Kaler Alo
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১১:২৬ এএম

বুকসমান পানি পেরিয়ে স্কুলে যায় শিশুরা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১১:২৬ এএম

বুকসমান পানি পেরিয়ে স্কুলে যায় শিশুরা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বারোমাসিয়া নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোর অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই পাড়ের অন্তত আট গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। প্রায় দুই থেকে তিন মাস ধরে সাঁকোটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে বুকসমান পানি পেরিয়ে কিংবা সাঁতরে নদী পার হচ্ছেন স্থানীয়রা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা।

৩০০ ফুট সাঁকোর ১৫০ ফুটই ভাঙা

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বারোমাসিয়া নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোটির দক্ষিণ পাশের মাঝামাঝি প্রায় ১৫০ ফুট অংশ ভেঙে গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে সাঁকো দিয়ে চলাচলের সুযোগ নেই। কেউ বুকসমান পানিতে হেঁটে, কেউ সাঁতরে নদী পার হচ্ছেন। আবার কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় চার দশক ধরে এই নদী পারাপারে ডিঙি ও মাঝারি আকারের নৌকা ব্যবহার করা হতো। করিমের ঘাট ও নবিউলের ঘাট নামে পরিচিত স্থানে ইজারাদারের মাধ্যমে নৌকায় পারাপার হতেন দুই পাড়ের মানুষ। পরে নদীর প্রশস্ততা কমে এলে স্থানীয় উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। প্রায় দেড় যুগ ধরে এই সাঁকোই হাজারো মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা।

দুই মাসেও হয়নি সংস্কার

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগে স্থানীয় উদ্যোগে সাঁকোটি মেরামত করা হতো। তবে দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় বাঁশের পাটাতন ও কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। দুই থেকে তিন মাস আগে সাঁকোটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেলে শুরু হয় মানুষের দুর্ভোগ।

সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী, চরগোরকমন্ডল, ঝাউকুটি, পশ্চিম ফুলমতি, নাওডাঙ্গা ও শিমুলবাড়ী এলাকার হকবাজারসহ লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চরখারুয়া ও খারুয়া গ্রামের বাসিন্দারা বিপাকে পড়েছেন।

শিক্ষার্থী ও কৃষকদের ভোগান্তি

সাঁকো দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বাজারে যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিনতি রানীকে মাথায় বাদামের বোঝা নিয়ে বুকসমান পানি মাড়িয়ে নদী পার হতে দেখা যায়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘খালি ছবি তোলেন বাহে। দুই-তিন মাস ধরে এত কষ্ট করে নদী পারাপার হচ্ছি, কিন্তু কেউ আমাদের খোঁজ নিতে আসেননি। ছেলেমেয়েদেরও অনেক কষ্ট করে নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। আমরা আর এই দুর্ভোগ সহ্য করতে পারছি না। দ্রুত সাঁকোটি মেরামত করা হোক।’

স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী আকাশ মাহমুদ ও কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, এই পথ দিয়ে প্রতিদিন এলাকার হাজারো মানুষ নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালারহাট বাজারে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি দেড় থেকে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বালারহাট আদর্শ স্কুল, বিভিন্ন মাদ্রাসা ও ফুলবাড়ী কলেজে পড়াশোনা করে। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় তাদের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।

বিকল্প পথ না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

বিদ্যালয় ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা জানায়, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে তাদের চরম কষ্ট হচ্ছে। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় কখনো সাঁতরে, আবার কখনো ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সাঁকো পার হতে হচ্ছে। পারাপারের সময় অনেকে পড়ে গিয়ে আহতও হয়েছেন। দ্রুত সাঁকোটি মেরামতের দাবি জানিয়েছে তারা।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় মৎস্য খামারি আতাউর রহমান রতন বলেন, বারোমাসিয়া নদীর ওপর এই সাঁকোটি দুই পাড়ের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। দুই থেকে তিন মাস আগে এটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে। দ্রুত সাঁকোটি মেরামত অথবা টেকসইভাবে নতুন সাঁকো নির্মাণ করা প্রয়োজন।

দ্রুত নির্মাণের আশ্বাস প্রশাসনের

নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী বলেন, ভেঙে যাওয়া সাঁকোটি পুনর্নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। এটি নির্মাণ করা হলে দুই পাড়ের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ কমবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হাসান বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেখানে একটি টেকসই বাঁশের সাঁকো নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

Link copied!