সকালে বাবা-মায়ের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা, এরপর ইতিহাসের মঞ্চে জাতীয় ঐক্যের অঙ্গীকার। দুপুরে ৪০ হাজার গ্রাম পুলিশের সামনে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ঘোষণা। বক্তব্য দিতে গিয়ে জোহরের আজান শুনে ছয় মিনিট নীরব অপেক্ষা। আর বিকেলে লাখো মানুষের স্রোতে মিশে প্রায় সাত কিলোমিটার পদযাত্রা। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে এভাবেই ইতিহাস, রাজনীতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও তৃণমূলের প্রত্যাশাকে এক সুতোয় গেঁথে দিনভর কর্মসূচি পালন করলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
- জিয়া উদ্যানে বাবা-মায়ের সমাধিতে শ্রদ্ধা ও দোয়া, সকালে আর্মি স্টেডিয়ামে ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণের আহ্বান
- জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ, ৭ নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ‘ম্যাগনা কার্টা’ আখ্যা
- সাধারণ গ্রাম পুলিশের বেতন ৭ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার ৫০০, প্রধানের ৮ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকা করার ঘোষণা
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিতে তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার ও জাতীয় ঐক্য। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেওয়া বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা, জনগণের অধিকার রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার আহ্বান। ৭ নভেম্বরের কর্মসূচিতে রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি তৃণমূল, সামাজিক সম্প্রীতি ও নাগরিক অধিকারের বিষয়গুলোকে সামনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বিশেষ প্রদর্শনীতে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘ভবিষ্যতে আর কেউ যেন জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, এটিই হোক আমাদের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার।’ তিনি বলেন, ‘এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও ভৌগলিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে আমাদের ৭ নভেম্বরের মতো সিপাহী জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে প্রাণে ধারণ করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর দিনের কর্মসূচির শুরু সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে। সেখানে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। তাঁরা তাঁর বাবা ও মা। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তাঁদের কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন সরকারপ্রধান। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন তারেক রহমান। সেখানে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, যতবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, যতবার বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।
১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করেছিল। সেই চক্রান্তের পথ ধরেই ২ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। স্বাধীনতার ঘোষককে কারাবন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে চক্রান্ত শুরু হয়েছিল, সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা রুখে দিয়েছিল। এ কারণেই দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর।

৭ নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ‘ম্যাগনা কার্টা’ আখ্যা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার একটাই গর্বিত পরিচয়, আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছিল। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ততদিন প্রাসঙ্গিক থাকবে। ৭ নভেম্বরের নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর তিনি যেভাবে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, ১৯৭১ সালেও একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য রণাঙ্গনে সম্মুখ সমরে লড়াই করেছেন। তারুণ্যের জাতীয়তাবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যে দেশের তারুণ্য জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সেই দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় বাংলাদেশের তরুণেরা প্রমাণ করেছেন, দেশের স্বার্থের প্রশ্নে তাঁরা কখনো আপস করেননি।
৪০ হাজার গ্রাম পুলিশের জন্য নতুন ঘোষণা
সকালের রাজনৈতিক বক্তব্যের পর দুপুরে তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ৪০ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে তাঁদের বেতন-ভাতা, অবসরকালীন আনুতোষিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। জানান, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকেই এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানদের বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ গ্রাম পুলিশের অবসরকালীন আনুতোষিক ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করার ঘোষণা দেন তিনি।

এ ছাড়া যাতায়াত ভাতা বাড়ানো ও মোবাইল ভাতা চালুর ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে দুজন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হবে। নারী গ্রাম পুলিশের মাতৃত্বকালীন ছুটি করা হয়েছে ছয় মাস। প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়কের নাম ‘গ্রাম পুলিশ সড়ক’ করার ঘোষণা দেন তারেক রহমান। গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পাঁচ বছর পরপর একটি করে বাইসাইকেল দেওয়ার বর্তমান সময়সীমা কমিয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন বছর করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
গ্রাম পুলিশের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূল পর্যায়ে কোথায় কী ঘটছে, কারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে কিংবা কোথাও পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে দায়িত্ব পালনের সুবাদে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা আগেভাগেই কিছু তথ্য জানতে পারেন। এসব তথ্য যথাসময়ে স্থানীয় প্রশাসন ও বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়ন নিরাপদ থাকলে বাংলাদেশও নিরাপদ থাকবে।’ তৃণমূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি বজায় থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব পুরো দেশেই পড়বে। শহরায়ন ও নগরায়ন বাড়লেও দেশের অধিকাংশ মানুষের শিকড় এখনো গ্রামকেন্দ্রিক। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গ্রামীণ জীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা জরুরি।
সামাজিক সম্প্রীতি ফেরাতে গ্রাম পুলিশের ভূমিকা চান
গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশে সামাজিক অবক্ষয় ও প্রতিহিংসার রাজনীতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শুধু রাজনৈতিক ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, রাষ্ট্র ও সমাজেও ব্যাপক সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, পরিকল্পিতভাবে হীনস্বার্থ ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব উসকে দিয়ে দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মূল্যবোধ বিনষ্ট করা হয়েছিল। এমনকি বিভিন্ন জায়গায় পরিবারে পরিবারেও বিরোধ ও বিবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তৃণমূল পর্যায়েও প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়নে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। সমাজে এসব মূল্যবোধ পুনর্জীবিত হলে সামাজিক অপরাধের মাত্রা অনেকাংশে কমে আসবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে গ্রাম পুলিশের কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।’ স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গ্রাম পুলিশকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আজান শুনে ছয় মিনিট নীরবতা
গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে ঘটে আরেকটি আলোচিত ঘটনা। অনুষ্ঠানে আট বিভাগের শ্রেষ্ঠ আটজন গ্রাম পুলিশ সদস্যের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন তিনি। এরপর বক্তব্য দিতে ডায়াসে যান তারেক রহমান। উপস্থিত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানানোর পর বক্তব্য শুরু করতে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই কাছের একটি মসজিদ থেকে ভেসে আসে জোহরের আজান। ঘড়িতে দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিট। আজানের প্রতি সম্মান জানিয়ে বক্তব্য শুরু না করে ডায়াসে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ছয় মিনিট পর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে আজান শেষ হলে বক্তব্য শুরু করেন তিনি।
নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সাত কিলোমিটারের পদযাত্রা
দিনের শেষ কর্মসূচিতে বিকেল ৩টার পর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র্যালিতে নেতৃত্ব দেন তারেক রহমান। প্রায় ২১ বছর পর কোনো র্যালিতে অংশ নিলেন তিনি। এর আগে বিকেল পৌনে ৩টা থেকে ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। পৌনে ৩টার দিকে সমাবেশস্থলে পৌঁছালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান।

নয়াপল্টন থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ হেঁটে র্যালিটি শেষ হয় জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণে র্যালিটি জনস্রোতে রূপ নেয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা এবং শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড।
র্যালিটি নয়াপল্টন থেকে কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পাশ দিয়ে হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছায়। র্যালিতে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান ও ফরহাদ হালিম ডোনার।
এ ছাড়া ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেন।
‘ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়া হবে’
র্যালির আগে নয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রতিটি অপতৎপরতার জবাব দেওয়া হবে। ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের মানুষকে কখনো দাবিয়ে রাখা যাবে না।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, লাখো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই দিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়েও দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচারী শক্তির পতন ঘটিয়ে মানুষ তাদের অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বারবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এ দেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ১৯৭১, ৭ নভেম্বর ও ২০২৪ সালের মতো আবারও ষড়যন্ত্রকারীদের অপতৎপরতা রুখে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী এবং জনগণের ভোটাধিকারের পক্ষে থাকা সব রাজনৈতিক দলকে দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কালের আলো/এমএএএমকে
