Kaler Alo
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬
১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নরসিংদী সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম

আধিপত্যের লড়াইয়ে রক্তাক্ত নরসিংদীর শিল্পাঞ্চল

নরসিংদী সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম

আধিপত্যের লড়াইয়ে রক্তাক্ত নরসিংদীর শিল্পাঞ্চল

নরসিংদী শহরের শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত চৌয়ালা ও শালিধা এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত বাড়ছে। প্রায়ই ঘটছে গোলাগুলি ও অস্ত্রের প্রদর্শন। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় শিল্প মালিক ও ব্যবসায়ীরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও অপরাধীদের তৎপরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বারবার গোলাগুলি
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চৌয়ালার তালতলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে চৌয়ালা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বারেকের ছেলে বিল্লাল হোসেন (৩৮), ওরফে মিশরী বিল্লাল এবং ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমানের ছেলে ইয়াসিন মিয়া (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ দুজনই তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

এর আগে গত ২ অক্টোবর দিনের আলোতে শিল্পাঞ্চলের চৌয়ালা লোকমান হোসেন স্কুলসংলগ্ন এলাকায় সনেট ও আবু লাল গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে সনেট গ্রুপের সক্রিয় সদস্য শহিদুল্লাহ ওরফে বাবু (২৮) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও দুজন গুরুতর আহত হন। নিহত বাবুও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন। তিনি ওই এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে।

সনেট ও আবু লাল গ্রুপের সংঘাত
স্থানীয়দের ভাষ্য, চৌয়ালা ও শালিধা এলাকায় বর্তমানে সনেট ও আবু লাল নামে দুটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো এবং এলাকার আধিপত্য ধরে রাখতে এসব গ্রুপের সদস্যরা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিজেদের শক্তি বাড়াতে তারা অত্যাধুনিক অস্ত্র মজুতের দিকেও ঝুঁকছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এখন শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং পুরো শহরজুড়েই এর প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেও গ্রুপগুলোর তৎপরতা চলছে। এতে শিল্প মালিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সনেট ও আবু লাল—দুই গ্রুপের সদস্যরাই পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। এর আগে একাধিকবার তারা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘাতে জড়ান।

মানববন্ধনের পর সংঘর্ষ, প্রাণ গেল একজনের
সূত্রের দাবি, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এর আগেও দুই গ্রুপের সদস্যরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। কয়েকবার ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।

একপর্যায়ে সনেটকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করতে আবু লাল গ্রুপের সদস্যরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়। এর জের ধরে গত ২ অক্টোবর সনেট গ্রুপের সদস্যরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবু লালের ওপর হামলা চালান। পাল্টা গুলি চালান আবু লালও। ওই সংঘর্ষেই সনেট গ্রুপের সদস্য শহিদুল্লাহ ওরফে বাবু নিহত হন। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত শুক্রবার তালতলা এলাকায় আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে দুই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। ধারাবাহিক এসব সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আতঙ্কে শিল্প মালিক ও সাধারণ মানুষ
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিল্পাঞ্চল ঘিরে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। তবে সন্ত্রাসীদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। বর্তমানে চৌয়ালা-শালিধা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময় দুই গ্রুপের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকায় সংঘাতের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন মালিকরাও। স্থানীয়দের মতে, এভাবে অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলি চলতে থাকলে শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।

অস্ত্র উদ্ধার ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমান জানান, শুক্রবারের গোলাগুলিতে আহত বিল্লাল ও ইয়াসিন আবু লাল গ্রুপের সদস্য। এ ঘটনায় কাউসার নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া আবু লাল গ্রুপের সদস্য সাইফুলকেও আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান চলছে। দুই গ্রুপের প্রধানদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, জেলায় অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত জেলা গড়ে তুলতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

Link copied!