Kaler Alo
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
২০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

সুবর্ণজয়ন্তীতে আর্টিলারির গৌরবগাথা, আধুনিক যুদ্ধপ্রস্তুতিতে গুরুত্ব সেনাপ্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

সুবর্ণজয়ন্তীতে আর্টিলারির গৌরবগাথা, আধুনিক যুদ্ধপ্রস্তুতিতে গুরুত্ব সেনাপ্রধানের

ইতিহাসের গৌরব, সহযোদ্ধাদের আত্মিক বন্ধন আর ভবিষ্যতের আধুনিক সমরপ্রস্তুতির প্রত্যয়ে মুখর হয়ে উঠেছিল চট্টগ্রামের হালিশহর। তিন দিনের বর্ণাঢ্য আয়োজনে এক সুতোয় মিলেছিল আর্টিলারি রেজিমেন্টের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। ৪৫তম বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন, ষষ্ঠ পুনর্মিলনী, ১১তম কর্নেল কমান্ড্যান্ট অভিষেক এবং আর্টিলারি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন পরিণত হয় এক ঐতিহাসিক মিলনমেলায়। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পর্যন্ত হালিশহরের আর্টিলারি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এসব অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

  • হালিশহরে সেনাপ্রধানের উপস্থিতিতে অধিনায়ক সম্মেলন, পুনর্মিলনী ও সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন
  • রেজিমেন্টের ১১তম কর্নেল কমান্ড্যান্ট হলেন মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী

অনন্য এই আয়োজনে, অধিনায়ক সম্মেলনে পরিবর্তিত যুদ্ধপরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ আভিযানিক সক্ষমতা অর্জন—আর্টিলারি রেজিমেন্টের আগামীর পথচলায় এসব বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। পেশাগত উৎকর্ষতা বজায় রেখে সর্বদা প্রস্তুত থাকার এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে সেনাপ্রধান তুলে ধরেছেন একটি আধুনিক ও সক্ষম রেজিমেন্ট গড়ে তোলার প্রত্যয়।

এ ছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সেনাপ্রধান। একই সঙ্গে আর্টিলারি রেজিমেন্টের গৌরবোজ্জ্বল অবদানের কথা স্মরণ তিনি। সময়ের বিবর্তনে যুদ্ধের কৌশল, প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতায় আসা পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রেজিমেন্টকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও দক্ষ ও সক্ষম করে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

প্রজন্মের মিলনে ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ
সম্মেলন শেষে আর্টিলারি রেজিমেন্টের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন সেনাপ্রধান। উপভোগ করেন মনোমুগ্ধকর পুনর্মিলনী কুচকাওয়াজ। এই আয়োজনে একই পতাকাতলে মিলিত হন রেজিমেন্টের প্রাক্তন ও বর্তমান সদস্যরা। সময়ের ব্যবধান পেরিয়ে সহযোদ্ধাদের এই মিলন যেন নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয় পারস্পরিক ঐক্য ও সৌহার্দ্যের বন্ধন। সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে সেনাবাহিনী প্রধান রেজিমেন্টের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এদিকে, আর্টিলারি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন আয়োজনে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। পাঁচ দশকের পথচলায় আর্টিলারি সদস্যদের দক্ষতা, পেশাগত উৎকর্ষতা ও আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটির অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সেনাপ্রধান। এই দীর্ঘ পথচলায় সংশ্লিষ্ট সকলের অবদানও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করা হয়।

নতুন কর্নেল কমান্ড্যান্টের অভিষেক
তিন দিনের আয়োজনের সূচনা পর্বেই মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হয় আর্টিলারি রেজিমেন্টের ১১তম কর্নেল কমান্ড্যান্ট অভিষেক অনুষ্ঠান। এতে কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। শহীদ মেজর নাজমুল হক প্যারেড গ্রাউন্ডে তাকে প্রদান করা হয় গার্ড অব অনার। পরে আর্টিলারি রেজিমেন্টের জ্যেষ্ঠতম অধিনায়ক ও জ্যেষ্ঠতম মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার তার পরিধানে কর্নেল কমান্ড্যান্টের র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। সামরিক ঐতিহ্য ও মর্যাদার আবহে অনুষ্ঠিত এ অভিষেক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রেজিমেন্টের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় যুক্ত হয় নতুন অধ্যায়।

ঐতিহ্যের শিকড়, ভবিষ্যতের প্রস্তুতি
তিন দিনের আয়োজন কেবল আনুষ্ঠানিকতা কিংবা উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি ছিল একটি রেজিমেন্টের গৌরবময় ইতিহাসকে স্মরণ, প্রজন্মের বন্ধনকে আরও দৃঢ় এবং পরিবর্তিত বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভবিষ্যতের সক্ষমতা নির্মাণের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার উপলক্ষ। পাঁচ দশকের প্রশিক্ষণ-ঐতিহ্য আর দীর্ঘ সামরিক পথচলার অভিজ্ঞতাকে ধারণ করে আধুনিক ও পেশাদার বাহিনী গঠনের অভিযাত্রায় নতুন প্রত্যয়ের বার্তা দিয়েছে আর্টিলারি রেজিমেন্টের এই আয়োজন।

অনুষ্ঠানে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল খন্দকার মোহাম্মদ শাহিদুল এমরান, সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসাইন আল মোরশেদ, কর্নেল কমান্ড্যান্ট ও বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসান সেলিম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আর্টিলারি রেজিমেন্টে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


কালের আলো/এমএএএমকে

Link copied!