন, ভবিষ্যতে ভালো কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের প্রথম শর্ত হলো শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করা। কোনো শিশু যাতে শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই কর্মসূচিতে বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়ানো, অর্থ ব্যয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানেও গুরুত্ব
প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার মান উন্নয়নেও অর্থ ব্যয় করা হবে। এতে বিদ্যালয়ে প্রবেশের আগেই শিশুদের শেখার প্রস্তুতি, ভাষাগত দক্ষতা এবং প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ বাড়বে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও বেসরকারি, এনজিও পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসা মিলিয়ে বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে ২ কোটির বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এই বিশাল শিক্ষার্থী জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই কর্মসূচিটির অন্যতম লক্ষ্য।

এ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ লাখ ৪৩ হাজার নতুন ও তুলনামূলক ভালো বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করছে বিশ্বব্যাংক।

২৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে ঋণ
বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে এ অর্থায়ন দেওয়া হচ্ছে। স্বল্প আয়ের দেশগুলোর উন্নয়ন কার্যক্রমে সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদান দিয়ে থাকে সংস্থাটি। অনুমোদিত ঋণের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর ঋণ পরিশোধে অবকাশ সুবিধা থাকবে।

শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিশুদের প্রকৃত শিখন দক্ষতা নিশ্চিত করাই এখন বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাংকের নতুন এ অর্থায়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সহায়তা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে কর্মসূচিটির সাফল্য।

কালের আলো/আরআই/এমকে 

Link copied!